রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯

হে মুসলিম জাতি! আমরা কোন কলেমা পড়েছি? আমরা কোন মুসলিম হয়েছি? লেখক, আল্লাহর পথের এক নগন্য

          بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيم

হে মুসলিম জাতি!
আমরা কোন কলেমা পড়েছি?
আমরা কোন মুসলিম হয়েছি?
লেখক, আল্লাহর পথের এক নগন্য খাদেম।

   ভূমিকা
إنِ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
آعوذ باللله من السيطن الزجيم            
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ

وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
             
আলহামদুলিল্লাহ, ভূমিকার শুরতে সেই মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে যাবতীর প্রশংসা সমস্ত ছিপ্তসানা সমস্ত গুণ গান, যিনি আমাকে,
হে মুসলিম জাতি!
আমরা কোন কলেমা পড়েছি?
আমরা কোন মুসলিম হয়েছি?
কলেমা কাকে বলে?
কলেমার  প্রকৃত অর্থ কি?
 এই বইটি লেখার মেধা সাহস শক্তি বুদ্ধি ক্ষমতা দান করেছেন, তাই তার দরবারে হাজারো লাখো কোটি শুকরিয়া জ্ঞাপন করতেছি।
তার ইচ্ছা না থাকিলে, তার অনুগ্রহ না থাকিলে, তার রহমত না থাকিলে, তার ভালোবাসা না থাকিলে,  আমি কিছুতেই তা লেখতে পারতাম না, এরপরেও যদি কিছু লেখা ভুল হয়ে থাকে তা আমার নফসের পক্ষ থেকে, এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যে লেখা গুলো ভালো হয়েছে তা আমার আল্লাহর পক্ষ থেকে, কারণ আল্লাহ পবিত্র তাই আল্লাহ  মানুষকে ভালো কিছু  চিন্তা করার, ভালো কিছু গবেষণা করার, ভালো কিছু বলার, ভালো কিছু লেখার, ক্ষমতা দান করেন।
আর শয়তান অপবিত্র তাই শয়তান মানুষকে খারাপ কিছু  চিন্তা করার, খারাপ  কিছু গবেষণা করার, খারাপ  কিছু বলার, খারাপ কিছু লেখার, চিন্তা ভাবনা অন্তরে সৃষ্টি করে দেন, তাই সকল ভালো কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর সকল খারাপ কাজ শয়তানের পক্ষ থেকে, কারণ শয়তানে কাজেই হলো মানুষকে খারাপ পথে পরিচালিতো করা, তাই তার দ্বারাই খারাপ কিছু ঘটে।
অতঃপর লাখো কোটি দরুদ পেশ করি সেই রাসূলের শানে যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে শত যুলুম নির্যাতনে স্বীকার হয়েছিলো, শত রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো, শত তিরিস্কারের পাত্র হয়েছিলো, এমনকি নিজে ২৭টি যুদ্ধের সেনাপতি নিযুক্ত হয়ে, নিজের দান্দাদ মোবারক শহীদ করে, ইসলামের শত্রুদের বিরদ্ধে আমারণ যুদ্ধ করে, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের মহব্বতে আমরা সকলেই সংক্ষিপ্ত আকারে দরুদ পেশ করি আমরা সকলেই বলি।
আল্লাহুমা সাল্লি আলা।
আল্লাহুমা বারিক আলা।
আজকে আমার এখানে লেখার বিষয় হলো।
আমরা কোন কলেমা পড়েছি?
আমরা কোন মুসলিম হয়েছি?
কলেমা কাকে বলে?
কলেমার  প্রকৃত অর্থ কি?
কলেমা হচ্ছে,
  লা ইলাহা ইল্লাহু।
এই হচ্ছে কলেমার প্রথম অংশ।
আর দ্বীত্বয় অংশ হচ্ছে,
অ-আন্না মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
কেউ যদি মুসলিম হতে চায়, তাহলে তাকে এই কলেমা পড়ে এবং এই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি ওয়াদা দিয়ে, এবং তা স্বশব্দে মুখে উছারণ করে তাকে মুসলিম হতে হবে।
কেউ যদি এই কলেমা উচ্ছারণ না করে, এই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা প্রদান না করে, তাহলে সে আর অন্য কােন উপায়ে মুসলিম হতে পারবেনা।
এবার আমরা জেনে নেই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা কি?
এবং প্রকৃত কলেমার অর্থ কি?
এবং প্রকৃত কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা গুলাে কি ?
কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা গুলাে হলাে, আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ ও রব তার সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব, ও তার উলুহিয়্যাত্ব রুববিয়্যাত্ব দাসত্ব স্বীকার করে নেওয়া, তার নামের সিফাত তথা তার গুণ ক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়া, এবং সেই মতে সেই পথে চলাটাই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা।
আরও ভালাে ভাবে জেনে নেই, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা গুলো কি?
 যেমন, ইলাহ, রব, রবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত, আসমা অ-সিফাত।
যেমন রুববিয়্যাতের সাক্ষ্য এই।
সেই একমাত্র আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবন ও মরণ-দাতা, পালনকর্তা, সেই একমাত্র গাছপালা বৃষ্টি বর্ষণের উদয়কর্তা, সেই একমাত্র আল্লাহ সকল প্রকার আইনদাতা, বিধানদাতা, সংবিধানদাতা, শাষনকর্তা, এবং পৃথিবী ও আকাশের সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব  ক্ষমতার আধিপত্য, সেই একমাত্র আল্লাহকে স্বীকার করে নেওয়া, কােন দেশের নেতা নেত্রীকে নয়, কােন দেশের জনগনকে নয়, দেশের জনগন কখনই জনগনের বিধানকর্তা হতে পারে না, এবং দেশের জনগন বা দেশের কােন প্রধান ব্যক্তি, বা দেশের নেতা নেত্রী দেশ চালানাের জন্য, দেশের সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেনা, এ বিশ্বাস অন্তরে রাখা, এই হলাে রুববিয়্যাতের সাক্ষ্য, রুববিয়্যাতের  দিক নির্দেশনা, এই গুলি মেনে চলা, এবং তা পালন করা,   এবং তা সমাজে রাষ্ট্রে পরিবারে, বাস্তবায়নের জন্য সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়ার নামেই হলাে রুববিয়্যাতের সাক্ষ্য।

উলুহিয়্যাতের সাক্ষ্য হচ্ছে এই।
সকল প্রকার ইবাদত শুধুমাত্র সেই আল্লাহর জন্য করা, যেমন নামাজ, রােজা, হজ্জ, যাকাত, জিহাদ, পর্দা এ সকল ইবাদত শুধুমাত্র তার জন্য করা, কােন দেব দেবীর জন্য নয়, কােন  পীরের জন্য নয়, কােন গাছ পাথর মানুষ মূত্তি ভাস্করের জন্য নয়, কােন মাযারের জন্য নয়, এমনকি কােন নবী রাসুলের জন্য নয়, সব কিছু সেই ইলাহ, রব, আল্লাহর জন্য করা, এই হচ্ছে উলুহিয়্যাতের সাক্ষ্য, উলুহিয়্যাতের দিক নির্দেশনা, এই গুলি মেনে চলা, এবং তা পালন করা, এবং তা সমাজে রাষ্ট্রে পরিবারে  বাস্তবায়নের জন্য সাক্ষ্য স্বীকৃতি  ওয়াদা দেওয়ার নামেই হলাে উলুহিয়্যাতের সাক্ষ্য৷
আসমা অ-সিফাতের সাক্ষ্য হচ্ছে এই৷
ইলাহ ও রব তথা আল্লাহর অনেক গুন বাচক  নাম আছে, বিভিন্ন নামের বিভিন্ন ক্ষমতা আছে, বিভিন্ন গুন আছে, এগুলি বিশ্বাস করা, এবং তা মেনে নিয়ে জীবন পরিচালনা করা, এই হচ্ছে আসমা অ-সিফাতের সাক্ষ্য তা আমাদের পালন করা।

 ইলাহ, এর সাক্ষ্য হচ্ছে এই৷
তিনি ছাড়া আর কেহ ইলাহ (মাবুদ) নেই,  তিনি একমাত্র সকল ইবাদতের মালিক, তার সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব দাসত্ব কর্তৃত্ব আনুগত্য, এ গুলি মেনে নেওয়া এই হচ্ছে ইলাহের সাক্ষ্য তা আমাদেরকে পালন করা।

রব, এর সাক্ষ্য হচ্ছে এই ৷
তিনি সকল বিষয়ের মালিক, প্রভু, মনিব, লালন পালনকারী, তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষণাবেক্ষণকারী আদেশদাতা, বিধানদাতা, শাষক বিচারকার্য নির্বাহক, শৃংখলা বিধায়ক, এ গুলি মেনে নেওয়া এই হচ্ছে রবের সাক্ষ্য, তা আমাদেরকে পালন করা।

এবং এর সাথে সাথে আরও  সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিতে হবে হযরত মােহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল, তার অনূসরণ ও অনূকরণ আমাদেরকে করতে হবে, তার আদর্শ চরিত্র আমল আখলাত আমাদের মাঝে রাখতে হবে, সে যেমন ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে শত রক্তাক্ত শত লাঞ্চিত  হয়েছিলাে, সে যেমন ইসলামকে টিকিয়ে রাখার জন্য সূফিগীরি, পীরগীরি, দরবেশ-গীরি, বাদ দিয়ে সে যুদ্ধের পােষাক পরে কাফেরদের বিরদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাে, সেই রাসুল (সাঃ) এর নীতি আদর্শ কর্ম আমাদের মাঝে রাখতে হবে, আমাদেরকে তা পালন করতে হবে।
এই হলাে মুসলিম হওয়ার জন্য, ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করার জন্য, সংক্ষিপ্ত কিছু মুসলিম হওয়ার শর্ত সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা, এই শর্ত সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে মুসলিম হতে হবে, যে ব্যক্তি এই বিষয় গুলির উপর  সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিবেনা, এবং যে এই  সাক্ষ্য স্বীকৃতি অনুযারী চলবে না, সে ব্যক্তি আর অন্য কোন উপায়ে মুসলিম হতে পারবেনা৷
 কারণ? মুসলিম হওয়ার প্রধান  শর্ত হলাে, উপরের বর্ণিত বিষয় গুলির প্রতি সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়া, তা মেনে চলা, তা পালন করা, তা প্রচার করা, এবং তা সর্বশক্তি দিয়ে  রাষ্ট্র সমাজে পরিবারে বাস্তবায়ন করা, আবার এই প্রচার, প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি  কােন বাধা বিপদ আসে, কােন প্রকার জুলুম নির্যাতন ঘাত প্রতিঘাত আসে, তা সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দেওয়া, প্রতিহত করা, প্রযােজনে জান মাল দুটোই দিয়ে সেই বাধার বিরদ্ধে সংগ্রাম করা, প্রয়ােজনে জিহাদ বা সস্বস্ত্র  যুদ্ধের মাধ্যমে সেই বাধাকে নিঃশ্বেষ করে দেওয়া।
(এখানে এ কথার উপর ভিত্তি করে, কেউ যেন এমন না করে, তাড়াহুড়া করে একটি রাইফেল কিনে, অথবা তরবারী দিয়ে, কিছু রাষ্ট্রীয় প্রধান ব্যক্তিদেরকে কাফের, মুশরিক, আল্লাহদ্রােহী, তাগুত, জালেম, ফাসেক, মোনাফিক ঘোষণা দিয়ে, তাদেরকে হত্যা করে বলে আমি ইসলামের জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আমি ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আমি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আসলে এর নাম কখনো জিহাদ নয়, এর নাম হলো সন্ত্রাস, ইসলামে জিহাদ আর সন্ত্রাস এক নয়, ইসলামে জিহাদ কারী ব্যক্তিদের জন্য আছে সর্ব শ্রেষ্ঠ জান্নাত, আর ইসলামে সন্ত্রাস কারী ব্যক্তিদের জন্য আছে সর্ব নিকৃষ্টতম  জাহান্নাম, তাই ইসলামে জিহাদ মানে এমন নয়, দু চার জন আল্লাহদ্রোহী তাগুত মুরতাদ কাফেরদেরকে হত্যা করে দিলে জিহাদ হয়ে গেলো, কিছু বোমা অফিস আদালতে রাস্তাঘাটে ফাটিয়ে দিলে, মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে দিলে জিহাদ হয়ে গেলো, এগুলি কখনো ইসলামিক জিহাদ নয়, ইসলামে জিহাদের কিছু সঃজ্ঞা আছে, কিছু ধারা আছে, সে ধারা মতো জিহাদ না হলে, তা হবে সন্ত্রাস।
তাই ইসলামিক জিহাদের ধারা গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।
১, সর্ব প্রথম আমীর নির্বাচন করতে হবে।
২, আমীরের আনুগত্য সকলকে মান্য করতে হবে।
৩, আমীরের আদেশ নিষেধ  সকলকে মান্য করতে হবে।
৪, তাদের জন্য একটি  নিদিষ্ট শহর  বা দেশ দখলে থাকতে হবে, এবং সেই শহরের লোক গুলো যেন সেই আমীরের আনুগত্য মেনে নেয়, এবং শত্রু পক্ষরা  হামলা করলে তারা যেন তাদের প্রতিবাদ করতে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, এমন পরিবেশ সেই শহরের লোকদের  মাঝে তৈরি করে নিতে হবে।
৫, সেই শহরের লোকদেরকে (রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের সাহাবী আনসারদের মতো) তৈরি করে নিতে হবে।
৬, আমীর সাহেব তাদের দলের কার্যক্রমের ঘোষণা স্পষ্ট ভাবে  সমাজে  দিবে।
৭, আমীর সাহেব যুদ্ধ কার সাথে করবে সে ঘোষণা স্পষ্ট ভাবে  প্রকাশ্যে সমাজে দিবে।
৮, আমীর সাহেব যুদ্ধ কি কারণে করবে সে ঘোষণা স্পষ্ট  ভাবে  প্রকাশ্যে সমাজে দিবে।
৯, আমীর সাহেব তাদের দলের যুদ্ধের ঘোষণা  স্পষ্ট ভাবে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র গুলোকে জানাবে, এবং তারা যুদ্ধ  কি কারণে করবে, এবং তা কার সাথে করবে, সে বিষয়ও স্পষ্ট ভাবে জানাবে।
১০, তাদের জন্য যুদ্ধের টেনিং সমাজে প্রকাশ্য ভাবে ব্যবস্থা থাকতে হবে, তবে তারা গুরত্ব পূর্ণ টেনিং গোপনে নিতে পারবে।
১১, তাদের শহরের লোকদের নিরাপত্তার জন্য একদল মুজাহিদ সর্বদাই পাহাড়া রত থাকতে হবে, যাতে শত্রু বাহিনীরা তাদের শহরে প্রবেশ করা মাত্রই তাদের উপর হামলা চালাতে পারে।
১২, তাদের দলের নিরাপত্তার জন্য একদল মুজাহিদ সর্বদাই গোয়েন্দা গিরিতে থাকতে হবে, (নিজ দেশে এবং শত্রুর দেশে ) যাতে দেশীয় মোনাফিক গোষ্ঠীরা, এবং বহিরাগত শত্রু বাহিনীরা, তাদের প্রতি এক যোগে  আক্রমণ চালাতে  না পারে।
১৩, প্রতিটি শহরে এবং গ্রামে তাদের সমর্থনে একটি দল বা একটি ক্লাব থাকতে হবে।
১৪, অন্য শহর থেকে বা গ্রাম  হিজরত করে আসা মুসলিম ভাইদেরকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
১৫, যুদ্ধ শুরু করার আগে যুদ্ধের টেনিং পরিপূর্ণ ভাবে থাকতে হবে।
১৬, যুদ্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র শস্ত্র গোলা বারুদ মজুদ থাকতে হবে।
১৭, যুদ্ধ শুরু করার আগে নিজ শহরের লোকদের, এবং নিজ দলের মুজাহিদ বাহীনিদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। (অবশ্য সকল নিরাপত্তা দেওয়ার মালিক আল্লাহতাআলা)
১৮, যুদ্ধ শুরু করার আগে নিজ শহরে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুদ রাখতে হবে, যাতে দুর্ভিক্ষের সময়ে সে শহরের লোক গুলি, এবং মুজাহিদ বাহীনি গুলি খাবার গ্রহন করতে পারে। (অবশ্য সকল মানুষের রিযক দেওয়ার মালিক আল্লাহতাআলা)
এগুলি হলো ইসলামিক যুদ্ধ করার জন্য নিয়ম নীতি, এগুলি নিয়ম নীতি  ইসলামিক আমীর সাহেব রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিবে, তবে অবশ্যই  অবশ্যই এগুলি নিয়ম নীতি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে হবে, এ থেকে কারো পিছুপা হওয়া যাবেনা, আর এমন কথা কেহ ভাবতে পারবেনা, এমন নিয়ম নীতি কি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করা সম্ভব? সম্ভব না হলেও তাকে সম্ভব করতে হবে।
কারণ ইসলামিক যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ যার আছে সু-গভীর পরিকল্পনা, যে পরিকল্পনাতে আছে সবার জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করা, সে ভাবে পরিকল্পনা করে ইসলামিক যুদ্ধ করা, আর যদি কেউ এমন নিয়ম নীতি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন না করে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়, তাহলে সেটা ইসলামিক যুদ্ধ হবেনা, এমন যুদ্ধে মুসলিমরাই বেশি আহত নিহত হবে,  মুসলিমরাই  বেশি ফিতনা ফাসাদে নিম্নজিত হবে, মুসলিমরাই বেশি ধ্বংস হবে, মুসলিমরাই পরাজয় বরণ করবে? তাহলে এমন যুদ্ধ করে লাভ কি?
যেমন  সহীহ হাদিসে আছে।
আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যুদ্ধ হল ধোকা।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৭৫

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যুদ্ধ হলো কৌশল।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮৩৪

তাই  যুদ্ধ করার আগে  অবশ্যই অবশ্যই কৌশল করতে হবে, শত্রু পক্ষকে যুদ্ধ ক্ষেতে ধোকা দিতে হবে, যাতে আপনাদের বিজয় হয়, এমন পরিকল্পনা তৈরি  করে, এবং তা সমাজে বাস্তবায়ন করে যুদ্ধের মাঠে নামতে হবে।

আবার আগের আলোচনায় ফিরে যাই আলোচনা  চলছিলো, আমরা কোন কলেমা পড়েছি? আমরা কোন মুসলিম হয়েছি? কলেমা কাকে বলে? কলেমার  প্রকৃত অর্থ কি? এবং প্রকৃত কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা গুলাে কি? যা উপরে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু আলোচনা করা হয়েছে, সেই আলোচনার আলোকে হয়তো এখানে অনেক বিজ্ঞ, জ্ঞানী, গুণী, আলেম, মুফতী, মুহাদ্দেস, শাসক, মন্ত্রী, এমপি, মেম্বার, চেয়ারম্যান, পুলিশ-প্রশাষণ, ও সাধারণ জনগণ আমাকে প্রশ্ন করতে পারে?

(লা ইলাহা ইল্লাহ) আল্লাহ ছাড়া  আর কোন ইলাহ নেই, এ কথা বললেই সে খাটি মুসলিম,  না শুধু বললেই সে  খাটি মুসলিম নয়, (লা ইলাহা ইল্লাহ) এর বাস্তবায়ন করার নাম খাটি মুসলিম, কারন মক্কার মুশরিকরা    (লা ইলাহা ইল্লাহ) আল্লাহকে মেনে নিয়েছিলো, আল্লাহ একজন আছেন তারা বিশ্বাস করেছিলো, আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা রিযিকদাতা জন্ম মৃত্যু দাতা  বৃষ্টি বর্ষণের মালিক তারা বিশ্বাস করেছিলো, তারপরেও তারা মুশরিক ছিলো, কারণ তারা (লা ইলাহা ইল্লাহ)  আল্লাহ একজন আছেন  বিশ্বাস করেছিলো, কিন্তু তারা  (লা ইলাহা ইল্লাহ)  আল্লাহ ছাড়া আর  কোন ইলাহ নেই, এর বাস্তবায়ন করেন নাই, এর কারনে তারা মুশরিক, এর  দলিল আমরা কোরআন থেকে নেই।

যেমন আল্লাহতাআলা সুরা ইউনুসের ৩১ নং আয়াতে বলেছেন।
قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَٰرَ وَمَن يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلْأَمْرَۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ
তুমি বলঃ তিনি কে? যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন হতে রিয্ক পৌঁছিয়ে থাকেন? অথবা তিনি কে? যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের উপর পূর্ণ অধিকার রাখেন? আর তিনি কে, যিনি জীবন্তকে প্রাণহীন হতে বের করেন, আর প্রাণহীনকে জীবন্ত হতে বের করেন? আর তিনি কে যিনি সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন? তখন অবশ্যই তারা বলবেঃ আল্লাহ! অতএব তুমি বলঃ তাহলে কেন তোমরা (শির্‌ক হতে) নিবৃত্ত থাকছনা?

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আনকাবূতের ৬১ নং আয়াতে।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদ-সূর্যকে নিয়ন্ত্রণ করছেন? তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! তাহলে তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আনকাবূতের ৬৩ নং আয়াতে।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَحْيَا بِهِ ٱلْأَرْضَ مِنۢ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۚ قُلِ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ ভূমি মৃত হওয়ার পর আকাশ হতে বারি বর্ষণ করে কে ওকে সঞ্জীবিত করে কে? তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা অনুভব করেনা।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আয-যুখরুফের ৯ নং আয়াতে।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ ٱلْعَزِيزُ ٱلْعَلِيمُ
তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবেঃ এগুলিতো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী,সর্বজ্ঞ আল্লাহ।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আয-যুখরুফের ৮৭ নং আয়াতে।
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে তাহলে তারা অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ! তবুও তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-মুমিনূনের ৮৪ থেকে ৯০ নং আয়াতে।
قُل لِّمَنِ ٱلْأَرْضُ وَمَن فِيهَآ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
قُلْ مَن رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلسَّبْعِ وَرَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ
سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ
قُلْ مَنۢ بِيَدِهِۦ مَلَكُوتُ كُلِّ شَىْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
سَيَقُولُونَ لِلَّهِۚ قُلْ فَأَنَّىٰ تُسْحَرُونَ
بَلْ أَتَيْنَٰهُم بِٱلْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ

জিজ্ঞেস করঃ এই পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জান তো বল?
তারা বলবেঃ আল্লাহর! বলঃ তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেনা?
জিজ্ঞেস করঃ কে সপ্তাকাশের রাব্ব এবং কে’ মহান আরশের রাব্ব?
তারা বলবেঃ আল্লাহ! বলঃ তবুও কি তোমরা আল্লাহভীরু হবেনা?
জিজ্ঞেস করঃ যদি তোমরা জান তাহলে বল সব কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে, কে আশ্রয় দান করেন, যাঁর উপর আশ্রয়দাতা নেই?
তারা বলবেঃ আল্লাহর! বলঃ তবুও তোমরা কেমন করে বিভ্রান্ত হচ্ছ?
বরং আমিতো তাদের নিকট সত্য পৌছিয়েছি; কিন্তু তারা মিথ্যাবাদী।

আবার অনেকে বলতে পারে, হাদীসে আছে যে (লা ইলাহা ইল্লাহ) বললে সে  সত্যিকারে খাটি মুসলিম? না তারা সত্যিকারের খাটি মুসলিম নয়, কারন এ মর্মে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের  অনেক  হাদীস আছে।

যেমন হাদিস গুলো হলো এই।
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মু’মিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৮০

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের পার্থক্য সলাত পরিত্যাগ করা।
  সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৯

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্যকারী আমল হলো সালাত। যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।
  সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪৬৩

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা ও কুফর এর মধ্যে পার্থক্য হলো সলাত ছেড়ে দেয়া।
  সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬৭৮

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুফর ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য হল নামায ত্যাগ করা।
  জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬১৮

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত আ’মাশ (রহঃ) হতেও উপরোক্ত সনদে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দাহ্‌ ও শির্‌কের মধ্যে অথবা বান্দাহ্ ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হল নামায ত্যাগ করা।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬১৯

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত বর্জন।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৭৮
মুসলিম ৮২, তিরমিযী ২৬১৮, ২৬২০; আবূ দাঊদ ৪৬৭৮, আহমাদ ১৪৫৬১, ১৪৭৬২; দারিমী ১২৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মু’মিন) বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হল সলাত পরিত্যাগ করা।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৫৬৯

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন রাসুল (সঃ) বলেছেন আমাদের ও তাদের মাঝে নিরাপত্তার অঙ্গিকার হচ্ছে সলাত সুতারাং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করলাে সে ব্যক্তি কাফের হয়ে গেলাে।
 সুনানে তিরমিজি ২৬২১/সুনানে নাসায়ী/ সুনানে ইবনে মাজাহ ১০৭৯/মুসনাদ আহম্মদ ২২৯৩৭/

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল (সঃ) আমাকে  ওসিয়ত করেছেন তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবেনা যদিও তােমাকে টুকরাে টুকরাে করা হয় বা আগুন পােড়ানাে হয়, আর ইচ্ছাকৃত ভাবে ফরজ সলাত ত্যাগ করবেনা কেননা যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফরজ সলাত ত্যাগ করে তার থেকে আল্লাহ দায়িত্ব কর্তব্য তুলে নেয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০৩৪/মুসতাদরাকে হাকেম ৬৮৩০/

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইবন মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুল (সঃ) বলেন যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে সলাত ছেড়ে দিলাে সে প্রকাশ্য কুফুরী করলাে।
(মুজাম তারবানী ৩৪৩)

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আলী (রাঃ) বলেন যে ব্যক্তি সলাত আদায় করলােনা সে কাফের ( সুনানে বায়হাকী ৬৭৩৪)

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
 রাসুল (সঃ) বলেছেন নিশ্চয় একজন মােমিন ব্যক্তির মাঝে এবং শিরক কুফুরর মাঝে পার্থক্য হলাে সলাত পরিত্যাগ করা।
হাদিসটি ইমাম মুসলিম জাবির (রাঃ) এর বরাত কিতাবুল ঈমানে বর্ণনা করেছেন।

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
বুরাইদা বিন হুসাইব হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে আমি রাসুল (সাঃ) বলতে শুনছি আমাদের মাঝে আর মুশরিকদের মাঝে একমাত্র চুক্তি হলাে সলাত যে ব্যক্তি সলাত ছেড়ে দিবে সে কাফির হয়ে যাবে।
হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ আবু দাউদ তিরমিজি নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ।

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
 রাসুল (সঃ) আরও বলেছেন যে ব্যক্তি সলাত আদায় করলাে না সে আমার উম্মত নয়।

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
রাসুল (সঃ) আরও বলেছেন মুসলিম এবং মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য শুধু সলাত যে সলাত পড়লাে সে মুসলিম আর যে সলাত পড়লাে না সে মুশরিক।

সাহাবীরা কিছু সলাত সমন্ধে আচার ফতওয়া প্রদান করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে সলাত আদায় করলাে না তার কােন দ্বীন নেই (মুসানাফে ইবনে আবি সাইবা  ৩০৩৯৭)

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, যে ব্যক্তি সলাত ত্যাগ করলাে ইসলামে তার কােন অংশ নেই, (সুনান বাইহাকী ৬৭৩৪)

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক বলেন রাসুল (সঃ) এর সাহাবীগণ সলাত ব্যতিত অন্য কােন আমল ত্যাগ করাকে কুফুরী মনে করতেননা।
সুনানে তিরমিজি ২৬২২/ মুসতাদরাকে হাকেম ১২/

সুতারাং বিষয়টি কোরআন ও হাদীসের আলোকে চাদের আলাের মতাে পরিস্কার হয়ে গেলাে, (লা ইলাহা ইল্লাহ) আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ একজন আছেন তা বললেই সে সত্যিকারের খাটি মুসলিম নয়, (লা ইলাহা ইল্লাহ ) আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই,  তা মুখে বলা, এবং তার  বাস্তবায়ন করার নাম খাটি  মুসলিম,  যেমন তার বাস্তবায়নের দিক গুলো হলো, নামাজ নিজে আদায় করা, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা সমাজে রাষ্ট্রে পরিবারে, রোজা থাকা, যাকাত প্রদান করা, যাকাত ভিত্তিক রাষ্ট্র সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, হজ্জ পালন করা, পর্দা পালন করা, আল্লাহর আইন বিধান অনুযায়ী  রাষ্ট্র  সমাজ পরিবারে বিচার ফায়সালা করা,  এগুলি হচ্ছে (লা ইলাহা ইল্লাহ) আল্লাহ ছাড়া আর  কোন ইলাহ নেই, এর সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন,  যদি এ গুলি কেউ আদায় না করে, আর মুখে বলে (লা ইলাহা ইল্লাহ) আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ একজন আছেন,   তাহলে সে কিছুতেই সত্যিকারের খাটি মুসলিম হতে পারেনা,
বিষয়টি আরও ভালাে ভাবে বুঝতে হলে,  মুসলিম নামের বিপরীত নাম খুজতে হবে, কারণ মুসলিম নামের বিপরীত নাম হলো  মুশরিক, যে নামাজ পড়লাে সে সত্যিকারের মুসলিম, আর যে নামাজ পড়লাে না সে সত্যিকারের খাটি মুসলিম থেকে বহিস্কৃত, রাসুল (সঃ) এর হাদিস অনুযারী।
রাসুল (সাঃ) কে আল্লাহতাআলা আগমন করেছেন এই মক্কার মুশরিকদের মাঝে, এদেরকে সত্যিকারের খাটি মুসলিম করার জন্যে, এদের মাঝে সর্বপ্রথম আল্লাহকে এক ইলাহ রব মেনে নেওয়ার জন্যে, এবং আল্লাহর নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, এবং তার রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত তার  সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব  তার দাসত্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা  করার জন্যে।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতে  ঘােষণা করেছেন।
 وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ
তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর সাথে সাথে তারা (ইবাদতে ও তার বিধানে) আল্লাহর সাথে অন্যকে  শরীক স্থাপন করে৷

তাহলে এসব  হাদিস ও আয়াত থেকে প্রমানিত হলাে কলেমা স্বীকার করার পরে তার আদেশ ও নিষেধ, বিধি ও বিধানের মাঝে না চললে, তার ইবাদতের মাঝে না থাকলে, সে আর সত্যিকারের খাটি  মুসলিম থাকেনা।
তাই এই সব লােকদের উদ্দেশ্যে   চার মাযহাবে আলেমরা কি কি ফতওয়া দিয়েছেন, তা আমরা এক নজর দেখে নেই।
ইমাম আহম্মদ বিন হাম্বল বলেছেন সলাত পরিত্যাগ কারী কাফির ইসলাম থেকে বহিস্কৃত, যদি সে তাওবাহ করে নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করা শুরু না করে, তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে।

ইমাম মালিকি ও শাফঈী বলেছেন শাস্তি স্বরুপ তাকে হত্যা করতে হবে।

ইমাম আবু হানিফা বলেছেন তাকে জেলে বন্ধি করে রাখতে হবে যতদিন সে নামাজ পরার জন্য সাক্ষ্য না প্রদান করে।
 
দলিল (সলাত পরিত্যাগ কারীর বিধান এই বইটি)
মূল লেখক, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ  আল-উছাইমীন।
অনুবাদ,  শাইখ আকরামুজ্জামান বিন  আব্দুর সালাম।
পৃষ্ঠা নং ১৫

অন্য অন্য আলেমরা মতামত মাসআলা দিয়েছেন যেহেতু তারা ঈমান আনার পরে কুফুরী করেছে তাদেরকে হত্যা করতে হবে, কেউ কেউ বলেছেন তাদের জানাযা পড়া যাবেনা, কেউ কেউ বলেছেন তাদের মাটি দেওয়া যাবেনা, তাদেরকে জঙ্গলে ফেলে রাখতে হবে, যাতে কাক শকুনেরা তাদের মাংস টেনে ছিড়ে খেয়ে নেয়।
তাহলে বুঝা গেলাে কােন ব্যক্তি কলেমা পড়লাে কিন্তু সে আল্লাহর আদেশ নিষেদ মতাে চললােনা, তাহলে সে কােন কলেমা পড়লাে? সে কােন মুসলিম হলাে? কারণ কলেমা পড়া মানেতাে মুসলিম হওয়া, মুসলিম হওয়া মানেতাে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মতাে চলা, আর সে কলেমা পড়ার পরে, মুসলিম হওয়ার পরে, আল্লাহর আদেশ নিষেধ মতাে চললােনা সে কি করে খাটি মুসলিম? কারণ মুসলিমের বিপরীত নাম হলাে মুশরিক, আর আরবের লােকেরা মুশরিক ছিলাে, পরে তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পরে, নামাজ রোজা হজ্জ  যাকাত আদায় করার পরে, তারা খাটি মুসলিম হয়েছে।
এ একটি কথা সবাই পরিস্কার জেনে রাখ, যদি কেউ এই পৃথিবীতে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে, এবং তা বাস্তবায়নের জন্য  প্রতিশ্রতি অঙ্গিকার দিয়ে, তা আদায় না করে, তা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সে কি করে সত্যিকারের খাটি মুসলিম হতে পারে?
যারা নিজেকে সত্যিকারের খাটি মুসলিম দাবী করবে, তারা অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহর আনুগত্য করবে, তারা অবশ্যই অবশ্যই  আল্লাহর সকল বিধানের প্রতি আত্মসমার্পন করবে, আল্লাহর সকল আদেশ নিষেধ মেনে চলবে তারাই হবে সত্যিকারের খাটি মুসলিম।
আর মুশরিক তাকেই বলে যারা আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে মানেনা, তাদের আনুগত্য করেনা, আল্লাহর সকল বিধানের প্রতি  আত্মসমার্পন করেনা, আল্লাহর আদেশ নিষেধ মতাে চলেনা, নামাজ পড়েনা, রোজা থাকেনা, যাকাত আদায় করেনা, হজ্জ পালন করেনা, তারাই মুশরিক।

এখানে আরও একটি বিষয় পরিস্কার  ভাবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মানুষেই ইবাদত করে, তবে কেউ আল্লাহর ইবাদত করে, আর কেউ শয়তানের ইবাদত করে, একথা আপনাদের নিশ্চিত মনে রাখতে হবে, যদি কেউ  আল্লাহর ইবাদত না করে, তাহলে সে নিশ্চিত শয়তানের ইবাদত করে, আর যদি কেউ  শয়তানের ইবাদত না করে, তাহলে সে নিশ্চিত আল্লাহর ইবাদত করে, কারণ পৃথিবীর কােন মানুষেই ইবাদত বিহীন নয়, সবাই ইবাদত করে, তবে কেউ আল্লাহর ইবাদত করে, আর কেউ শয়তানের ইবাদত করে।
তাই কেউ যদি কলেমা স্বীকার করার পরে আল্লাহর ইবাদত না করে, তাহলে সে নিশ্চিত শয়তানের ইবাদত করে।

এখানে আরও একটি বিষয় ভালাে ভাবে  মনে রাখতে হবে, কলেমা স্বীকার করার অর্থ হলাে আল্লাহর ইবাদত করা, যে ব্যক্তি তা করলোনা, সে প্রকৃত পক্ষে কলেমাই স্বীকার করলােনা।
যদি সে প্রকৃত পক্ষে  কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করে, অতঃপর আল্লাহর ইবাদত না করে, তাহলে সে আল্লাহর সাথে  ঠাট্টা  বিদ্রুপ করলো, এতে সে নিজেই নিজের ক্ষতি করলো।
কারণ সে কলেমা পড়ার সাথে সাথে  আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) এর সাথে ওয়াদা বদ্ধ হলাে, তাদের কাছে শর্ত দিলাে, তাদের সাথে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হলাে, উপরের উল্লেখিত বিষয় গুলির প্রতি আমল  করার জন্য, এবং তা রাষ্ট্র সমাজে পরিবারে বাস্তবায়ন করা জন্য, অতঃপর সে তা করলোনা, উল্টাে সেই সব বিষয়ের প্রতি বিরােধিতা করলাে, এবং সেই সব বিধান গুলিকে প্রত্যাখ্যান করলো, এবং তাদের মধ্য থেকে প্রবীন ব্যক্তিদের রচিত বিধান দিয়ে, নিজেকে পরিচালনা করলাে, রাষ্ট্র সমাজ পরিবার পরিচালনা করলাে, এতে তারা অন্যকে  রব ইলাহের আসনে  বসালাে।

এর দলিল হলো  সুরা তওবার ৩১ নং আয়াত,  ‌সেখানে আল্লাহতাআলা বলেছেন৷
ٱتَّخَذُوٓا۟ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَٰنَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ ٱللَّهِ وَٱلْمَسِيحَ ٱبْنَ مَرْيَمَ وَمَآ أُمِرُوٓا۟ إِلَّا لِيَعْبُدُوٓا۟ إِلَٰهًا وَٰحِدًاۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۚ سُبْحَٰنَهُۥ عَمَّا يُشْرِكُونَ
আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ‘আলিম আর দরবেশদেরকে রব বানিয়ে নিয়েছে; আর মারইয়াম-পুত্র মাসীহকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ ব্যতীত (অন্যের) ‘ইবাদাত করার আদেশ দেয়া হয়নি। তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, পবিত্রতা আর মহিমা তাঁরই, তারা যাদেরকে তার সাথে অংশীদার গণ্য করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে ৷

এই আয়াতের ব্যাখায় রাসুল (সঃ) যা বলেছেন আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি গলায় স্বর্ণের ক্রুশ পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম) এর সামনে এলাম। তিনি বললেন হে আদী! তোমার গলা হতে এই প্রতীমা সরিয়ে ফেল। এই বলে আমি তাঁকে সূরা বারাআতের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করতে শুনলাম।
 বাংলা অনুবাদ,  তারা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত তাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসারবিরাগীগণকে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে (সূরা আত্‌-তাওবাহ্‌ ৩১)
তারপর তিনি বললেন তারা অবশ্য তাদের পূজা করত না। তবে তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হালাল বলত তখন সেটাকে তারা হালাল বলে মেনে নিত। আবার তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হারাম বলত তখন নিজেদের জন্য উহাকে হারাম বলে মেনে নিত।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩০৯৫

এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ফাতহুল মাজিদে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগিদেরকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।
 এ আয়াতের তাফসীর আদী বিন হাতিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেন: একদা নাবী (সাঃ)-এর মুখে এ আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনতে পাই। তখন আমি বললাম, আমরা তো তাদের ইবাদত করিনা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আল্লাহ তা‘আলা যা হালাল করেছেন সেটা কি তারা হারাম করে দেয়না? অতঃপর তোমরাও তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করে নাও। আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করে দিয়েছেন- তারা কি সেটা হালাল করে দেয়না? অতঃপর তোমরা তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করে নাও। আমি বললাম: হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এটাই তাদের ইবাদত করা।
 (সহীহ তিরমিযী হা: ২৪৭১)
 কেননা হালাল হারামের বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
অর্থাৎ ধর্মীয় যাজক, পীর, আলেম বা শাসক আল্লাহ তা‘আলার বিধানের বিপরীত কোন বিধান দিলে তা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়া তাদের রব হিসেবে গ্রহণ করার শামিল।
 (তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ,
আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)-এর কাছে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দ্বীন যখন পৌঁছে তখন তিনি সিরিয়ার দিকে পালিয়ে যান। অজ্ঞতার যুগেই তিনি খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এখানে তার ভগ্নি ও তার দলের লোকেরা বন্দী হয়ে যায় । রাসূলুল্লাহ (সঃ) দয়া পরবশ হয়ে তার ভগ্নিকে মুক্তি দেন এবং তাকে কিছু অর্থও প্রদান করেন। সে তখন সরাসরি তার ভাই-এর কাছে চলে যায় এবং তাঁকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করে ও মদীনায় গমনের অনুরোধ করে। সুতরাং আদী (রাঃ) মদীনায় চলে আসেন। তিনি তার ‘তাঈ' গোত্রের নেতা ছিলেন। তাঁর পিতার দানশীলতা দুনিয়াব্যাপী প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। জনগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তাঁর আগমনের সংবাদ অবহিত করেন। তিনি স্বয়ং তাঁর কাছে। আসেন। ঐ সময় আদী (রাঃ)-এর স্কন্ধে রৌপ্য নির্মিত ক্রুশ লটকানো ছিল । রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পবিত্র মুখে (আরবী) এ আয়াতটি উচ্চারিত হচ্ছিল। তখন আদী (রাঃ) বলেনঃ “ইয়াহূদী খ্রীষ্টানরা তো তাদের আলেম ও দরবেশদের উপাসনা করেনি।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ “তাহলে শুন! তারা তাদের আলেম ও দরবেশদের হারামকৃত বিষয়কে হারাম বলে মেনে নেয় এবং হালালকৃত বিষয়কে হালাল বলে স্বীকার করে নেয়। এটাই তাদেরকে তাদের উপাসনা করার শামিল।” অতঃপর তিনি বলেনঃ “হে আদী! আল্লাহ সবচেয়ে বড় এটা কি তুমি মেনে নিতে পার না? তোমার ধারণায় আল্লাহর চেয়ে বড় কেউ আছে কি? ‘আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য আর কেউ নেই' এটা কি তুমি অস্বীকার করছো? তোমার মতে কি তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য আছে?” অতঃপর তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। আদী (রাঃ) তা কবুল করে নেন এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চেহারা মুবারক খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি বলেনঃ “ইয়াহূদীদের উপর আল্লাহর ক্রোধ পতিত হয়েছে এবং খ্রীষ্টানরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতেও এ আয়াতের তাফসীর এরূপই বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে হারাম ও হালালের মাসআলায় আলেম ও ইমামদের কথার প্রতি তাদের অন্ধ অনুকরণ ।
 সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তারা তাদের বুযুর্গদের কথা মানতে শুরু করে এবং আল্লাহর কিতাবকে এক দিকে সরিয়ে দেয়। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন, তাদেরকে তো শুধু এ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না। তিনি যেটা হারাম করেছেন সেটাই হারাম এবং তিনি যেটা হালাল করেছেন সেটাই হালাল। তাঁর ফরমানই হচ্ছে শরীয়ত। তাঁর হুকুমই মান্য করার যোগ্য। তাঁরই সত্তা ইবাদতের দাবীদার। তিনি শির্ক ও শরীক হতে পবিত্র। তাঁর কোন শরীক, কোন নবীর ও কোন সাহায্যকারী নেই। তাঁর বিপরীতও কেউ নেই। তিনি সন্তান-সন্ততি থেকে পবিত্র। তিনি ছাড়া না আছে কোন উপাস্য, না আছে কোন প্রতিপালক।
 (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

 তাহলে তারা, সেই সব ব্যক্তিদেরকে রব ইলাহ সার্বভৌম সার্বভৌমত্বের মাঝে অধিষ্ঠিত করলাে, তাদেরকে আইনদাতা, সংবিধানদাতা, বিচার ফয়সালাকারী হিসাব মেনে নিলাে, এতে তারা  আল্লাহর সাথে কুফুরী করলাে, সত্যিকারের খাটি মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেলো, সে ব্যক্তি দেশের আলেম ওলামা  সরকার   এমপি, মন্ত্রী, উকিল, ব্যারিষ্টার জজ যাই হউক না কেন৷

কারন তারা কলেমার সাক্ষ্য  স্বীকৃতি ভুলে গেলাে,  তারা কলেমার সাক্ষ্য  স্বীকৃতির বাস্তবায়ন নিজের মাঝে ভুলে গেলো, তারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার কথা ভুলে গেলাে, তারা ঈমান আনার পরে কুফুরী করলাে, তাই তারা সত্যিকারের খাটি মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেলো।
তাই যারা আল্লাহর দ্বীন সংবিধান মেনে নিয়ে, আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার সাক্ষ্য স্বীকৃতি দিয়ে, পরে তা বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার  জন্য নিজে সংবিধান রচনা করলাে, অথবা তাদের  মধ্য থেকে তাদের প্রবীণ ব্যক্তিদের রচিত করা সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলাে, সে  কুফুরী কাজ করলাে,  সত্যিকারের খাটি মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেলো।

এর দলিল হলো সুরা মায়িদার ৪৪ নং আয়াত,  সেখানে আল্লাহতাআলা বলেছেন।
 وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰفِرُونَ
 আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না তারাই কাফির।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ,
অতঃপর যারা আল্লাহর শরীয়ত এবং তাঁর অবতারিত অহী অনুযায়ী ফায়সালা করে না তাদেরকে কাফির বলা হয়েছে।
এ আয়াতটি মুফাসসিরদের উক্তি অনুযায়ী শানে নযুল হিসেবে আহলে কিতাবের ব্যাপারে অবতীর্ণ হলেও হুকুমের দিক দিয়ে এটা সমস্ত লোকের ব্যাপারেই প্রযোজ্য।
এটা বানূ ইসরাঈলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল বটে; কিন্তু এ উম্মতেরও এটাই হুকুম।
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ঘুষ খেয়ে কোন শরঈ মাসআলার ব্যাপারে উল্টো ফতওয়া দেয়া কুফরী।
সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যদি ইচ্ছাপূর্বক আল্লাহর অহীর বিপরীত ফতওয়া দেয়, জানা সত্ত্বেও তার উল্টো করে তবে সে কাফির।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ফরমানকে অস্বীকার করবে তার হুকুম এটাই।
 আর যে ব্যক্তি অস্বীকার করলো না বটে, কিন্তু তা মোতাবেক বললো না, সে যালিম ও ফাসিক।
 সে আহলে কিতাবই হোক বা আর কেউ হোক।
শাবী (রঃ) বলেন যে, মুসলমানদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের বিপরীত ফতওয়া দেবে সে কাফির, ইয়াহূদীদের মধ্যে দেবে সে যালিম এবং খ্রীষ্টানদের মধ্যে দেবে সে ফাসিক।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তার কুফরী হচ্ছে এ আয়াতের সঙ্গে।
তাউস (রাঃ) বলেন যে, তার কুফরী ঐ ব্যক্তির কুফরীর মত নয় যে আল্লাহ, রাসূল (সঃ) কুরআন এবং ফেরেশতাদেরকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে।
আতা’ (রঃ) বলেন যে, কুফরীর মধ্যে যেমন কম বেশী আছে তেমনই যুলম ও ফিসকের মধ্যেও কম বেশী আছে। এ কুফরীর কারণে সে মিল্লাতে ইসলাম হতে বের হয়ে যাবে না।
 ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “তোমরা যে দিকে যাচ্ছ এর দ্বারা ঐ কুফুরী উদ্দেশ্য নয়,
(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ফাতহুল মাজিদে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
‘যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুসারে মীমাংসা করে না তারাই কাফির।
এ আয়াতের ব্যাপারে মুফাসসিরদের বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এ বিধান কি মুসলিমদের ব্যাপারে না কাফিরদের ব্যাপারে?
তাবেয়ী শা‘বী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: এ বিধান মুসলিমদের ব্যাপারে। তাওস থেকেও এরূপ বর্ণনা রয়েছে।
কিন্তু কুফরী দ্বারা উদ্দেশ্য হল, এমন কুফরী যা ইসলাম থেকে বের করে দেয় না।
শা‘বী (রহঃ) থেকে অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, এ বিধান ইয়াহূদীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন এ কুফরীর দ্বারা সে কুফরী না যা তোমরা মনে কর। (ইবনু আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন, ইমাম হাকিম বলেছেন: বর্ণনাটি বুখারী, মুসলিমের শর্তানুপাতে)
কোন কোন আলেম বলেছেন: কুরআন প্রমাণ করে এ আয়াত ইয়াহূদীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। কেননা পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা আল্লাহ তা‘আলার কালাম বিকৃত করেছে। আবার পরের আয়াতে তাদের কথাই উল্লেখ রয়েছে। এ মত পোষণ করেছেন বারা বিন আযেব, হুযাইফা বিন ইয়ামান, ইবনু আব্বাস (রাঃ), ইকরিমা ও হাসান বসরী (রহঃ)-সহ অনেকে।
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন:
কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। সহীহ মুসলিমে বারা বিন আযেব থেকে প্রমাণ রয়েছে। এ হিসেবে কোন মুসলিম কাবীরা গুনাহর কারণে কাফির হয় না।
আবার কেউ বলেছেন: এখানে কিছু কথা উহ্য রয়েছে যার অর্থ হল: যদি কেউ কুরআনকে প্রত্যাখ্যান ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীকে অস্বীকার করত আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত বিধান দ্বারা ফায়সালা না করে তাহলে সে কাফির। এ কথা ইবনু আব্বাস ও মুজাহিদও বলেছেন।
ইবনু মাসউদ (রাঃ) ও হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেন: আয়াতটি মুসলিম, ইয়াহূদ ও কাফির সকলের জন্য ব্যাপক। যারাই আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিধান ছাড়া অন্য বিধান দ্বারা ফায়সালা করা বৈধ মনে করবে এবং সে অনুপাতে বিশ্বাস রাখবে তারাই কাফির।
এসব আলোচনার পর ইমাম শানক্বিতী (রহঃ) বলেন: জেনে রাখুন, এ আলোচ্য বিষয়ে সঠিক কথা হল- কুফর, জুলুম ও ফিসক (পাপাচার) প্রত্যেকটি শব্দ শরীয়তে অবাধ্য কাজ করা অর্থে ব্যবহার হয়, আবার ইসলাম থেকে বের করে দেয় এমন কুফরী কাজ করার অর্থেও ব্যবহার হয়। যদি এমন বিধান দ্বারা ফায়সালা করে যা রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ ও আল্লাহ তা‘আলার বিধানকে বাতিল করে দেয় তাহলে কুফর, জুলুম ও ফিসক (পাপাচার) প্রত্যেকটি ইসলাম থেকে বের করে দেয় এমন গুনাহর অর্থে ব্যবহার হবে। আর যদি তার বিশ্বাস থাকে সে হারাম কাজে লিপ্ত এবং অন্যায় করছে তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে না, শুধু অপরাধী বলে গণ্য হবে। (তাফসীর আযওয়াউল বায়ান ২/৭১)
(তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ)

তাহলে এ থেকে বুঝা গেলাে কেউ কলেমা স্বীকার করার পরে, সে মতে  কাজ না করলে, সে কোরআনের বিধান দিয়ে রাষ্ট পরিচালনা না করলে, সে কুফুরী করলাে, সে সত্যিকারের খাটি মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গেলো।
তাই আসুন আমরা সবাই মুসলিম হওয়ার জন্য যে শর্ত সাক্ষ্য স্বীকৃতি  দিয়ে মুসলিম হয়েছি, তা আমরা সবাই যথাযথ ভাবে পালন করি, তা পালন না করে, আমরা আল্লাহর সাথে কুফুরী কাজ না করি, এবং নিজেকে ধ্বংস না করি।


আমরা কােন কলেমা পড়েছি ?
আমরা কােন মুসলিম হয়েছি ?

নবী রাসুলরা কােন কলেমা পড়েছিলাে? তারা কােন মুসলিম হয়েছিলো? সাহাবীরা কােন কলেমা পড়েছিলাে? তারা কােন মুসলিম হয়েছিলাে? তাবে তাবেঈরা কােন কলেমা পড়েছিলাে? তারা কােন মুসলিম হয়েছিলাে? কেন তারা কলেমা পড়ার সাথে সাথে, এত নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলো? কেন তারা কলেমার দাওয়াত দিতে গিয়ে, এত নির্যাতিত হয়েছিলাে? কেন তাদের প্রতি নেমে এসেছিলো এত অমানবিক জুলুম নির্যাতন? কেন তাদেরকে মরুভূমির তপ্ত বালুর উপর জলন্ত আগুনের কয়লার উপর চিত  করে শুইয়ে রেখেছিলাে?
কােন কলেমা স্বীকার করার কারণে?  তাদেরকে বর্ষার আঘাত দিয়ে, বল্লমের আঘাত দিয়ে হত্যা করা হয়েছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে? তাদেরকে জীবন্ত  কবর দেওয়া হয়েছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে তাদেরকে ধরে নিয়ে এসে লোহার  কড়াত দিয়ে দিখন্ডিত করা হয়েছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে তাদের শরীরের মাংস লােহার চিরনী দিয়ে আচড়ে হাড় থেকে মাংস আলাদা করা হয়েছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে তাদেরকে জলন্ত আগুনের মাঝে নিক্ষেপ করা হয়েছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে রাসুল (সঃ) ও তার সাহাবীগণ  তিন বছর শিহাবে আবু তালেবে কারারুদ্ধ  অবস্থায় ছিলাে? কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে তাদেরকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হলো,  তাদের কােন খাবার ছিলােনা, তাদেরকে কেউ খাবারও দিতে পারতােনা, অবশেষে তারা গাছের লতা পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করলাে, কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে?
কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে শত শত তাবে তাবেঈ সালফে সালেহীন মুহাদ্দেস মুফাচ্ছের গণ নির্যাতন হয়েছিলাে?
আর আমরা আজ কােন কলেমা পড়েছি? আমাদেরকে কুফ্ফাররা জুলুম নির্যাতন করেনা? আমাদেরকে জেলখানায় বন্ধি করেনা, আমাদেরকে ফাসি দেয়না, অথচ কুফ্ফাররা আমাদেরকে স্বাগতম জানায়, কােন কলেমা স্বীকার করার  কারণে? এ আবার আমাদের কােন কলেমা? যে কলেমা পড়লে কুফ্ফাররা ক্রুদ্ধ হয়না, যে কলেমা পড়লে কুফ্ফাররা খুশি হয়, আহলান সাহলান স্বাগতম জানায়, এ আবার আমাদের কােন কলেমা?
কেন আমাদের  এ কলেমা পড়ার কারণে কুফ্ফাররা খুশি হয়? কেন আমাদেরকে এ কলেমা পড়ার কারণে আমাদের নামায, রােজা, হজ্জ্ব, যাকাত আদায় করার জন্যে তারা সাহায্য সহােযােগিতা করে? কেন তারা আমাদেরকে মসজিদ নির্মান করার জন্য সাহায্য সহোযােগিতা করে? এমন কি তারা নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করে দেয়? কােন কলেমার কারণে? কোন কলেমার কারনে তারা রমজান মাস আসলে রমজান উপলক্ষে, হােয়াইট হাউজে ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠান করে? আমাদেরকে দাওয়াত দেয়  কোন কলেমার কারনে।
অথচ যে কলেমা স্বীকার করার কারণে, কাফেররা তাদের গােলামদেরকে শত বেলা না খেয়ে রাখত, তাদের শরীরের পােষাক খুলে নিতাে, তাদের ইবাদতের স্থান গুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিতাে।
আর আমরা কােন কলেমা পড়লাম? আমাদেরকে কাফেররা খাবারের জন্য সাহায্য সহযাগিতা করে, শরীরের পােষাকের জন্য সাহায্য সহোযােগিতা করে, আমাদের ইবাদতের জন্য মসজিদ নির্মাণ করে, এগুলাে আমাদের কােন কলেমা পড়ার কারণে?
 কেন আমরা ওদের শত্রুর পরিবর্তে বন্ধু হয়ে গেলাম? কেন আমরা ওদের  জুলুম নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে তাদের সাহায্য সহােযােগিতার অনুদান অনুগ্রহ পেলাম? কােন কলেমার কারণে? আমরা আজ  ওদের সম্মানের পাত্র হয়ে গেলাম?
অথচ নবী রাসুল (সঃ) ও সাহাবীগণ ও তাবে তাবেঈগণ এই কলেমা পড়ার কারণে ওদের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়েছিলাে, ওদের শত্রু হয়েছিলাে।
তাহলে ওদের কলেমা কি? আর আমাদের কলেমা কি? কেন আমরা কলেমা পড়লে কাফেররা খুশি হয়, আমাদেরকে সাহায্য সহােযােগিতা করে ব্যাপারটা কি?
 রাসুল (সঃ) ও সাহাবীগণ ও তাবে তাবেঈন-গণদের কলেমার সাথে আমাদের কলেমার কি মিল আছে? নাকি কােন পার্থক্য আছে? কেন আমাদের  কলেমা স্বীকার করার কারণে কাফেররা খুশি হয়, আহলান সাহালান স্বাগতম জানায়, আমাদেরকে সাহায্য সহোযােগিতা করে, কেন কি কারণে?
এ বিষয়টা আগে আমাদের ভালােভাবে ভেবে দেখা দরকার, নবী রাসুল (সঃ) ও সাহাবী ও তাবে, তাবেঈনদের কলেমার সাথে, আমাদের কলেমার কতখানি মিল আর কতখানি ব্যবধান, আমরা একটু বিবেকের জ্ঞান দিয়ে ভেবে দেখি, বিবেকের চােখ দিয়ে পড়ে দেখি, ওদের কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা কি? আর আমাদের কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা কি?
 যেমন তাদের কলেমা ছিলো লা ইলাহা ইল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কােন ইলাহ নেই, সেই আল্লাহই একমাত্র  শাসনকর্তা, বিধানদাতা, সংবিধানদাতা, আইনদাতা, হুকুমদাতা, সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব দাসত্ব সেই আল্লাহতাআলা জন্য, আর দ্বীন হলাে আল-ইসলাম, সংবিধান হলাে আল-কােরআন।

আর আমাদের কলেমা এই একই।
 কিন্তু আমাদের কলেমার অর্থ ভিন্ন।
যেমন লা ইলাহা ইল্লাহ, এর অর্থ আমাদের কাছে, আল্লাহ ছাড়া আরাে অনেক ইলাহ আছে, যেমন আমরা মাজারে গিয়ে সিজদা করি, পীর বাবার কাছে গিয়ে ভিক্ষা প্রার্থনা করি, পীর বাবার পায়ে পড়ে সিজদা করি, পীর বাবার কাছে, বিভিন্ন মূত্তিদের সামনে, ভাস্করের সামনে, গিয়ে মাথা নত করি, কিছুক্ষণ সামনে নীরব থাকি, বিভিন্ন নেককার ব্যক্তির কবরের কাছে গিয়ে কিছু চাই, দেশের বিচারকের কাছে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই, তাহলে এবার ভেবে দেখাে আমাদের কলেমার অর্থ কি দাড়ালাে? আর আমরা কতজনকে ইলাহ   মেনে নিলাম।
আবার রবের ক্ষেতে আমরা জনগনের বিধান মানি, জনগনের রচিত সংবিধান মানি, জনগনের সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব মানি, জনগনকেই সকল ক্ষমতার মালিক মানি, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র,  রাজতন্ত্র,  একনায়কতন্ত্র মানি, তাহলে এবার ভেবে দেখাে আমাদের কলেমার অর্থ কি দাড়ালাে? আমরা কতজনকে রব  মেনে নিলাম।
অথচ সাহাবীরা এই একই কলেমা পড়ে এ সব মূত্তি ভাস্কর পীর মাযার উৎখাত করেছিলাে, তারা তা ভেঙ্গে তচনচ করে দিয়েছিলাে, সাহাবীরা কখনো রাজা বাদশার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায়নি, তারা সর্বদাই আল্লাহর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলাে, তারা কখনাে মৃত্যু ব্যক্তির কবরের কাছে গিয়ে কিছু চায়নি, এমন কি তারা রাসুলের কাছেও কিছু চায়নি, রাসুলের কবরের কাছেও কিছু চায়নি, তারা যা কিছু চেয়েছিলাে সরাসরি আল্লাহর কাছে চেয়েছিলাে।
তারা কখনই জনগনের বিধান গ্রহন করে নাই, জনগনের রচিত সংবিধান গ্রহন করে নাই, জনগনের সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব গ্রহন করে নাই, জনগনকে সকল ক্ষমতার মালিক গ্রহন করে নাই, গনতন্ত্র  সমাজতন্ত্র  রাজতন্ত্র  একনায়কতন্ত্র  গ্রহন করে নাই, তাহলে এবার ভেবে দেখাে তাদের কলেমার অর্থ কি? আর আমাদের কলেমার অর্থ কি? আমরা কতজনকে ইলাহ  রব  মেনে নিলাম? আর তারা কতজনকে ইলাহ রব মেনে নিয়েছিলো?
সাহাবীরা মূতিগুলিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিলাে, তাদের যুগে কােন মূল সড়কে বা স্মৃতি বিজড়িত কােন স্থানে, যেমন বদরের মাঠে, উহুদের মাঠে, হুনাইয়ের মাঠে, এমনকি কােন  মূল রাস্তার মােড়ে কােন মূত্তি ভাস্কর ছিলাে না, কােন জীবিত মানুষ বা প্রাণীর  ছবি পর্যন্ত  ছিলাে না।
তাদের যুগে কােন মাজার ছিলােনা, কােন উঁচু কবর ছিলােনা, যেখান উঁচু কবর দেখতাে সাহাবীরা সেখানে ভেঙ্গে সমান করে দিতাে, তাদের যুগে একজন প্রথমে  পীর দাবি করেছিলাে, কিছু দিন পর সে নবী দাবি করেছিলাে তখনি তাকে হত্যা করেছিলাে।
এখানে  একটু পীর বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত  আলােচনা করি,  পীর কি? বিস্তারিত আলােচনা করেছি পীর বিষয়ক বইয়ের মাঝে, তাই এখানে বিস্তারিত আলােচনা করার প্রয়োজন নেই।
এই সব পীরেরা মানুষের সম্পদ অন্যায় ভাবে ভােগকারী, হরণকারী, এদের উৎপত্তি হলাে এদের বংশ পরিচয় হলাে, খৃষ্টানদের ধর্ম যাযকদের থেকে, ইহুদিদের প্রাদীদের থেকে, এই বাংলাদেশের কিছু পীরেরা এদেরে  বংশধর।
 যেমন বিষয়টি লক্ষ্য করবেন, খৃষ্টানদের হচ্ছে পোপ, ইহুদিদর হচ্ছে প্রাদী, আর মুসলিদের হচ্ছে আজ পীর, নাম গুলো প্রায় একই মতো।
এরা সবাই মানুষের সম্পদ হরণকারী, আল্লাহর বিধান পরিবর্তন কারী,
এদের সম্পর্কে আল্লাহতাআলা  সুরা তওবার ৩৪ নং আয়াতে বলেছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلْأَحْبَارِ وَٱلرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلْبَٰطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۗ
হে বিশ্বাসীগণ! অবশ্যই ‘আলিম ও দরবেশদের অনেকেই ভুয়ো কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষদের সম্পদ গ্রাস করে থাকে আর আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে।

এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ফাতহুল মাজিদে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ,
এখানে আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী উম্মাত তথা ইয়াহূদ খ্রিস্টানদের আলিমদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ খেত আর আল্লাহ তাআলার সঠিক পথে চলতে মানুষকে বাধা দিত।
সুদ্দী (রাঃ) বলেন: ইয়াহূদী আলিমদের আহবার এবং খ্রিস্টান আবেদদেরকে রুহবান বলা হয়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: কেন আল্লাহওয়ালাগণ ও আলেমগণ তাদেরকে খারাপ কথা বলতে ও অবৈধ ভক্ষণে নিষেধ করে না? এরা যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” (সূরা মায়িদাহ ৫:৬৩)
মূলত আয়াতের উদ্দেশ্য হল- যে সকল দরবেশ, সূফী, পীর ও একশ্রেণির আলেম ধর্মের নামে ব্যবসা করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করছে তাদের থেকে সতর্ক করা।
ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের আহবার ও রুহবানগণ যেমন ধর্মের নামে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ খেত আর মানুষকে নিজের মনগড়া তৈরিকৃত তরীকাহ অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে, তেমনি আমাদের সমাজেও এরূপ ধর্ম ব্যবসায়ী একশ্রেণির আলেম ও পীর-বুজুর্গ রয়েছে যারা পেটপূজারী লম্বা আলখেল্লা পরিধান করে নিজেকে খুব আল্লাহওয়ালা প্রকাশ করত মিথ্যা কথা বলে মানুষের সম্পদ হরণ করে, ধর্মের নামে গুমরাহীর পথ দেখায়। তাদের চক্রান্ত থেকে সাবধান!
(তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ)

তাই মুসলিম ভাই ও বােনেরা আমরা সবাই এ সব ভন্ড পীরদের থেকে দুরে থাকি।
 অথচ আজ আমাদের সমাজে এসব ভন্ড পীরের শেষ নেই, আমরা এদেরকে মানতেছি, আমরা এদেরকে  শরীয়তের মারফতের ধারক বাহক পথ প্রদর্শক হিসাবে মানতেছি, আমরা এদের শরীয়ত মারফত সমন্ধে রচিত করা এদের বিধান গুলি মানতেছি, এরা যে ভাবে আমাদেরকে নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত যিকির আদায় করার কথা বলতেছে, আমরা ঠিক সেভাবেই পালন করতেছি।

 এজন্য আমরা নিজেরাও  পাপ  করতেছি, আর ঐ সব পীরেরাও নিজে বিধান রচনা করে, নিজকে রবের আসনে সামিল করে  বড় পাপ কুফুরী করতেছে, তাই মুসলিম ভাই ও বােনেরা আমরা এদের খপ্পড়  থেকে সকলেই দুরে থাকি।

ঠিক একই  ভাবে আমাদের দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা, আইন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, শাসন ব্যবস্থা,  নিজের মতাে করে, বা নিজে বিধান রচনা করে, অথবা দেশের জনগনের মতামতে বিধান রচনা করে, অথবা তাদের প্রবীণ ব্যক্তিদের রচিত করা বিধান দিয়ে, তারা দেশ পরিচালনা করতেছে, আমরা এদেরকে মানতেছি, আমরা এগুলি পালন করতেছি, আমাদের এগুলি মানার কারণে, পালন করার কারনে, ওদের সমর্থন করার কারণে, আমরা ওদের মতনেই কুফুরী করতেছি।
 ওরা যেমন নিজে সংবিধান রচনা করে, নিজেকে রব স্বীকার করে নিয়ে কুফুরী করতেছে, ঠিক তেমনি আমরা ঐ শাষকদেরকে সমর্থন আনুগত্য ওদের বিচার ফয়সালা মেনে নেওয়ার কারণে আমরাও কুফুরী করতেছি,
তাহলে কি আমাদের কলেমার অর্থ এই হয়না? এক ইলাহ ছাড়া আমাদের আরো শত ইলাহ আছে, এক রব ছাড়া আমাদের  আরো শত রব আছে, আমরা একটু বিবেকের জ্ঞান দিয়ে ভেবে দেখি, কথা গুলো সত্য কি না ওহে মুসলিম জাতি?

আরাে ভালাে ভাবে জেনে নেই, আমাদের কলেমা অর্থ কি?
আমরা সকলে কি সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিচ্ছি? আমরা সকলে বলতেছি আল্লাহ ছাড়া আরও আমাদের শত শাষনকর্তা আছে, শত বিধানদাতা আছে, শত সংবিধানদাতা আছে, শত আইনদাতা আছে,  আর আমাদের দ্বীন হলাে ধর্মনিরপেক্ষতা, আমাদের তন্ত্র  হলাে গণতন্ত্র, আমাদের দেশের জনগন হলাে সকল ক্ষমতার উৎস, সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার আধিপত্য।

অথচ সাহাবীদের কলেমার তন্ত্র  হলাে আল-কােরআন।
আর আমাদের কলেমার তন্ত্র  হলাে গণতন্ত্র।
সাহাবীরা কলেমা পড়ে কােরআন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতাে।
আর আমরা কলেমা পড়ে মানব রচিত সংবিধান দিয়ে তথা গণতন্ত্র  দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেছি।
সাহাবীরা কালিমা পড়ে আল্লাহকে সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী মনে করতাে।
 তার আইন সংবিধান দিয়ে দেশ রাষ্ট্র সমাজ নিজকে পরিচালনা করতাে।
আর আমরা সেই কলেমা পড়ে দেশের জনগনকে  সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী মনে করছি।
 জনগনের আইন দিয়ে জনগনের সংবিধান দিয়ে দেশ রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।
সাহাবীরা কলেমা পড়ে আল্লাহ রাসুলকে অনুসরণ করেছিলাে, রাসুল (সঃ) কে নেতা মেনে নিয়েছিলাে, রাসুলের মৃত্যুর পরে সাহাবীরা তাবে তাবেঈনরা রাসূল (সঃ) এর নীতি আদর্শ অনুসরণ করেছিলাে।

আর আমরা আজ কলেমা পড়ে  আব্রাহাম লিংকনকে, লেলিনকে, কালমার্সকে, জজ ডাবিলাে  বুশকে, বারাক ওবামাকে অনুসরণ করতেছি, ওদের নীতি আদর্শ অনুসরণ করতেছি।

তাহলে দেখুন আমাদের কলেমা আর সাহাবীদের কলেমার মাঝে কতখানি ব্যবধান? কতখানি পার্থক্য?
আর এই  জন্য  কাফেররা আমাদের কলেমা পড়াতে আহলান সাহলান স্বাগতম জানায়,  কাফেররা আমাদের প্রতি খুশি থাকে, কাফেররা আমাদেরকে সাহায্য সহােযােগিতা করে, আর যদি আমরা সাহাবীদের মতাে কলেমা পড়তাম তাহলে ঠিকেই সাহাবীদের মতাে আমাদের অবস্থা হতাে, আমাদের প্রতি নেমে আসতাে অমানবিক যুলুম নির্যাতন, ওরা আমাদেরকে শত্রু ভাবতাে ওরা আমাদেরকে ধ্বংস  করার জন্য নুতন নুতন ষড়যন্ত্র তৈরি করতাে।
যেমন তৈরি করেছিলাে ওরা মুসলিম সেজে ওসমান (রাঃ) এর খিলাফত কালে, ওরা কি সুপরিকল্পিত ভাবে মুসলিম জাতিকে বিভক্ত করেছিলাে, ওরা কি সুপরিকল্পিত ভাবে ওরা মুসলিম জাতিকে ধবংস করেছিলো, ঠিক তেমনি ওরা আবারও নুতন পরিকল্পনা করতাে আপনাদেরকে ধ্বংস  করার জন্য।
 আপনারাতাে এখনো সত্যিকারের মুসলিম হন নাই, আর যারা বর্তমান নিজেকে সত্যিকারের মুসলিম দাবী করে, তারাতাে নামে মাত্র মুসলিম, তারা পােষাকের মুসলিম, তারা কােরবানীর মাংস খাওয়া মুসলিম, তারা মিলাদ  খাওয়া ও মিলাদ পড়ার মুসলিম, তারা মাযারে সিজদা দেওয়া, মাযারে মানত করা মুসলিম, তারা পীরকে সিজদা দেওয়া মুসলিম।
এমন মুসলিম পৃথিবীতে সবাই হলেও তাতে কাফেরদের কােন  চিন্তা নেই, তাদের কােন ভয় ভীতি নেই, বরং তাদের আরও লাভ আছে, কারণ এমন মুসলিম থাকার কারণে তারা আজ গােটা বিশ্বে রাজত্ব কায়েম করতে পারছে।
 এমন মুসলিম থাকার কারনে তারা আজ সত্যিকার মুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে।
 এমন মুসলিম থাকার কারণে  তারা আজ  সত্যিকার মুসলিমদেরকে নিঃশ্বেষ করে দিচ্ছে।
 এমন মুসলিম থাকার কারনে, তারা আজ সত্যিকার মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার সাহস পাচ্ছে।

শুধু কি তাই  এসব মুসলিমরা কাফেরদেরকে বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করতেছে, সেই সব সত্যিকার মুসলিমদেরকে ধ্বংস করার জন্য।
সে জন্য আজ কাফের মুশরিকরা মুসলিম রাষ্ট্র গুলাে এক এক করে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মিছে জঙ্গি সন্ত্রাসী উগ্রপন্থী  চরমপন্ত্রী নিধনের নামে, মুসলিম রাষ্ট্র গুলােকে  এক এক করে ওদের আওতা ভুক্ত করে নিচ্ছে, ওদের নেটওয়ার্ক ভুক্ত করে নিচ্ছে।
 তবুও এসব নামধারী মুসলিমরা ওদের প্রতিবাদ করতেছেনা, অথচ ওদেরকে গােপনে গােপনে সাহায্য করতেছে, ওদের কারনে আজ মুসলিম রাষ্ট্র গুলাে প্রায় সব ধ্বংসের পথে,  তবুও এই সব নামধারী মুসলিমরা ওদেরকে সম্মানিত ব্যক্তি বলতেছে, ওদেরকে ন্যায় নিষ্ঠা বান ব্যক্তি বলতেছে।
অথচ ওরা আজ মুসলিম রাষ্টগুলাের মাঝে নাস্তিকতা অশ্লীলতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে দিচ্ছে, হত্যা সুদ ঘুষ জেনা ব্যভিচার লুণ্ঠন দুর্নীতি রাহাজানি চাঁদাবাজি, ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে দিচ্ছে, তবুও ওদেরকে ঘৃনা করতেছেনা, ওদের বিরদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতেছেনা, অথচ ওদেরকে  আহলান সাহলান স্বাগতম  জানাইতেছে।
তাইতাে ঐসব কাফের মুশরিকরা এই সব মুসলিমদেরকে সামাজিক ও আর্থিক ভাবে সাহায্য সহােযােগিতা করতেছে, যেহেতু ওরা তাদের গােলাম হয়ে কাজ করতেছে।
আর তাই কাফের মুশরিকরা এসব মুসলিমদের নিয়ে কােন চিন্তা ভাবনা করতেছেনা, তারা কােন ভয় ভীতি করতেছেনা, আরও তাদের দ্বারায় তারা উপকৃত হচ্ছে।
কি আর বলবাে বাইরের রাষ্ট্রের কথা, নিজের রাষ্ট্রের যে মুসলিমদের অবস্থা তা ভাবাটাই অস্বাভাবিক, আজ আমাদের দেশে ৯০%  লােক মুসলিম, তার থেকে ৮০% লােকেই মােনাফিক মিরজাফর।
তারা কাফের দাদাদের হয়ে কাজ করতেছে, এক কথায় বর্তমান ৮০% মুসলিমরাই  হলাে  সঠিক মুসলিমদের শত্রু, কাফেরদের বন্ধু।
 এক কথায় বর্তমান মুসলিমরা নিজের ঘরে নিজে ডাকাতি করতেছে, নিজের ভাইকে নিজে মারতেছে, নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতেছে, কাফের দাদাদের কুবুদ্ধির চক্রান্তে পরে, সামান্য কিছু অর্থের মােহে পরে।
তাই কাফেররা ঐসব মুসলিমদের  কােন ক্ষতি না করে  ওদের প্রতি খুশি হচ্ছে, ওদের কলেমাকে তারা সাদরে গ্রহন করে নিচ্ছে, ফুলের মালা দিয়ে গ্রহন করে নিচ্ছে, আর যদি তারা ওমরের মতাে সত্যিকার কলেমা পাঠ করে বলতাে, এই জমিন আল্লাহর,  ইবাদত চলবে শুধু একমাত্র আল্লাহর, এই জমিন আল্লাহর,   আইন চলবে  শুধু একমাত্র আল্লাহর।
এই জমিন আল্লাহর একমাত্র শাষন কর্তৃত্ব  বিধি বিধান সংবিধান সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব চলবে  আল্লাহর।
যদি সেই ওমরের মতাে এই বাংলার মুসলিমরা কলেমা পাঠ করে এ কথা বলতাে, এই জমিন আল্লাহর আইন চলবে আল্লাহর।
আল্লাহ ছাড়া আর কারো  সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা চলবেনা, আল্লাহ ছাড়া আর কারও সংবিধান চলবেনা, একমাত্র কােরআনের শাষন চলবে এই বাংলার জমিনে, এই বাংলায় কােন গণতন্ত্র  নামক জীবন বিধান ব্যবস্থা  চলবেনা, এই বাংলায় কােন মানব রচিত সংবিধান চলবেনা, এই বাংলায় কােন দেশীয় সংবিধান চলবেনা, এই বাংলায় কােন প্রবীন গুরু মহাদয়ের গড়া সংবিধান চলবেনা, এই বাংলায় সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব সকল ক্ষমতার মালিক জনগন চলবেনা।
তখন ঠিকেই কাফের দাদারা আপনাদের গলার টােনা চেপে ধরবে, আপনাদেরকে বিলাল (রাঃ) এর মতাে, সুমাইয়ার (রাঃ) মতাে, তালহা (রাঃ ) মতাে, যুবাইর (রাঃ) মতাে শাস্তি দিবে, কি ওদেরকে  নির্মােম শাস্তি দিয়েছিলাে, ইতিহাস পড়লে চােখ দিয়ে অশ্রু বিগলিত ভাবে বৃষ্টির ধারার মতো অঝড় ভাবে ঝড়ে পরে যায় চোখের অশ্রু।
আপনারা ওদের মতাে কলেমা পরেন নাই বিধায় আপনাদেরকে কাফেররা শাস্তি দিচ্ছে না, আপনাদের কলেমা পড়াতে ওরা স্বাগতম জানাচ্ছে।
তবে একটি কথা আমার দ্বার্থহীন ভাবে জেনে রাখ, আপনারা যে কলেমা পড়েছেন আপনাদের এই কলেমা পড়াতে কােন মুল্য নেই আল্লাহ ও রাসুলের কাছে,  বরং  এ কলেমা পরে আপনারা নিজের দুকালকেই ধ্বংস  করে দিচ্ছেন।
যেমন পৃথিবীর সুখ  ধ্বংস হচ্ছে আপনাদের,   আপনারা শাষকের পরিবর্তে গােলাম হয়ে যাচ্ছেন,  রাজা বাদশার পরিবর্তে, প্রজা হয়ে যাচ্ছেন, শােষন নির্যাতিত হয়ে যাচ্ছেন।
আর পরকালের ধ্বংস হলাে আপনাদের, আপনারা  মুসলিম হতে যে  সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে মুসলিম হয়েছেন,  তা বাস্তবায়ন করতেছেন না, এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য জীবনের এক ফােটা রক্ত ঘাম দিয়েও চেষ্টা করতেছেন না, তাই আপনারা  আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পরে কুফুরী করতেছেন।
তাই আপনাদের এ তােতা পাখীর মতাে কলেমা উচ্ছারণ করে কােন মূল্য নেই, তাই  আমি আপনাদের সবাইকে আহব্বান করি, সাহাবীদের মতাে কলেমা পড়ে তাদের মতাে মুসলিম হতে, তাহলে আপনাদের এহকাল ও পরকাল দুকালেই সুখ শান্তি আসবে তা না হলে দুকালেই আপনাদের ধ্বংস আর ধ্বংস।

আরও একটু কলেমার অর্থ
ভালাে ভাবে জেনে নেই,
আমরা কােন কলেমা পড়েছি?
আমরা কােন মুসলিম হয়েছি?
আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
 সমাজের কয়েকটি ফিতনা ফাসাদ মুলুক, শিরক বিদআত কুফুরের দাওয়াত দেওয়া?
প্রধান প্রধান শিরক কুফুর ফিতনা ফাসাদ গুলাে এড়িয়ে চলা?
 আমাদের কলেমার  অর্থকি শুধু এই?
খানকায় বসে, মসজিদে বসে, মাযারে বসে, শুধু হু হু হু করে জিকির করা?
 আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
হরতাল ভাংচুর পিকেটিং করা? দেশের সম্পদ ধবংস করা? মাঝে মাঝে রাস্তার উপর কিছু ককটেল বােমা বিষ্ফােরণ করে কিছু সাধারণ জনগনকে আহত নিহত করা?
আমাদের কলেমার অর্থকি শুধু এই?
আল্লাহ রাসুলের প্রতি কুমন্ত্রণা  পোষণ কারী ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ পোষন কারীদের বিরদ্ধে মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ মহা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ করে দেওয়া?
আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর সংবিধানকে আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শুধু ওয়াজ নচিয়ত বক্তিতার মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া?
আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
আল্লাহর সংবিধানকে রাষ্টীয় সংবিধান করার জন্য শুধু মাত্র জিহাদের বক্তিতা দিয়ে শেষ করে দেওয়া?
আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
শুধু মাত্র হাদিস প্রচার করা, নিজের দল প্রতিষ্ঠা করা?
আমাদের কলেমার অর্থকি শুধু এই?
চার মাযহাব প্রতিষ্ঠা করা, চার মাযহাবের এক মাযহাব পালন করা, আবার কারাে কারাে মতে লা মাযহাব প্রতিষ্ঠা করা, কােন মাযহাব পালন না করা, এই বলে সারা বিশ্বে সকল দলের প্রচার প্রসার করা?
আমাদের কলেমার অর্থকি শুধু এই?
মাযহাব নিয়ে লা মাযহাব নিয়ে বাহাস করা, মুসলিমে মুসলিমে মারামারি করা, রক্তপাত করা, ফরজ নামাজের পরে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাতের পক্ষে বিপক্ষে নিয়ে মারামারি করা, ও বিভিন্ন  প্রকার আমলের নিয়ম পদ্ধতি নিয়ে মারামারি করা?
আমাদের কলেমার অর্থকি শুধু এই?
এই সব মারামারি বিচার ফয়সালা মিমাংসার জন্য তাগুত মােনাফেক কাফের মুশরিকের কাছে যাওয়া।
আমাদর কলেমার অর্থকি শুধু এই?
মুসলিমে মুসলিমে দ্বন্ধ সৃষ্টি করা, আমাদের মাঝে বহু দল সৃষ্টি করা, বহু দলের মাঝে বহু মত পার্থক্য সৃষ্টি করা।
আমাদের কলেমার অর্থকি শুধু এই?
তাগুত কাফের মােনাফেকদের সাথে বন্ধুত্ব করা, আর মুসলিদের সাথে শত্রুত্ব করা, মুসলিমদের ধন সম্পদ বাড়ী গাড়ী প্রতি আক্রমন করা, ধবংস করা, আর কাফের মুশরিকদের ধন সম্পদ বাড়ী গাড়ী  রক্ষা করা, পাহারা দেওয়া?
আমাদের কলেমার অর্থ কি শুধু এই?
শুধু মাএ  মসজিদে মসজিদে দাওয়াত দেওয়া, সভা সমাবেশ করা, সভা সমাবেশে দাওয়াত দেওয়া,  তবুও মূল কলেমা, মূল তাওহীদ, মূল ফিতনা ফাসাদ, মূল শিরক কুফুর বিদআতের  দাওয়াত না দেওয়া, মূল বৃক্ষের দাওয়াত না দেওয়া, শুধু মাত্র ডাল পালা শিরা প্রণালীর দাওয়াত দেওয়া?
দেখুন কলেমার দাওয়াত কাকে বলে? কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি  কাকে বলে? সত্যিকারের মুসলিম কাকে বলে?
যেমন  আল্লাহতাআলা মুসা নবী (আঃ) কে পবিত্র তুয়া উপত্যকায় আহব্বান  করে বললাে ওহে মুসা যাও ফেরাউনের কাছে সে সীমালঙ্গন করেছে।
যাও তুমি ঐ  কাফের সর্দারের কাছে, যার ভয়ে শত সাধারণ মানুষ ইসলাম গ্রহন করতে পারতেছেনা, সে আমার দ্বীনের কাজে বড় বাধা হয়েছে, যাও মুসা সেই সর্দারের কাছে, যাও সেই দলপতির কাছে, যাও সেই বড় নেতার কাছে, অবশেষে মুসা নবী চলে গেলাে ফেরাউনের  কাছে তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাে মাধুয্য কণ্ঠে মােহনীয় কণ্ঠে এবং নরম সুরে, আর এ মাধুয্য কণ্ঠে মােহনীয় কণ্ঠে নরম সুরে দাওয়াতের দিক নির্দেশনা আল্লাহতাআলা শিখিয়ে দিলেন।
এভাবে আমাদের শেষ নবীর প্রতি এমনি বাণী পৌছে ছিলাে যেমন আল্লাহতাআলা বললেন।
হে কম্বলধারী (মােহাম্মদ) উঠ এবং তােমার রবের সতর্ক বাণী প্রচার করাে, (কবর ও কিয়ামতের আযাব সম্পর্কে বলাে) এবং তােমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘােষনা করাে।
তাহলে বুঝা গেলাে কলেমার দাওয়াত হলাে স্পষ্ট  ভাবে তাওহীদের দাওয়াত, তারা যে ব্যক্তিকে কলেমার দাওয়াত দিয়েছিলাে, তাকেই পরিপুর্ণ ভাবে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলাে, তাকেই পরিপুর্ন ভাবে সঠিক আকিদা সঠিক তাওহীদের মাঝে নিয়ে এসেছিলাে, তাকেই পরিপুর্ণ ভাবে শিরক কুফুর বর্জন করে কলেমার পথে নিয়ে এসেছিলাে।
আর সকল নবী রাসুলের কলেমার দাওয়াত ছিলাে সকল প্রকার শিরক কুফুর ভ্রান্ত  আকিদা বর্জন করে, সকল প্রকার ভ্রান্ত  মানব রচিত বিধানদাতা সংবিধানদাতা রব ইলাহ বর্জন করে, আল্লাহর সংবিধানের কাছে আত্মসমার্পন করা।
আল্লাহর সংবিধান মেনে নিয়ে জীবন সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
তাইতাে আল্লাহতাআলা সুরা  আল-মুদ্দাসসিরের  ১ থেকে ৩ নং আয়াতে তার রাসুলকে বললেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ
ওহে বস্ত্র আবৃত,(ব্যক্তি মুহাম্মদ (সঃ)
قُمْ فَأَنذِرْ
ওঠ, সতর্ক কর।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
(‌তিনিই একমাত্র উপাস্যদাতা, বিধানদাতা সংবিধানদাতা ঘোষনা করো)

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আশ-শু‘আরা ২১৪ নং আয়াতে।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ
আর তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটাত্মীয় স্বজনদের।

 হাদিসে বণিত আছে।
 ইব্নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং আহ্বান জানালেন, হে বানী ফিহ্র! হে বানী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা জমায়েত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্র“সৈন্য উপত্যকায় চলে এসেছে, তারা তোমাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।” আবূ লাহাব [রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে] বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস নামুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের জমায়েত করেছ? তখন অবতীর্ণ হল, “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের হস্ত দু’টি এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও তার অর্জন তার কোন উপকারে লাগেনি।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৭৭০

এ মর্মে মুসলিম শরীফের একটি হাদিস,
হাদিস টি হলো এই।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়,  তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ। তারপর সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে অমুকের বংশধর! হে অমুকের বংশধর! হে ‘আব্‌দ মানাফ-এর বংশধর! হে ‘আবদুল মুত্তালিব-এর বংশধর! এতে সবাই তাঁর কাছে সমবেত হলো। নাবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শত্রু সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর ‘আযাব সম্পর্কে।
বর্ণনাকারী বলেন, আবূ লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?” তখন এ সূরাহ অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও …...সূরার শেষ পর্যন্ত।” (সূরাহ্‌ লাহাব ১১১ : ১-৫)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৯৬

 তাই কোরআন ও হাদীসের আলোকে বুঝা গেলো,
কােরাইশদের সবার এমন ধারণা  ছিলাে মােহাম্মদ  এমন একটি সময় এমন একটি বিস্বস্ত ব্যক্তি ডাক দিয়েছেন, নিশ্চই কােননা কােন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই কেউ বাসায় থাকেনি সবাই সেই সমাবেশে উপস্থিত  হয়েছিলাে।
তখন মােহাম্মদ (সঃ) সবার প্রতি লক্ষ করে বলেছিলো, আমি আজ তােমাদেরকে এমন একটি কথা বলবাে যা মেনে নিলে, তােমাদের হুকুমে এই বিশ্ব জাহান চলবে, তােমরা সকলে হবে অনেক প্রতাপশালী।
তারা সকলেই শুনার জন্য উদগ্রীব অস্থির  হয়ে গেয়েছিলো, তখন মােহাম্মদ (সঃ) বলে উঠলো সকলেই স্বীকার করে নাও লা ইলাহ ইল্লাহ আল্লাহ ছাড়া আর কােন ইলাহ নেই, উপাস্য নেই, দাসত্ব আনুগত্য নেই, আল্লাহ ছাড়া আর কােন বিধানদাতা নেই, সংবিধানদাতা নেই, আল্লাহই একমাত্র সকল  সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব  ক্ষমতার আধিপত্য।
এই কথা শুনার পরে নেতৃত্ব স্থায়ী লোকেরা সবাই মােহাম্মদ (সঃ) কে তিরিস্কার করতে লাগলাে, মােহাম্মদকে অপমান অপদস্থ  করতে লাগলাে, তুমি আজকে আমাদের সকালের ঘুমটা ভেঙে দিলে, এই বলে সবাই তিরিস্কার করে চলে গেলাে।
আর আপনাদের কলেমা কি? আপনারা কি কখনো কােন সরকার বাহিনীকে কলেমার দাওয়াত দিয়েছেন, তাদের সামনে কি কখনাে বলেছেন আমাদেরকে শুধু একমাত্র আল্লাহর ইবাদত দাসত্ব করতে হবে, এই জমিন আল্লাহর, আল্লাহর আইন দিয়ে, আল্লাহর সংবিধান দিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
আল্লাহ ছাড়া আর কারও আইন দেওয়ার ক্ষমতা নেই।
আল্লাহই হচ্ছে এই বিশাল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী, দেশের জনগন কিছুতেই সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেনা, মানব রচিত সংবিধান দেশীয় সংবিধান, রাষ্ট্র পরিচালনার সংবিধান হতে পারেনা।
আপনারা  কি কােন দেশের সরকারকে, কােন দেশের মন্ত্রী এমপিকে, এমন দাওয়াত দিয়েছেন? তাহলে আপনারা  কােন কলেমার দাওয়াত দিচ্ছেন  মানুষের কাছে?
মানুষেরা আপনাদের কােন কলেমার দাওয়াত গ্রহন করতেছে?  মানুষেরা কােন ধরণের  মুসলিম হচ্ছে? সরকারদেরকে কােন কলেমার দাওয়াত দিচ্ছেন,  তাদেরকে কােন ধরনের মুসলিম করতেছেন?
একবার ভেবে দেখেছেন ওহে তাবলীগের ভাইয়েরা, ওহে মাযহাবী ভাইয়েরা, ওহে লা মাযহাবী ভাইয়েরা, ওহে আহলে হাদীস ভাইয়েরা, ওহে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ভাইয়েরা, ওহে জামাতে ইসলামি ভাইয়েরা, ওহে হেফাজতে ইসলামী ভাইয়েরা, ওহে  খিলাফত মজলিসের ভাইয়েরা, ওহে চরমােনাই দেওয়ানবাগী আটরশি ও বিভিন পীরের  অনুসারী ভাইয়েরা, আপনারা একটু ভেবে দেখেন, কােন কলেমার দাওয়াত দেশের সরকারদেরকে দিচ্ছেন, দেশের মানুষদেরকে দিচ্ছেন, তাদেরকে কােন ধরনের মুসলিম করতেছেন।
সত্যিকারের মুসলিম হওয়ার প্রধান শর্ত হলাে সকল প্রকার শিরক কুফুর তাগুত বর্জন করে মুসলিম হওয়া।
যেমন আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা  নাহলের  ৩৬ নং আয়াতে।
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِى كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلطَّٰغُوتَۖ
আমি প্রত্যেক জাতির কাছে  রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ইবাদাত কর আর তাগুতকে বর্জন কর।
 আর আপনারা  ওদেরকে শিরক কুফুর তাগুত অবস্থাতে  কলেমার দাওয়াত দিচ্ছেন? ওরা কলেমা পড়তেছে, আবার ওরা শিরক কুফুরও করতেছে, ওরা আল্লাহর নামাজও পড়তেছে ওরা আবার নামাজ পড়ার পরে আল্লাহদ্রােহী কাজও করতেছে, ওরা আল্লাহকে মানতেছে, আবার ওরা তাগুতকেও মানতেছে।
অথচ আল্লাহ তাআলা ওদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
তােমারা একমাত্র আমার ইবাদত দাসত্ব করো  আর সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করাে।
এখানে আমরা তাগুত কি? তাগুত কাকে বলে? তাগুত কত প্রকার? এর বিস্তারিত আলোচনা জেনে নেই।
তাফসীর লেখক আবু বকর যাকারিয়া তিনি সুরা বাকারাহ ২৫৬ নং আয়াতে তাগুত শব্দের   তাফসীর করেছেন।
তাগূত’ শব্দটি আরবী ভাষায় সীমালংঘনকারী বা নির্ধারিত সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তিকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায় তাগুত  বলা হয়ে থাকে এমন প্রত্যেক ইবাদাতকৃত বা অনুসৃত অথবা আনুগত্যকৃত সত্তাকে, যার ব্যাপারে ইবাদতকারী বা অনুসরণকারী অথবা আনুগত্যকারী তার বৈধ সীমা অতিক্রম করেছে আর ইবাদাতকৃত বা অনুসৃত অথবা আনুগত্যকৃত সত্তা তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছে বা সেদিকে আহবান করেছে। [ইবনুল কাইয়্যেম: ইলামুল মু'আক্কোয়ীন] সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি যে, তাগুত  এমন বান্দাকে বলা হয়, যে বন্দেগী ও দাসত্বের সীমা অতিক্রম করে নিজেই প্রভূ ও ইলাহ হবার দাবীদার সাজে এবং আল্লাহ্‌র বান্দাদেরকে নিজের বন্দেগী ও দাসত্বে নিযুক্ত করে।
আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় বান্দার প্রভূত্বের দাবীদার সাজার এবং বিদ্রোহ করার তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বান্দা নীতিগতভাবে তাঁর শাসন কর্তৃত্বকে সত্য বলে মেনে নেয়। কিন্তু কার্যত তার বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করে। একে বলা হয় ‘ফাসেকী’। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে আল্লাহ্‌র শাসন-কর্তৃত্বকে নীতিগতভাবে মেনে না নিয়ে নিজের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় অথবা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে অন্য কারো বন্দেগী ও দাসত্ব করতে থাকে। একে বলা হয় ‘কুফর ও শির্ক’। তৃতীয় পর্যায়ে সে মালিক ও প্রভূর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তার রাজ্যে এবং তার প্রজাদের মধ্যে নিজের হুকুম চালাতে থাকে। এ শেষ পর্যায়ে যে বান্দা পৌছে যায়, তাকেই বলা হয় তাগুত।
এ ধরণের তাগুত  অনেক রয়েছে। কিন্তু প্রসিদ্ধ তাগুত ওলামায়ে কেরাম পাঁচ প্রকার উল্লেখ করেছেন।
 ১, শয়তান, সে হচ্ছে সকল প্রকার তাগূতের সর্দার। যেহেতু সে আল্লাহ্‌র বান্দাদেরকে আল্লাহ্‌র ইবাদাত থেকে বিরত রেখে তার ‘ইবাদাতের দিকে আহবান করতে থাকে, সেহেতু সে বড় তাগূত।
২, যে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান রয়েছে বলে দাবী করে বা অদৃশ্যের সংবাদ মানুষের সামনে পেশ করে থাকে। যেমন, গণক, জ্যোতিষী প্রমূখ।
 ৩,  যে আল্লাহ্‌র বিধানে বিচার ফয়সালা না করে মানব রচিত বিধানে বিচার-ফয়সালা করাকে আল্লাহ্‌র বিধানের সমপর্যায়ের অথবা আল্লাহ্‌র বিধানের চেয়ে উত্তম মনে করে থাকে। অথবা আল্লাহ্‌র বিধানকে পরিবর্তন করে বা মানুষের জন্য হালাল-হারামের বিধান প্রবর্তন করাকে নিজের জন্য বৈধ মনে করে।
 ৪,  যার ইবাদাত করা হয় আর সে তাতে সন্তুষ্ট।
৫,  যে মানুষদেরকে নিজের ‘ইবাদাতের দিকে আহবান করে থাকে।
উপরোক্ত আলোচনায় পাঁচ প্রকার তাগূতের পরিচয় তুলে ধরা হলেও তাগূত আরও অনেক রয়েছে। [কিতাবুত তাওহীদ]
এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত নীতিমালার আলোকে আমরা সকল প্রকার তাগূতের পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হব।
[১] আল্লাহ্‌র রুবুবিয়্যত তথা প্রভূত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্যের দাবী করা।
[২] আল্লাহ্‌র উলুহিয়াত বা আল্লাহ্‌র ইবাদাতকে নিজের জন্য সাব্যস্ত করা। এ হিসেবে আল্লাহ্‌র রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্য যেমন, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, জীবিতকরণঃ, মৃত্যুদান, বিপদাপদ থেকে উদ্ধারকরণঃ, হালাল হারামের বিধান প্রবর্তন ইত্যাদিকে যে ব্যক্তি নিজের জন্য দাবী করবে সে তাগূত। অনুরূপভাবে আল্লাহ্‌কে ইবাদাত করার যত পদ্ধতি আছে যে ব্যক্তি সেগুলো তার নিজের জন্য চাইবে সেও তাগূত । এর আওতায় পড়বে ঐ সমস্ত লোকগুলো যারা নিজেদেরকে সিজদা করার জন্য মানুষকে আহবান করে। নিজেদের জন্য মানত, যবেহ্‌, সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদির আহবান জানায়।
[৩] তাগূতকে অস্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, তাগূত নেই বলে বিশ্বাস পোষণ করা। বরং তাগূতকে অস্বীকার করা বলতে বুঝায় আল্লাহ্‌র ইবাদাত ছাড়া অন্য কারো জন্য ইবাদাত সাব্যস্ত না করা এবং এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহ্‌র ইবাদাত ছাড়া সকল প্রকার ইবাদাতই বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আর যারা আল্লাহ্‌র বৈশিষ্ট্যে কোন কিছু তাদের জন্য দাবী করে থাকে তাদেরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এ বিশ্বাস করা যে তাদের এ ধরণের কোন ক্ষমতা নেই।
[৪] ইসলামকে যারা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে তারা যেহেতু ধ্বংস ও প্রবঞ্চনা থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, সে জন্য তাদেরকে এমন লোকের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যে কোন শক্ত দড়ির বেষ্টনকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে পতন থেকে মুক্তি পায়। আর এমন দড়ি ছিঁড়ে পড়ার যেমন ভয় থাকে না, তেমনিভাবে ইসলামেও কোন রকম ধবংস কিংবা ক্ষতি নেই। তবে দড়িটি যদি কেউ ছিড়ে দেয় তা যেমন স্বতন্ত্র কথা, তেমনিভাবে কেউ যদি ইসলামকে বর্জন করে, তবে তাও স্বতন্ত্র ব্যাপার ।
তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া  প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ২৩৪,২৩৫
আর আপনারা ওদেরকে এমন কলেমার দাওয়াত দিয়ে ইসলামের দাখিল  করতেছেন, ওরা আল্লাহর ইবাদতও করে ওরা তাগুতের ইবাদতও করে, ওরা আল্লাহর ইবাদতও করে ওরা সাথে সাথে শিরক কুফুরও করে, ওরা আল্লাহর হুকুম বিধান মানে ওরা সাথে সাথে তাগুতের বিধানও মানে, ওরা আল্লাহর সংবিধান মানে সাথে সাথে নিজেও সংবিধান রচনা করে দেশ রাষ্ট্র পরিচালনা করে, ওরা আল্লাহকে রব মানে সাথে সাথে দেশের  প্রবীণ ব্যক্তিদেরকে রব হিসাবে মানে, আপনারা ওদেরকে এমন কলেমার দাওয়াত দিচ্ছেন, ওদেরকে এমন মুসলিম করতেছেন, এর হিসাব আপনাদেরকে দিতে হবে ওহে আলেমরা।
কারণ আপনারা ওদেরকে হক কলেমার দাওয়াত না দিয়ে ওদেরকে শিরক কুফুর যুক্ত
 কলেমার দাওয়াত দিচ্ছেন, আপনাদের কর্তব্য হলাে  ওদেরকে হক কলেমার দাওয়াত দেওয়া,   ওরা মানুক আর নাই মানুক, এতে আপনাদের দেখার বিষয় না, আর আপনারা ওদেরকে বাতিল কলেমার দাওয়াত দিয়ে, শিরক কুফুর যুক্ত কলেমার দাওয়াত দিয়ে,  ওদের কাছে সম্মানিত হচ্ছেন, ওদের কাছে প্রিয় ভাজন হচ্ছেন।
আর ওরা এত  সুন্দর সুফীগিরী বাবুগীরি
 আরাম আয়েশ থাকা কলেমার দাওয়াত পাওয়া মাত্রই গ্রহণ করে নিচ্ছে, এর জন্য জবাবদিহি আপনাদেরকে করতে  হবে, কারণ আপনারা ওদেরকে ধ্বংস  করে দিচ্ছেন ।
আপনাদের পার্থিব স্বার্থ হাসিলের আশায়, আপনারা আল্লাহর দ্বীনকে বিকৃত করতেছেন, আল্লাহর উলুহিয়্যাত রুববিয়্যাত সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব দাসত্ব ধ্বংস করতেছেন, পার্থিব স্বার্থ হাসিলের আশায়, এজন্য আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।
 আপনারা কি জানেন ইহুদিদের আলেম প্রাদীরা, খৃষ্টানদের ধর্ম যাযকরা, কেন মুশরিক হয়েছিলাে? অথচ ওরা মানুষকে নামাজ পড়ার কথা বলতাে, রােজা থাকার কথা বলতাে, যাকাত দিতে বাধ্য করতাে, হজ্জ্ব সাথে নিয়ে করতাে, তার পরেও কেন তারা মুশরিক হয়েছিলাে? কেন কাফের হয়েছিলাে?
এই কারণে  তারা কাফের হয়েছিলো,  মুশরিক হয়েছিলো, তারা নিজের স্বাথে  আল্লাহর দ্বীনকে বিকৃত করেছিলো, তারা কলেমার অর্থকে বিকৃত করেছিলাে, তারা নিজে বিধান রচনা করে, মানুষদেরকে বাতিল কলেমার প্রতি, শিরক কুফর যুক্ত কলেমার প্রতি মানুষকে আহব্বান করতো, এ কারণে তারা কাফের  মুশরিক হয়েছিলাে।
তাই আপনাদেরকে এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, আপনাদেরকে এ ভুল পথ থেকে  ফিরে আসতে হবে,  ইসলামের সঠিক দাওয়াত দিতে হবে, তা নাহলে তাদের মতো আপনাদের ও অবস্থা হতে পারে।
যাই হউক এখন মূল কথায় আসি, আপনারা এই শিরক কুফর যুক্ত কলেমার দাওয়াত মানুষের কাছে সরকারের কাছে পৗেছে দিয়ে, আল্লাহর রুববিয়্যাত উলুহিয়্যাত সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব দাসত্ব রব ইলাহ কে অস্বীকার করাইতেছেন, শুধু আপনাদের এ বাতিল কলেমার দাওয়াতের কারণে।
 এখানে আমি একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই, এই বাতিল শিরক কুফুর যুক্ত কলেমার দাওয়াত দেওয়ার কারণে, আপনাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, কারণ আপনারা ওদের কাছে সম্মানিত হওয়ার জন্য, ওদের কাছে প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য, আপনারা আপনাদের পার্থিব স্বার্থ হাসিল করার জন্য, আপনারা  সুফীগিরী বাবুগীরি আরাম আয়েশে থাকার জন্য, ওদের কাছে হক কলেমার দাওয়াত প্রচার না করে, বাতিল কলেমার দাওয়াত প্রচার করতেছেন।
 হয়তাে আপনারা এখন ভাবতে পারেন হক কলেমার দাওয়াত দিতে গিয়ে কি, আমরা রাসুলের মতাে নির্যাতিত হবাে?  মূসা নবীর মতাে নির্যাতিত হবাে? লূত নবীর মতাে নির্যাতিত হবাে? নূহ নবীর মতাে নির্যাতিত হবাে? সাহাবীদর মতাে নির্যাতিত হবাে? তাবে তাবেঈদের মতাে, সালফে সালেহীনদের মতাে নির্যাতিত হবাে? এ কিছুতেই আমরা সহ্য করতে পারবাে না, তাই আমরা এ হক কলেমার দাওয়াত দিতে পারবো না।
তাহলে আমি আপনাদেরকে বলবাে, আপনাদের এই বাতিল কলেমার দাওয়াত দেওয়ার, শিরক কুফর যুক্ত কলেমার দাওয়াত দেওয়ার কোন প্রয়ােজন নেই, অপরকে পথভ্রষ্ট করার কোন প্রয়ােজন নেই, কারন আপনারা নিজের পাপের বােঝা বহন করতে পারবেন না, আবার অপরের পাপের বােঝা  বহন করবেন কি ভাবে? তার চেয়ে ভালাে  ঘরের কােনে বিড়ালের মতাে চুপচাপ বসে থাকা।
তারপরেও যদি এই বাতিল কলেমার দাওয়াত প্রচার  করেন, শিরক কুফর যুক্ত কলেমার দাওয়াত প্রচার করেন, তাহলে ভালাের চেয়ে ক্ষতিটাই বেশি করবেন, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেয়ে আল্লাহর দ্বীন ধবংস করার কাজটাই বেশি করবেন, আল্লাহর সংবিধান তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে, খিলাফত ধ্বংস করার কাজটাই বেশি করবেন, তাই  আপনাদের ঘরের কােনে বিড়ালের মতাে চুপচাপ বসে থাকাই ভালাে, আর যদি পারেন তাহলে হক কলেমার দাওয়াত প্রচার করেন, দেশ জাতি সমাজ পরিবার  ও রাষ্ট্রীয় প্রধানদের   কাছে।
তবে জেনে রাখেন ইসলাম অবশ্যই হক, যে এই হক কলেমার দাওয়াত দিবে, হকের পথে থাকবে, হকের পক্ষে  লড়বে, তাকে দেশের  সরকাররা কিছুতেই ভালােবাসবেনা, প্রয়ােজনে তাকে তাগুত সরকারের কাছে নির্যাতিত হতে হবে, কারন যারা হকের কথা বলেছে, হকের পক্ষে  লড়াই করেছে,  তারা তাগুত সরকারের শত্রু, তবে তারা আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু, রাসুলের প্রকৃত বন্ধু, তারাই শুধু মুক্তি পাবে।
কারণ? রাসুল (সঃ) বলেছেন আমার  মৃত্যুর পরে আমার উম্মতেরা ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে, এর মাঝে একটি হলাে হক, আর সেই দলটি জান্নাতী।
আর বাকি ৭২টি দল হলাে বাতিল, শিরক কুফুর যুক্তকারী, তারা হবে জাহান্নামী।
তখন সাহাবীরা প্রশ্ন  করলাে সেই হক দলটি কারা,  তখন রাসূল (সঃ) বললেন আমি আমার সাহাবীরা যে নীতি আদর্শ মাঝে অটল আছি, যে বিধি বিধানের মাঝে অটল আছি, এই নীতি আদর্শ বিধি বিধানের মাঝে যে অটল থাকবে তারাই হলাে হক সঠিক দল, তারাই হলাে জান্নাতী।
হাদিসটি হলো এই,
আওফ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইহূদী জাতি একাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে একটি ফেরকা জান্নাতী এবং অবশিষ্ট সত্তর ফেরকা জাহান্নামী। খৃস্টানরা বাহাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়েছে। তার মধ্যে একাত্তর ফেরকা জাহান্নামী এবং একটি ফেরকা জান্নাতী। সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মাত তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে। তার মধ্যে একটি মাত্র ফেরকা হবে জান্নাতী এবং অবশিষ্ট বাহাত্তরটি হবে জাহান্নামী। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ফেরকাটি জান্নাতী। তিনি বলেনঃ জামাআত। (একতাবদ্ধ দলটি)
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৯৯২
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বানী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মাত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সে দল কোনটি? তিনি বললেনঃ আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৪১
 তাহলে এ হাদিস থেকে বুঝা গেলাে বাতিল কলেমার যে দাওয়াত দেয়, যে শিরক কুফুর যুক্ত কলেমার দাওয়াত  দেয়, সে বাতিল দল, তার পরিণাম  হবে জাহান্নাম, রাসুল (সা)  এর হাদীস অনুযায়ী।
তাইতাে আল্লাহ তার কােরআনে সুরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতে ঘােষনা করে দিয়েছেন।
তারা অধিকাংশ মানুষ (আমার কলেমা স্বীকার করার পরেও) আমার প্রতি ঈমান আনার পরেও তারা মুশরিক।
তাই আসুন আমরা কেউ  বাতিল কলেমার দাওয়াত না দিয়ে, শিরক কুফুর যুক্ত কলেমার দাওয়াত না দিয়ে, আমরা  যতটুকু পারি তথটুকু হক কলেমার  দাওয়াত প্রচার করি।
জেনে রাখ ১ জন হক কলেমার সাক্ষ্য দান কারী ব্যত্তি,  ১০০ জন ভ্রান্ত আলেমের চেয়ে উত্তম শক্তিশালী।
জেনে রাখ ১ জন হক কলেমার পথের সৈনিক, ৫০০ জন ভ্রান্ত কলেমার পথের সৈনিকের চেয়ে উত্তম শক্তিশালী।
তাই আল্লাহতাআলা তার কালামে সুরা আল ইমরানের ১৩৯ ঘােষনা  করে দিয়েছেন,
وَلَا تَهِنُوا۟ وَلَا تَحْزَنُوا۟ وَأَنتُمُ ٱلْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
 তােমরা হতাশ হইয়ােনা তােমরা নিরাশ হইয়ােনা তােমরাই জয়ী হবে যদি তােমরা মােমিন হয়ে থাকাে।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-আনফালের ৬৫ আয়াতে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ حَرِّضِ ٱلْمُؤْمِنِينَ عَلَى ٱلْقِتَالِۚ إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَٰبِرُونَ يَغْلِبُوا۟ مِا۟ئَتَيْنِۚ وَإِن يَكُن مِّنكُم مِّا۟ئَةٌ يَغْلِبُوٓا۟ أَلْفًا مِّنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ
হে নাবী! মু’মিনদেরকে জিহাদের জন্য উদ্ধুদ্ধ কর, তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন ধৈর্যশীল মুজাহিদ থাকে তাহলে তারা দু’শ জন কাফিরের উপর জয়যুক্ত হবে, আর তোমাদের মধ্যে এক‘শ জন থাকলে তারা এক হাজার কাফিরের উপর বিজয়ী হবে, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নেই, কিছুই বোঝেনা।

তাইতাে দেখা যায় ইসলামের সকল যুদ্ধে মুসলিদের সংখ্যা ছিলাে কম, আর কাফিরদের সংখ্যা ছিলাে বেশি, তবুও কাফেররা পরাজিত হয়েছিলাে, মুসলিমরা জয়ী হয়েছিলাে, এ একটি মুসলিম, মোমিন, মোজাহিদ, নামের জলন্ত প্রমাণ,   এ একটি সিংহ নামের জলন্ত  প্রমান।
তাই আপনারা হক কলেমার দাওয়াত দিতে গিয়ে যদি সে দাওয়াতে একজন ব্যক্তিও ইসলাম  গ্রহন করে, তাকেই খাটি মোমিন মোত্তাকি হিসাবে তৈরী করে নাও, তাকেই সিংহ রুপে তৈরি করে নাও,  তার কাছ থেকে শিরক কুফুর দুরীভুত করে দাও, এই একজনেই আপনার জন্য যথেষ্ট, এই একজন ব্যক্তিকে হক কলেমার দাওয়াত দেওয়ার কারনে, হয়তো আল্লাহর আপনাকে  পুরস্কৃত করতে পারেন, হয়তো আল্লাহ আপনাকে এই ওসিলায় ক্ষমা করে দিতে পারেন।  
তবে এই হক কলেমার দাওয়াত দিতে গিয়ে অবশ্যই অবশ্যই প্রতি পদে পদে বাধা বিপদ বালা মসিবত আসবে, সে কথা আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন।
মূলত এটা কলেমা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য প্রাথমিক পরিক্ষা, অবশ্যই অবশ্যই যারা কলেমার দাবী স্বীকার করেছে, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ পরিক্ষা করবেন।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আল বাকারার ১৫৫ নং আয়াতে বলেছেন।
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ
 নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরীক্ষা করব; এবং ঐ সব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর।

আর যারা কলেমা স্বীকার করার পরে এমন ক্ষতি বিপদের সম্মুখীন হয় নাই, তাদের প্রতি জুলুম নির্যাতন আসে নাই, তাদের প্রতি  বালা মুসিবত আসে নাই, তাহলে বুঝতে হবে তাদের কলেমা স্বীকার  হয় নাই, তাইতাে তাদের প্রতি কােন বালা মসিবত বিপদ আপদ জুলুম নির্যাতন আসতেছেনা, তাইতাে কাফের মুশরিকরা তাদের প্রতি যুলুম নির্যাতন অন্যায় অবিচার করতেছেনা, আর যদি তারা সত্যিকার মুসলিম হতাে, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই তাদের প্রতি পরিক্ষা আসতাে।
যেমন আল্লাহতাআলা  সুরা বাকারায় ২১৪ নং আয়াতে বলেছেন।
 أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوْا۟ مِن قَبْلِكُمۖ مَّسَّتْهُمُ ٱلْبَأْسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوا۟ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصْرُ ٱللَّهِۗ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ ٱللَّهِ قَرِيبٌ
তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমরা সোজা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমরা এখনও তাদের অবস্থা প্রাপ্ত হওনি যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে; তাদেরকে বিপদ ও দুঃখ স্পর্শ করেছিল এবং তাদেরকে প্রকম্পিত করা হয়েছিল; এমন কি রাসূল ও তার সাথে  বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ বলেছিলঃ কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? সতর্ক হও, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আলে ইমরানের ১৪২ নং আয়াতে।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ جَٰهَدُوا۟ مِنكُمْ وَيَعْلَمَ ٱلصَّٰبِرِينَ
তোমরা কি ধারণা করছ যে, তোমরা সোজা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ কারা জিহাদ করে ও কারা ধৈর্যশীল আল্লাহ তোমাদের মধ্য হতে তাদেরকে এখনও পরীক্ষা করেননি?
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ১৬ নং আয়াতে।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تُتْرَكُوا۟ وَلَمَّا يَعْلَمِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ جَٰهَدُوا۟ مِنكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَا رَسُولِهِۦ وَلَا ٱلْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةًۚ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ
তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে যতক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ না প্রকাশ করেন তোমাদের মধ্যে কারা মুজাহিদ এবং কারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করেনি?

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা সূরা আল-আনকাবুতের: ২ নং আয়াতে।
أَحَسِبَ ٱلنَّاسُ أَن يُتْرَكُوٓا۟ أَن يَقُولُوٓا۟ ءَامَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ
মানুষ কি মনে করেছে যে, আমরা ঈমান এনেছি’ এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেয়া হবে?

 সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে।
খাব্‌বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত খাব্‌বাব (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট হাযির হলাম। তখন তিনি তাঁর নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে কা’বা গৃহের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। আমরা মুশরিকদের পক্ষ হতে কঠিন নির্যাতন ভোগ করছিলাম। তাই আমি বললাম, আপনি কি আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করবেন না? তখন তিনি উঠে বসলেন এবং তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বের ঈমানদারদের মধ্যে কারো কারো শরীরের হাড় পর্যন্ত তামাম গোশত ও শিরা উপশিরাগুলি লোহার চিরুণী দিয়ে আঁচড়ে বের করে ফেলা হত। কিন্তু এসব নির্যাতনও তাদেরকে দ্বীন হতে বিমুখ করতে পারত না। তাঁদের মধ্যে কারো মাথার মাঝখানে করাত রেখে তাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলা হত। কিন্তু এ নির্যাতনও তাঁদেরকে তাঁদের দ্বীন হতে ফিরাতে পারত না। আল্লাহ্‌র কসম, আল্লাহ্‌ তা’আলা অবশ্যই দ্বীনকে পরিপূর্ণ করবেন, ফলে একজন উষ্ট্রারোহী সান’আ হতে হাযারা মাউত পর্যন্ত একাই সফর করবে। আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কাউকে সে ভয় করবে না। বারী (রহঃ) আরো বেশি  বর্ণনা করেন - এবং তার মেষ পালের উপর নেকড়ে বাঘের আক্রমণ ছাড়া অন্য কোন ভয় সে করবে না।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৫২
তাহলে এসব আয়াত ও হাদিস থেকে বুঝা গেলাে কলেমার দাবী স্বীকার করলে অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ তাকে পরিক্ষা করবেন, আর যারা মুসলিম হওয়ার পরে তাদের জীবনে কােন পরিক্ষা আসে নাই, কােন আপদ বিপদ বালা মুসিবত জেল জরিমানা ফাসি কারারদ্ধ আসে নাই, তারা সত্যিকার রুপে কলেমা স্বীকার করে নাই, তারা সত্যিকারের খাটি  মুসলিম হয় নাই, তাই তাদের প্রতি কােন পরিক্ষা আসতেছেনা, তারা নামে মাত্র মুসলিম হয়েছে।
 হয়তাে এখন তারা বলতে পারে এ দুঃখ কষ্ট বালা মুসিবত লাঞ্চনা রাসুল ও সাহাবীদের জীবনে চলে গেছে বর্তমান আমাদের যুগে এ পরিক্ষা প্রযোজ্য  নয়, আর বর্তমান এমন পরিক্ষার সম্মুখীন কেউ কি হচ্ছে?
আমি বলবাে আপনারা সবাই শিয়ালের গর্তে বসবাস করতেছেন, আপনাদের ঘরের পাশে কি হচ্ছে  এই খবরটাই আপনাদের জানা নেই।
দেখুন ইতিহাস এই ১৯ শতাব্দীত কতজন ঈমানের পরিক্ষার দাবীতে কলেমার পরিক্ষার দাবীতে শহীদ হয়ে গেলাে।
দেখুন ইতিহাস শহীদ সাইয়েদ কুতুব (রহঃ) যাকে মুসলিম সমাজের আলেম ওলামারা সবাই চিনে, জন্ম ১৯০৬ সাল মিশর উসয়ুত জেলার মুশা নামক গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন, সে অনেক বই রচনা করেছিলেন, তার সব বই গুলি এক বিরল উল্লেখ যােগ্য, তার সব বই গুলির মাঝে তাওহীদের মূল দামামা মূল শিখা ছিলাে, তার বিশেষ উল্লেখ যােগ্য দুইটি বই।
 ১, তাফসীরে ফি যিযালিল কােরআন,
 ২, মায়ালেম ফীত তরীক (মানে দিকনির্দেশনা) এই দুটি বই রচনা করার কারনে তার ফাসি হয়, ১৯৬৬ সালে ২৯ শে আগষ্ট  সে সময়ে আরাে অনেকে ঈমানের দাবীতে সাধারণ মুসলিমদেরকে ফাসি দেওয়া হয়েছে, কাউকে গুলি করে মারা হয়েছে, দােষ ছিলা তাদের একটাই তারা হক কলেমার দাওয়াত প্রচার করেছিলাে, তারা হক কলেমার দাওয়াত দিয়েছিলাে, তাই তাদেরকে কাফেররা গুলি করে মেরেছে, ফাসি দিয়ে মেরেছে।
তারপর আসেন ডঃ শহীদ আব্দুল্লাহ আযযাম (রঃ) যাকে মুসলিম সমাজের আলেম ওলামারা সবাই চিনে, তার জন্ম ১৯৪১ সালে ফিলিস্তিনের জেনিস প্রদেশে যা একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আসবাহ আল হারতিয়া, ১৯৬৬ সালে তিনি ইসলামিক আইন বিষয় বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
 ১৯৬৭ সালে তার প্রথম যুদ্ধ ইহুদিদের সাথে শুরু হয় ১৯৭০ সালে তিনি জর্দানে ইসরাঈলী আগ্রাসনী বাহিনীর বিরদ্ধে জিহাদে যােগদান করেন, এভাবেই যুদ্ধ চললাে কিছুদিন, পরে তিনি আবার লেখাপড়ায় মনােনিবেশ করলেন কারন তার ভাবনা এই অল্প শিক্ষা দিয়ে কিছু করা যাবেনা চলে এলেন মিশনে ভর্তি হলেন আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে,  ১৯৭১ সালে তিনি আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পান্ডিতের উপাদি  পেলেন, ১৯৮০ সালে তিনি আফগানিস্তানে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন এভাবে দীর্ঘ ৯ বছর যুদ্ধ চালিয়ে গেলাে কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে, এর মাঝে কাফের মােনাফেকরা তাকে শত হাজারবার  হত্যা করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাে, কিন্তু তাকে তারা হত্যা করতে পারেনি, অবশেষে ১৯৮৯ সালে তাকে হত্যা করার জন্য এক ভয়াভয় ষড়যন্ত্র  করেছিলাে।
ঘটনাটি হলাে এই, তিনি পেশােয়ারের এক মসজিদে নিয়মিত জুম্মার নামাজ পড়াতেন, তার বক্তিতা শুনার জন্য দুর-দুরান্তর থেকে লােক আসতাে, সেই মসজিদের মিম্বারের নিচে কাফের মােনাফেকরা একটি শক্তিশালী টিএনটি বােমা রেখে দিয়েছিলাে এটা এত ভয়ানক ছিলাে বিষ্ফােরণ হলে পুরা মসজিদটাই ধ্বস্তে যেত, কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা ছিলাে ভিন্ন , তাহা বিষ্ফােরণ হয়নি, তার কিছুদিন পরে ১৯৮৯ সালের ২৪ শে নভেম্বর শুক্রবার শহীদ আব্দুল্লাহ আযযাম যে পথ দিয়ে জুম্মার নামাজ পড়তে যায়, সেই পথে বােমা বিষ্ফােণের মাধ্যমে শহীদ করা হয়।
         
তার পরে আসেন বেশি দিনের ইতিহাস নয়, এইতাে কয়েক বছর আগের ইতিহাস, ওসামা-বিন লাদেন যাকে কাফেররা শহীদ করেছে, তাকে মুসলিম সমাজের সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে আলেম ওলামারা সবাই চিনে,  এভাবে আরও অজস্র  কলেমার দাবীদার মুসলিমদেরকে শহীদ  করা হলাে, যার সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়, এদের অপরাধ ছিলাে একটাই এরা হক কলেমা পড়েছিলো, এরা হক কলেমার দাওয়াত প্রচার প্রসার করেছিলো, তাই এদেরকে ফাসি দেওয়া হয়েছে, এদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে,
এমনকি আমাদের বাংলাদেশেও এমন কিছু ঘটনা আছে যাদেরকে বিগত দিনে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়েছে, এদেরও অপরাধ একটাই এরা হক কলেমা পড়েছিলো, এরা হক কলেমার দাওয়াত প্রচার প্রসার করেছিলাে, তারা বলেছিলো এই বাংলার জমিনে আল্লাহর আইন চলিবে।
 যেমন আল্লাহতাআলা সুরা ইউসুফের ৪০ সুরা নং আয়াতে বলেছেন।

 إِنِ ٱلْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّآ إِيَّاهُۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلْقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
 হুকুম (বিধান) দেয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে, আর কারও ইবাদাত করবেনা; এটাই সরল সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।

তাইতো তারা বলেছিলো গণতন্ত্রের আইন চলবে না,  আল্লাহর জমিনে কােরআন তন্ত্রের আইন চলবে, এটাই ছিল তাদের মূল অপরাধ,  তাই তাদেরকে সস্ত্রাস জঙ্গীবাদ মৌলবাদ উগ্রবাদ চরমপন্ত্রী  আক্ষ্যা দিয়ে শত শত মিথ্যা মামলায় জরিত করেছিলো, অবশেষে তাদের মূল নেতাদের ফাঁসি দিয়ে, তাদের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো, শুধু তাদের অপরাধ একটাই, এই হক কলেমার দাওয়াত দেওয়া, এবং হক কলেমার কথা বলা।
তবে তাদেরও কিছু ভুল ছিলো দ্বীন কায়েম করার পথে, তাদের বড় ভুল যে, তা হলো তাদের পদ্ধতি গত ভুল, এক কথায় তাদের উদ্দেশ্য ঠিক ছিলো, কিন্তু তাদের পদ্ধতি  ভুল ছিলো।
যায় হউক তাই আমি বলবো যারা এই হক কলেমার পড়েছে, হক কলেমার দাওয়াত প্রচার প্রসার করতেছে, তাদেরকেই জঙ্গী সন্ত্রাসী মৌলবাদী বলে আক্ষ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের প্রতি নেমে আসতেছে অমানবিক জুলুম নির্যাতন, তাদেরকে কাফের মােনাফিক তাগুতরা দেখতে পায়না, তাদের পিছে লেগে আছে সর্বদা তাদের ক্ষতি করার জন্য, আর যাদের কলেমা স্বীকার করার পরে কাফেররা তাদেরকে জঙ্গী সন্ত্রাসী মৌলবাদী উগ্রবাদী চরমপন্ত্রী  এমন কিছু আক্ষ্যা দেয়না, তাদের পিছু কাফের মুশরিক মুনাফিকরা লাগেনা, তাহলে বুঝা যাবে তাদের কলেমা স্বীকার হয় নাই, তারা হক কলেমা পড়ে নাই, তারা বাতিল কলেমা পড়েছে, তারা শিরক কুফুর যুক্ত কলেমা পড়েছে, তাই কাফেররা তাদেরকে সন্ত্রাসী মৌলবাদী জঙ্গীবাদী আক্ষ্যা দেয়না, তাই কাফের মুনাফিকরা তাদের পিছু লাগেনা। তাই কাফের তাগুতরা তাদেরকে সাহায্য সহযােগিতা করে, তাদেরকে আহলান সাহলান স্বাগতম জানায়, তাদের ইবাদত করার জন্য মসজিদ নির্মাণ করে দেয়, এবং তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযােগিতা করে।
তাই আমি তাদেরকে অনুনয়ের সাথে আহব্বান  করবো, মুসলিম দাবি করলে সেই হক কলেমা পড়তে হবে, সেই শিরক কুফর মুক্ত কলেমা পড়তে হবে, তবেই তারা সত্যিকারের খাটি মুসলিম হবে।
আর যদি তারা বাতিল শিরক কুফুর যুক্ত কলেমা পড়ে, তাহলে তারা কিছুতেই সত্যিকারের খাটি মুসলিম হবে না, তারা হবে মিশ্রিত  মুসলিম, তাদের আমল গুলাে হবে মিশ্রিত আমল, জেনে রাখ আল্লাহ যেমন পবিত্র, তেমনি আল্লাহ পবিত্র আমলে গ্রহণ করে, আল্লাহ কিছুতেই মিশ্রিত আমল গ্রহণ করবে না।

 কলেমা মুখে উচ্ছারণ করলে কি মুসলিম হবে? নাকি কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে মুসলিম হতে হবে?
কলেমা একটি সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা নাকি মুখস্ত বলা?
কলেমা অবশ্যই অবশ্যই সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা,  প্রতিজ্ঞা প্রদান করা, এই কলেমাই হলাে একজন মুসলিমের মূল, এই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা ঠিক মতাে না হলে, তার মত্যু পর্যন্ত সকল প্রকার ভালো আমল বরবাদ হয়ে যাবে, এই কলেমা হলাে একটি মূল সুত্রের মতাে, যেমন সূত্র ভুল হলে অংক ভুল হয়, যেমন সূত্র ভুল হলে কাজ কর্ম ভুল হয়, যেমন সূত্র ভুল হলে দেশ উন্নতি না হয়ে দেশ অবনতির দিকে চলে যায়, যেমন সূত্র ভুল হলে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়না, (সূত্র ভুল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমার লেখা সূত্র ভুল বইটি পড়ুন ইসলামি অধ্যায় এবং রাজনীতি অধ্যায়) তাই এখানে ভুল সূত্র নিয়ে বিস্তারিত আলােচনা করার প্রয়ােজন নেই।
তাই আমি বলবাে কলেমা অবশ্যই অবশ্যই একটি মুল সূত্র, মূল পথ, সোজা সিরাতুল মােস্তাকিম, যদি একটু ভুল হয়, তাহলে কিছুতেই দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না, যেমন আপনি বীজ গণিতের অংক করতেছেন ভুল সূত্র নিয়ে  দুই তিন পৃষ্টা লেখেছেন তবুও  অংকের ফলাফল ভুল, তেমনি  যদি ভুল সূত্র নিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ করেন তা কিছুতেই  সে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না, তেমনি ভাবে  যদি  ভুল সূত্র নিয়ে দেশ উন্নয়নের কাজ করেন, তা কিছুতেই  দেশ উন্নয়নের কাজ করতে পারবেন না, মধ্যখানে  অর্থ শ্রম সময় সবেই বৃথা।
 তেমনি আপনাদের যদি কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা সঠিক ভাবে না হয়, তাহলে আপনাদের সকল ভালো আমল বৃথা হয়ে যাবে। তাই আপনাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই কলেমার সঠিক সূত্রে চলতে হবে। প্রয়ােজনে কলেমার সূত্রগুলি মুখস্ত করে রাখতে হবে। কলেমার সুত্র হলাে এই।
১।আল্লাহ ছাড়া আর কেহ, ইলাহ রব  সৃষ্টিকর্তা  রিযিকদাতা জন্মদাতা মৃত্যুদাতা নেই।
২। আল্লাহ ছাড়া আর কেহ,  কােন ইবাদতের মালিক নয়, কােন পীর নয়, কােন ভাস্কর  নয়, কােন দেব দেবীর মানুষ পাথর নয়, শুধু মাত্র আল্লাহই ইবাদতের মালিক।
৩। আল্লাহ ছাড়া আর কেহ, আইনদাতা, বিধানদাতা নয়, সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব  ক্ষমতার অধিকারী সেই একমাত্র আল্লাহতাআলার জন্য ।
৪। আল্লাহ ছাড়া জনগণ কখনই সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার  অধিকারী নয়, জনগণ কখনই বিধানদাতা  নয়, জনগন কখনই আইন প্রয়েনেতা নয়, জনগণ হচ্ছে  আল্লাহর প্রতিনিধি।
৫। রাজতন্ত্র সমাজতন্ত্র  একনায়কতন্ত্র ও গণতন্ত্র  এগুলি কিছুতেই দেশ পরিচালনার তন্ত্র  হতে পারে না, দেশ পরিচালনা হবে কোরআনতন্ত্র দিয়ে।
৬। কােন প্রকার মানব রচিত সংবিধান, কােন প্রকার দেশীয় সংবিধান, কােন প্রকার প্রবীণ গুরু মহাদয়ের গড়া রচিত সংবিধান, দেশ পরিচালনা করার সংবিধান হতে পারে না। দেশ পরিচালনার সংবিধান হবে আল্লাহর রচিত সংবিধান আল-কোরআন।
৭। আল্লাহ ছাড়া আর কেহ, বিচার ফয়সালা আইনদাতা শাসনকর্তা নয়, তাই এই জমিন আল্লাহর আইন চলবে আল্লাহর, দেশের সরকার বাধ্যগত ভাবে আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
৮। রাসূল (সঃ) কে যে গালি দিবে রাসূলের প্রতি কেউ খারাপ মন্তব্য  পোষন করিবে, এবং রাসূলকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রপ চিত্র অঙ্কন করিবে, আমরা তখনেই তাকে বাধা দিবাে, সে যদি প্রথম বাধাতে ভালাে না হয়, তাহলে কুরআন ও হাদীস যে আদেশ দেয়া হয়েছে আমরা তার প্রতি সেই বিধান কার্যকর করবাে ।
৯। অনুরুপ ভাবে কেউ যদি আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা না ভাবে সংবিধান-দাতা না ভাবে, এবং সে যদি উল্টাে তার বিরদ্ধে বিদ্রোহ করে, তাহলে কুরআন হাদীস যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তার প্রতি আমরা তাই কার্যকর করবাে।
১০। কোন প্রকার অন্যায় অবিচার আমরা করবাে না। জুলুম নির্যাতন রাহাজানি চাঁদাবাজি ছিনতাই ধর্ষণ আমরা করবাে না। যারা করবে তাদের বিরদ্ধে  প্রতিবাদ করবো  হাত দিয়ে অথবা মুখ দিয়ে অথবা অন্তর দিয়ে ।
১১। কােন প্রকার জেনা ব্যাভিচার করবাে না। অপরকে এসব কাজ থেকে বাধা দিব।
১২। কােন প্রকার অশ্লীলতা বেহাপনা অধ্য-নগ্নতা কাজ করবনা, যেখান দেখবাে সেখানেই বাধা দিবো।
১৩। সমাজে পর্দার বিধান চালু করবাে। যেন আমাদের মা বােনেরা, ও সমাজের মা বােনেরা পর্দা করে  চলাফেরা করে ।
১৪। আমরা সুদ, ঘুষ, মদ ও গাজা থেকে দুরে থাকবাে। আর যারা এগুলাে সমাজের প্রচার উৎপাদন করবে তাকে আমরা বাধা দিব। বাধা না মানলে তার বিরদ্ধে বিদ্রােহ ঘােষণা করবাে।
১৫। আমরা সমাজে সবাই সু-শিক্ষা অর্জন করবাে। আমাদের বােনদেরকেও সু-শিক্ষা দিবাে। কিন্তু বর্তমান সমাজে যে  সহ শিক্ষার হার বেড়েছে, তা আমাদেরকে  বন্ধ করতে হবে, তাই আমরা প্রথমে প্রধান শিক্ষকদেরকে এবং শিক্ষা মন্ত্রীদেরক বলবাে এ সহ শিক্ষা বন্ধ করতে, এবং শিক্ষার্থীর পিতা মাতাদেরকে নিষেধ করবাে যাতে তারা তাদের মেয়েদেরকে এ সহ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না করে।
এই হলাে কলেমার সূত্রের কিছু ধারা। এগুলাে অবশ্যই অবশ্যই আমাদেরকে পালন করতে হবে।


বর্তমান সময়ে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করার লক্ষে, আমরা কি ভাবে  ইসলামিক দ্বীন কায়েম করবো রাষ্ট্র সমাজের মাঝে ?
এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার  আগে আমি একটি কথা বলি,  বর্তমান সমাজে এক শ্রেণীর আলেমেরা দ্বীন কায়েমের জন্য জিহাদের কথা বলে, তারা সরকারি বেসরকারী দু এক জন মানুষকে কাফের তাগুত মুরতাদ আল্লাহদ্রোহী  ঘোষণা  দিয়ে তাদেরকে হত্যা করে, তারা রাস্তাঘাটে বোমা মেরে মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে, হরতাল  অবরোধ ভাংচুর পিকেটিং করে দেশ ও জনগনের সম্পদের ক্ষতি করে, তারা এর মাঝে দ্বীন কায়েম করতে চায়, তারা একে জিহাদ বলে, আসলে এর নাম কখনো জিহাদ নয়, এর নাম হলো সন্ত্রাস,  আর এই রখম জিহাদের ছদ্মবেশে সন্ত্রাসী কর্ম কান্ডের মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়।
আবার অনেক আলেমরা দ্বীন কায়েমের জন্য সুফী পথ বেচে নিয়েছেন, তাদের ধারণা মতে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম দ্বীন কায়েম করেছেন সুফীবাদের মাধ্যমে, তাই তারা সুফীবাদ বেচে নিয়েছেন, আসলে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম সুফীবাদের মাধ্যমেও দ্বীন করেন নাই, তাই এমন পদ্ধতিতে  দ্বীন কায়েম করা কিয়ামত পর্যন্ত সম্ভব নয়।
 তাই দ্বীন কায়েম করিতে হবে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের এর  পদ্ধতিতে, রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম যে পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করে গেছেন, সেই পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করতে হবে।
কোরআন হাদীস গবেষণা করে দেখা যায়, এবং রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম এর বাস্তব জীবন ইতিহাস থেকে দেখা যায়, রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম  দ্বীন কায়েম করেছেন তিনটি পদ্ধতিতে।
১, দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে। (তথা আল্লাহর একাত্মবাদের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে)
২, (সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য) বিপ্লবী বক্তৃতা ও সংগ্রামের মাধ্যমে।
৩, সশস্ত্র জিহাদ ও কিত্বালের মাধ্যমে।
হয়তো অনেকে বলতে পারেন  রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম, এই তিন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করেছেন এর দলিল কি?
১, দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে।  (তথা আল্লাহর একাত্মবাদের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে)
এর দলিল হলো নিচের আয়াত গুলো।
যেমন আল্লাহতাআলা  সুরা আল-মুদ্দাসসিরের ১ থেকে ৩ নং আয়াতে বলেছেন।
يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ
ওহে বস্ত্র আবৃত (মোহাম্মদ সঃ)
قُمْ فَأَنذِرْ
ওঠ, সতর্ক কর।
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আশ-শুআরা ২১৪ নং আয়াতে।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ
(হে নবী) তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা  আন-নাহ‌লের ৩৬ নং আয়াতে।
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِى كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلطَّٰغُوتَۖ
প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ‘ইবাদাত কর আর তাগুতকে বর্জন কর।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা সুরা আল হুদের ২ নং আয়াতে।
أَلَّا تَعْبُدُوٓا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِى لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ
 তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করবে না, আমি অবশ্যই তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য ভয় প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতা।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা সুরা আম্বিয়ার ২৫ নং আয়াতে।
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِىٓ إِلَيْهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَاعْبُدُونِ
আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রসূলই পাঠাইনি যার প্রতি আমি ওয়াহী করিনি যে, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা আমারই ‘ইবাদাত কর।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা ফাতিরের ৩ নং আয়াতে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْۚ هَلْ مِنْ خَٰلِقٍ غَيْرُ ٱللَّهِ يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর। (ভেবে দেখ,) আল্লাহ ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা আছে কি, যে তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে জীবিকা দান করে? তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। অতএব, কীভাবে তোমরা (তাঁর থেকে) ফিরে যাচ্ছ?
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা ফাতিরের ৪০ নং আয়াতে।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَرُونِى مَاذَا خَلَقُوا۟ مِنَ ٱلْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ أَمْ ءَاتَيْنَٰهُمْ كِتَٰبًا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍ مِّنْهُۚ بَلْ إِن يَعِدُ ٱلظَّٰلِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا
(হে নবী) তাদেরকে বল, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তোমাদের সেই শরীকদের কথা কি ভেবে দেখেছো? তোমরা আমাকে দেখাও তো, তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে? নাকি আসমানে তাদের কোন অংশ আছে?” নাকি আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে তারা তার প্রমাণের ওপর রয়েছে? আসলে জালেমরা কেবল একে অন্যকে প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।

২, (সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য) বিপ্লবী বক্তৃতা ও সংগ্রামের মাধ্যমে।
 এর দলিল হলো নিচের আয়াত ও হাদিস গুলি ।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আল-হিজ্‌রের ৯৪  নং আয়াতে বলেছেন।
فَٱصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْمُشْرِكِينَ
(হে নবী) তোমাকে যে বিষয়ের হুকুম দেয়া হয়েছে তা জোরে শোরে প্রকাশ্যে প্রচার কর, আর মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা  সূরা আশ শুআরা  ২১৪ নং আয়াতে।
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ
(হে নবী) তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের।

হাদীসে  বর্ণিত আছে যখন রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের উপর এই আয়াত নাযিল হলো তখন রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম আরবের সকল গোত্রদ্বয়কে একত্রিত করে, এক জ্বালাময়ী তাওহীদের বিপ্লবী বক্তৃতা দিলেন।
হাদিসটি নিম্নরুপ,
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”(সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) এবং তাদের মধ্য থেকে তোমার নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়কেও।”[৭৯] তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ। তারপর সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে অমুকের বংশধর! হে অমুকের বংশধর! হে আব্‌দ মানাফ-এর বংশধর! হে ‘আবদুল মুত্তালিব-এর বংশধর! এতে সবাই তাঁর কাছে সমবেত হলো। নাবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শত্রু সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর ‘আযাব সম্পর্কে। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?” তখন এ সূরাহ অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও …...সূরার শেষ পর্যন্ত।” (সূরাহ্‌ লাহাব ১১১ : ১-৫)
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৯৬

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আন-নাহ্‌লের ১২৫ নং আয়াতে।
ٱدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلْحِكْمَةِ وَٱلْمَوْعِظَةِ ٱلْحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلْهُم بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِٱلْمُهْتَدِينَ
জ্ঞান-বুদ্ধি আর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তুমি (মানুষকে) তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান জানাও আর লোকেদের সাথে বিতর্ক কর এমন পন্থায় যা অতি উত্তম। তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে গুমরাহ হয়ে গেছে। আর কে সঠিক পথে আছে তাও তিনি বেশি জানেন।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-ফুরকানের ৫২ নং আয়াতে।
فَلَا تُطِعِ ٱلْكَٰفِرِينَ وَجَٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًا كَبِيرًا
সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করনা এবং তাদের সাথে তুমি কুরআনের সাহায্যে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও।

৩, সশস্ত্র জিহাদ ও কিত্বালের মাধ্যমে।
এর দলিল হলো নিচের আয়াত,
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতে বলেছেন।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পূর্ণ রূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
 আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ২৯ নং আয়াতে।
قَٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَٰغِرُونَ
যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং কিয়ামাত দিনের প্রতিও না, আর ঐ বস্তুগুলিকে হারাম মনে করেনা যেগুলিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম বলেছেন, আর সত্য ধর্ম (অর্থাৎ ইসলাম) গ্রহণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাক যে পর্যন্ত না তারা অধীনতা স্বীকার করে প্রজা রূপে জিযিয়া দিতে স্বীকার করে।

তাহলে বুঝা গেলো রাষ্ট্রের মাঝে  দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি হলো তিনটি, step by step follow করে দ্বীন কায়েম করতে হবে, এখন যদি কোন সংগঠন বা কোন আলেম মনে করে, আমি এক নম্বর পদ্ধতি দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে (তথা আল্লাহর একাত্মবাদের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে)  দ্বীন কায়েম না করে, দুই  নম্বর পদ্ধতি (সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য)  বিপ্লবী বক্তৃতা ও সংগ্রামের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম না করে, আমি একেবারে তিন নম্বর পদ্ধতি সশস্ত্র  জিহাদ ও কিত্বালের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করবো, তাহলে তার এ নিয়ম নীতি কি ঠিক হবে? না তার এ নিয়ম নীতি ভুল হবে? কারণ রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম এমন নীতিতে দ্বীন কায়েম করেন নাই, রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম step by step follow করে এই তিন নীতিতে দ্বীন কায়েম করেছেন, তাই আপনাদের সর্ব প্রথম  করণীয় হবে,  আপনারা যে রাষ্ট্রের মাঝে দ্বীন কায়েম করবেন, সে রাষ্ট্রের সাধারণ লোকদেরকে, এবং রাষ্ট্রীয় প্রধান লোকদেরকে সর্ব প্রথমে।  
এক  নম্বর ধারা অনুযায়ী তাদের মাঝে  দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করবেন,  তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিবেন, কলেমার দাওয়াত দিবেন তাওহীদের দাওয়াত দিবেন, তাদেরকে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাতের দাওয়াত দিবেন, তাদেরকে ন্যায় অন্যায় মেনে চলার জন্য দাওয়াত দিবেন, তাদেরকে হালাল হারাম মেনে চলার জন্য দাওয়াত দিবেন, তাদেরকে সুদ ঘুষ দুর্নীতি রাহাজানি চাদাবাজি ছিনতাই ধর্ষণ খুন খারাপি জেনা ব্যভিচার বর্জন করার জন্য দাওয়াত দিবেন, তাদেরকে আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য দাওয়াত দিবেন, আল্লাহর সংবিধানের শাষণ ব্যবস্থা রাষ্ট্র সমাজে জারি রাখার জন্য দাওয়াত দিবেন, যদি তারা এ গুলি মেনে নেয়, রাষ্ট্র সমাজে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত প্রতিষ্ঠা করে, আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, আল্লাহর সংবিধানের শাষণ ব্যবস্থা রাষ্ট্র সমাজে প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে তো আপনাদের মনোনীত  আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়ে গেলো, আর তাদের প্রতি দ্বিতীয় ও তৃতীয়  ধারা কার্যকর করে লাভ কি? তারা তো এখন সত্যিকার অর্থে  মুসলিম, তাদের আনুগত্য করা এখন আপনাদের জন্য ফরজ।
আর যদি তারা আপনাদের দাওয়াত গ্রহন না করে, তারা যদি কলেমার পথে না আসে, তারা তাওহীদের পথে না আসে, তারা যদি রাষ্ট্র সমাজে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত প্রতিষ্ঠা না করে, তারা যদি সমাজ থেকে সুদ ঘুষ দুর্নীতি রাহাজানি চাদাবাজি ছিনতাই ধর্ষণ খুন খারাপি বন্ধ না করে, তারা যদি সমাজে অন্যায় শাষন ব্যবস্থা বন্ধ না করে, তারা যদি সমাজে হারাম দ্রব ব্যবসা বানিজ্য  বন্ধ না করে, তারা যদি রাষ্ট্রে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে দেশ পরিচালনা না করে, তারা যদি রাষ্ট্রে আল্লাহর সংবিধানের আইন রাষ্ট্র সমাজে জারি না রাখে, তাহলে তাদের প্রতি দ্বিতীয় ধারা অনুযারী দাওয়াত দিতে হবে।

দ্বিতীয় ধারা হলো,  (সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য) বিপ্লবী বক্তৃতা ও সংগ্রামের  মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা।
 বিপ্লবী সংগ্রাম মানে এমন নয়, মারামারি কাটাকাটি খুনাখুনি রক্তপাতে  লিপ্ত হওয়ার জন্য বক্তৃতা প্রদান করা।
 বিপ্লবী সংগ্রাম মানে এমন নয়, মারামারি কাটাকাটি খুনাখুনি রক্তপাত করার জন্য সংগ্রাম আন্দোলন করা।
  আপনাদের বিপ্লবী সংগ্রামের দাবী হবে এমন, রাষ্ট্রীয় প্রধানদের প্রতি।
১, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
২, আল্লাহর জমিনে প্রতিটি অঞ্চলে আল্লাহর খিলাফত প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩, সমাজে রাষ্ট্রীয় ভাবে মুসলিমদের জন্য  নামাজ রোজা হজ্জ  যাকাতের বিধান বাধ্যতামূলক ভাবে বাস্তবায়ন  করতে হবে।
৪, সমাজে মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক ভাবে নেওয়ার জন্য আদেশ জারি রাখতে হবে।
৫, সমাজে সহ শিক্ষার প্রচলন বন্ধ করতে হবে।
৬, সমাজে হারামকৃত ব্যবসা বানিজ্য  বন্ধ করতে হবে।
৭, সমাজে অন্যায় রাহাজানি চাদাবাজি সুদ ঘুষ দুর্নীতি  দুষ্কৃতী  খুন খারাপি বন্ধ করতে হবে।
৮, সমাজে জেনা ব্যভিচার ধর্ষণ বন্ধ করতে হবে।
৯, আল্লাহ ও তার রাসুল  (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ কারীকে ও তাদের নিয়ে কূমন্তব্য  পোষণ কারীদেরকে প্রকাশ্যে সমাজে শাস্তি দিতে হবে।
১০, সমাজে কোন ধর্মের প্রতি ব্যঙ্গ বিদ্রুপ কারী ও ধর্মের প্রতি আঘাত হননকারী ব্যক্তিদেরকে প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে হবে।
এই হবে আপনাদের বিপ্লবী সংগ্রামের দাবী, এর বাহিরে আপনাদের আর কোন স্বার্থ নিয়ে  কোন সংগ্রাম করা যাবেনা।
একটি কথা বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে, আপনাদের এই বিপ্লবী সংগ্রাম  যেন রাষ্ট্রীয় প্রধানদের মনে ক্রোধ সৃষ্টি না করে, তাদের সাথে যেন সংঘর্ষ না বাধে, তাদেরকে বুঝানোর মাধ্যমে তাদের প্রতি  তাওহীদের  বক্তৃতা দিতে হবে, যেভাবে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম দিয়েছেন,  যাতে তারা বিষয় গুলি তাদের বিবেকের জ্ঞান দিয়ে, ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারে, এবং তারা যেন আপনাদের দাবী গুলো মেনে নেওয়ার জন্য  ইচ্ছা পোষণ করে।
আরো একটি কথা বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে, আপনাদের সংগ্রামে যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোন প্রকার ক্ষতি না হয়,  রাষ্ট্রীয় প্রধান ব্যক্তিদের কোন প্রকার সম্পদের কোন ক্ষতি না হয়,  এবং সাধারণ ব্যক্তিদের কোন প্রকার সম্পদের ক্ষতি না হয়, দেশের  যানবাহন চলাচল যেন বন্ধ না হয়, দেশের অফিস আদালত মিল ফ্যাক্টরী শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ না হয়, আপনাদের সংগ্রামের দাবী হবে শান্তি পূর্ণ যাতে একটি পিপড়াও কোন ক্ষতি না হয়, আর আপনাদের সংগ্রামের দাবী গুলো উত্তাপিত হবে কোন একটি খোলা ময়দানে, কোন কিছু স্থাপনা রাস্তাঘাট যান চলাচল অবরোধ করে নয়,  হরতাল ডেকে নয়।
যেনে রাখতে হবে সহিংসতা ইসলাম ধর্মের কাম্য নয়, ফিতনা ফাসাদ ইসলাম ধর্মের কাম্য নয়, তাই আপনাদের ইসলামিক সংগ্রাম শান্ত শ্লিষ্ট ভাবে করতে হবে, কাউকে আঘাত করে নয়, কাউকে হত্যা করে নয়, কারো সম্পদের ক্ষতি করে নয়, রাস্তাঘাট যান চলাচল  অফিস আদালত মিল ফ্যাক্টরী বন্ধ করে নয়, যাতে রাষ্ট্রীয় প্রধানগণ আপনাদের আদর্শ দেখে, আপনাদের দাবী গুলো স্বেচ্ছায় মেনে নেয়, আর যদি তারা আপনাদের দাবী গুলো মেনে না নেয়, এবং আপনাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, আপনাদেরকে ঘৃণা করে,  আপনাদেরকে নির্যাতন করে, আপনাদেরকে প্রতি অমানবিক জুলুম নির্যাতন করে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দেয়, আপনাদেরকে প্রতি মামলা মোকাদ্দমা করে, আপনাদেরকে জেল হাজতে বন্ধি করে, এবং আপনাদের দাবী গুলো নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে, ঠাট্রা উপহাস করে, আপনাদের দাবী গুলো তারা বহিস্কার করে, উল্টো তার বিপরীত আইন পাশ করে, এভাবে তাদের মাঝে প্রকাশ্যে কুফুরী কাজ দেখা গেলে, তাদের কুফুরী কাজের জন্য সমাজের আলেম ওলামারা ও মুসলিম জ্ঞানী  লোকেরা সাক্ষ্য দিলে, তখন তাদের প্রতি তৃতীয় ধারা অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

তৃতীয় ধারা হলো সশস্ত্র জিহাদ কিত্বালের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা।
এখানে এ কথার উপর ভিত্তি করে, কেউ যেন এমন না করে, তাড়াহুড়া করে একটি রাইফেল কিনে, অথবা তরবারী দিয়ে, কিছু রাষ্ট্রীয় প্রধান  ব্যক্তিদেরকে কাফের, মুশরিক, আল্লাহদ্রােহী, তাগুত, জালেম, ফাসেক, মোনাফিক ঘোষণা দিয়ে, তাদেরকে হত্যা করে বলে আমি ইসলামের জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আমি ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আমি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ শুরু করেছি, আসলে এর নাম কখনো জিহাদ নয়, এর নাম হলো সন্ত্রাস, ইসলামে জিহাদ আর সন্ত্রাস এক নয়, ইসলামে জিহাদ কারী ব্যক্তিদের জন্য আছে সর্ব শ্রেষ্ঠ জান্নাত, আর ইসলামে সন্ত্রাস কারী ব্যক্তিদের জন্য আছে সর্ব নিকৃষ্টতম  জাহান্নাম, তাই ইসলামে জিহাদ মানে এমন নয়, দু চার জন আল্লাহদ্রোহী তাগুত মুরতাদ কাফেরদেরকে হত্যা করে দিলে জিহাদ হয়ে গেলো, কিছু বোমা অফিস আদালতে রাস্তাঘাটে ফাটিয়ে দিলে, মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে দিলে জিহাদ হয়ে গেলো, এগুলি কখনো ইসলামিক জিহাদ নয়, ইসলামে জিহাদের কিছু সঃজ্ঞা আছে, কিছু ধারা আছে, সে ধারা মতো জিহাদ না হলে, তা হবে সন্ত্রাস।
তাই ইসলামিক জিহাদের ধারা গুলো উল্লেখ করা হলো।
১, সর্ব প্রথম আমীর নির্বাচন করতে হবে।
২, আমীরের আনুগত্য সকলকে মান্য করতে হবে।
৩, আমীরের আদেশ নিষেধ  সকলকে মান্য করতে হবে।
৪, তাদের জন্য একটি  নিদিষ্ট শহর  বা দেশ দখলে থাকতে হবে, এবং সেই শহরের লোক গুলো যেন সেই আমীরের আনুগত্য মেনে নেয়, এবং শত্রু পক্ষরা  হামলা করলে তারা যেন তাদের প্রতিবাদ করতে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, এমন পরিবেশ সেই শহরের লোকদের  মাঝে তৈরি করে নিতে হবে।
৫, সেই শহরের লোকদেরকে (রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহিস সাল্লামের সাহাবী) আনসারদের মতো তৈরি করে নিতে হবে।
৬, আমীর সাহেব তাদের দলের কার্যক্রমের ঘোষণা স্পষ্ট ভাবে  সমাজে  দিবে।
৭, আমীর সাহেব যুদ্ধ কার সাথে করবে সে ঘোষণা স্পষ্ট ভাবে  প্রকাশ্যে সমাজে দিবে।
৮, আমীর সাহেব যুদ্ধ কি কারণে করবে সে ঘোষণা স্পষ্ট  ভাবে  প্রকাশ্যে সমাজে দিবে।
৯, আমীর সাহেব তাদের দলের যুদ্ধের ঘোষণা  স্পষ্ট ভাবে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র গুলোকে জানাবে, এবং তারা যুদ্ধ  কি কারণে করবে, এবং তা কার সাথে করবে, সে বিষয়ও স্পষ্ট ভাবে জানাবে।
১০, তাদের জন্য যুদ্ধের টেনিং সমাজে প্রকাশ্য ভাবে ব্যবস্থা থাকতে হবে, তবে তারা গুরত্ব পূর্ণ টেনিং গোপনে নিতে পারবে।
১১, তাদের শহরের লোকদের নিরাপত্তার জন্য একদল মুজাহিদ সর্বদাই পাহাড়া রত থাকতে হবে, যাতে শত্রু বাহিনীরা তাদের শহরে প্রবেশ করা মাত্রই তাদের উপর হামলা চালাতে পারে।
১২, তাদের দলের নিরাপত্তার জন্য একদল মুজাহিদ সর্বদাই গোয়েন্দা গিরিতে থাকতে হবে, (নিজ দেশে এবং শত্রুর দেশে ) যাতে দেশীয় মোনাফিক গোষ্ঠীরা, এবং বহিরাগত শত্রু বাহিনীরা, তাদের প্রতি এক যোগে  আক্রমণ চালাতে  না পারে।
১৩, প্রতিটি শহরে গ্রামে তাদের সমর্থনে একটি দল বা একটি ক্লাব থাকতে হবে।
১৪, অন্য শহর থেকে হিজরত করে আসা মুসলিম ভাইদেরকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
১৫, যুদ্ধ শুরু করার আগে যুদ্ধের টেনিং পরিপূর্ণ ভাবে থাকতে হবে।
১৬, যুদ্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র শস্ত্র গোলা বারুদ মজুদ থাকতে হবে।
১৭, যুদ্ধ শুরু করার আগে নিজ শহরের লোকদের, এবং নিজ দলের মুজাহিদ বাহীনিদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। (অবশ্য সকল নিরাপত্তা দেওয়ার মালিক আল্লাহতাআলা)
১৮, যুদ্ধ শুরু করার আগে নিজ শহরে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুদ রাখতে হবে, যাতে দুর্ভিক্ষের সময়ে সে শহরের লোক গুলি, এবং মুজাহিদ বাহীনি গুলি খাবার গ্রহন করতে পারে। (অবশ্য সকল মানুষের রিযক দেওয়ার মালিক আল্লাহতাআলা)
এগুলি হলো ইসলামিক যুদ্ধ করার জন্য নিয়ম নীতি, এগুলি নিয়ম নীতি ইসলামিক আমীর সাহেব রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিবে, তবে অবশ্যই অবশ্যই এগুলি নিয়ম নীতি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে হবে, এ থেকে কারো পিছপা হওয়া যাবেনা, আর এমন কথা কেহ ভাবতে পারবেনা, এমন নিয়ম নীতি কি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করা সম্ভব? সম্ভব না হলেও তাকে সম্ভব করতে হবে।

 কারণ ইসলামিক যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ, যার আছে সু-গভীর পরিকল্পনা, যে পরিকল্পনাতে আছে সবার জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করা, সে ভাবে পরিকল্পনা করে ইসলামিক যুদ্ধ করা, আর যদি কেউ এমন নিয়ম নীতি রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন না করে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়, তাহলে সেটা ইসলামিক যুদ্ধ হবেনা, এমন যুদ্ধে মুসলিমরাই বেশি আহত নিহত হবে,  মুসলিমরাই  বেশি ফিতনা ফাসাদে নিম্নজিত হবে, মুসলিমরাই বেশি ধ্বংস হবে, মুসলিমরাই পরাজয় বরণ করবে? তাহলে এমন যুদ্ধ করে লাভ কি?
 যেমন  সহীহ হাদিসে আছে।
আমর ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যুদ্ধ হল ধোকা।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৬৭৫
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যুদ্ধ হলো কৌশল।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮৩৪
তাই  যুদ্ধ করার আগে  অবশ্যই অবশ্যই কৌশল করতে হবে, শত্রু পক্ষকে যুদ্ধ ক্ষেতে ধোকা দিতে হবে, যাতে আপনাদের বিজয় হয় এমন পরিকল্পনা তৈরি  করে, এবং তা সমাজে বাস্তবায়ন করে যুদ্ধের মাঠে নামতে হবে, এভাবেই বর্তমান সমাজে ইসলামিক দ্বীন কায়েম করতে হবে, আর এটাই  বর্তমান সমাজে ইসলামিক দ্বীন কায়েম করার সঠিক পন্থা।
এখন যদি কেউ মনে মনে ভাবেন, আমাদের সমাজে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, আমরা দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে যাবো কেন? আমরা বিপ্লবী বক্তৃতা ও সংগ্রামের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে যাবো কেন? আমরা সশস্ত্র জিহাদ ও কিত্বালের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে যাবো কেন? আমরা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক দ্বীন কায়েম করবো, তাদের জন্য আমি একটি বই লেখেছি, সে বইটি হলো।
ইসলামিক রাষ্ট্র  কায়েমের পদ্ধতি (গণতন্ত্র) একটি ব্যতিক্রম গবেষণা মুখী  প্রবন্ধ।
গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে কিভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব ? অথবা
কোন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক ভোট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব?
এই প্রবন্ধটি শুধু সেই সব জ্ঞানী গুণী আলেমদের উদ্দেশ্যে লেখা, যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়।
এই প্রবন্ধটি সেই সব জ্ঞানী গুণী আলেমদের প্রয়োজন, যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়?
তাই আমি তাদেরকে নিবেদন করবো এই বইটি পড়ার জন্য, এই বইটি পড়লে বুঝতে পারবেন কিভাবে গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?



 কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন না করতে পারলে, বা সে বাস্তবায়নের জন্য যথা সাধ্য চেষ্টা না করলে সে কি মুসলিম থাকে, না  সে মুসলিম থেকে খারিজ হয়ে যায়?

কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করা অবশ্যই সবার জন্য ফরজ, যদি সে রাষ্ট্র সমাজ পরিবারে বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে তাকে অন্তত নিজের মাঝে বাস্তবায়ন করতে হবে,  কারণ সে এই কলেমা বাস্তবায়নের সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা  দিয়ে মুসলিম হয়েছে, তার মুসলিম হওয়ার মূল শর্তই হলাে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করা, যদি সে একান্ত  রাষ্ট্র সমাজ পরিবারে বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য পিছুপা হওয়া যাবেনা, তা বাস্তবায়নের জন্য জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু সময় দিয়ে হলেও কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাতে হবে, যাতে সে আল্লাহর কাছে গিয়ে বলতে পারে, হে আল্লাহ আপনি আমাকে যতটুকু শক্তি সার্মথ দিয়েছন, সেই শক্তি সামর্থ দিয়ে  দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি, কিন্তু  আমি পারি নাই আমাকে ক্ষমা করে দাও।
আর যদি আপনি কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়নের শপথ দিয়ে তা  ভুলে যান, তা বাস্তবায়ন না করেন, তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টাও না করেন, তাহলে আপনি ইসলাম থেকে অনেক দুরে যাবেন, কারণ আপনি কলেমা স্বীকার করেছেন আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়ন করার জন্য, আর যদি  তা থেকে ফিরে যান, তাহলে আপনি ঈমান আনার পরে কুফুরী করলেন, আপনি মুশরিক হয়ে গেলেন।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতে  বলেছেন,
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ
অধিকাংশ মানুষ আমার প্রতি  ঈমান আনে, কিন্তু তার সাথে সাথে শিরক করে।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ৮৬ নং আয়াতে।
وَإِذَآ أُنزِلَتْ سُورَةٌ أَنْ ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَجَٰهِدُوا۟ مَعَ رَسُولِهِ ٱسْتَـْٔذَنَكَ أُو۟لُوا۟ ٱلطَّوْلِ مِنْهُمْ وَقَالُوا۟ ذَرْنَا نَكُن مَّعَ ٱلْقَٰعِدِينَ
আর যখনই কুরআনের কোন অংশ এ বিষয়ে অবতীর্ণ করা হয় যে, তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আন এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গী হয়ে জিহাদ কর তখন তাদের মধ্যকার সম্পদশালী ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় ও বলে আমাদেরকে অনুমতি দিন, আমরাও এখানে অবস্থানকারীদের সাথে থেকে যাই।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ৮৭ নং আয়াতে।
رَضُوا۟ بِأَن يَكُونُوا۟ مَعَ ٱلْخَوَالِفِ وَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ
তারা  (কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার জন্য যুদ্ধ অভিযানে বেরিয়ে না পড়ে) তারা  অন্তঃপুরবাসিনী নারীদের সাথে থাকতে পছন্দ করল, তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দেয়া হল, কাজেই তারা বুঝতে পারেনা।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ৮৮ নং আয়াতে।
لَٰكِنِ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ جَٰهَدُوا۟ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلْخَيْرَٰتُۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
অতঃপর রাসূল ও তার সঙ্গীদের মধ্যে যারা মুসলিম ছিল তারা নিজেদের ধন সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করল; তাদেরই জন্য রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই হচ্ছে সফলকাম।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ১২৯ নং আয়াতে।
فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقُلْ حَسْبِىَ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُۖ وَهُوَ رَبُّ ٱلْعَرْشِ ٱلْعَظِيمِ
অতঃপর যদি তারা( কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য) মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তুমি বলে দাও আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কেহ মাবূদ নেই, আমি তাঁরই উপর নির্ভর করছি, আর তিনি হচ্ছেন অতি বড় আরশের মালিক।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা  আল-বাকারার ২১৬ নং আয়াতে।
كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
(কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার জন্য) তোমাদের প্রতি যুদ্ধ লিপিবদ্ধ ফরজ  করে দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপ্রিয় কিন্তু তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর এবং সম্ভবত কোন কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা  আল-আনফাল ৩৯ নং আয়াতে।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় আর আল্লাহর  দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

 যেমন সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে।
 ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫
(মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪)
 অন্য আর এক সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত শত্রুর সাথে মোকাবেলার কোন এক দিনে, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপেক্ষা করলেন (অর্থাৎ, যুদ্ধ করতে বিলম্ব করলেন)। অবশেষে যখন সূর্য ঢলে গেল, তখন তিনি লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে সাক্ষাৎ (যুদ্ধ) কামনা করো না এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাও। কিন্তু যখন শত্রুর সাথে সামনা-সামনি হয়ে যাবে, তখন তোমরা দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ কর। আর জেনে নাও যে, জান্নাত তরবারির ছায়ার নীচে রয়েছে।” অতঃপর তিনি দু‘আ করলেন, “হে কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘ সঞ্চালনকারী এবং শত্রুসকলকে পরাজিতকারী! তুমি তাদেরকে পরাজিত কর এবং তাদের মুকাবিলায় আমাদেরকে সাহায্য কর।
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৩৩২
(সহীহুল বুখারী ২৮১৯, ২৮৩৩, ২৯৩৩, ৩০২৪, ৩০২৬, ৪১১৫, ৬৩৯২, ৭২৩৭, ৭৪৮৯, মুসলিম ১৭৪১, ১৭৪২, তিরমিযী ১৬৭৮, আবূ দাউদ ২৬৩১, ইবনু মাজাহ ২৭৯৬, আহমাদ ১৮৬২৮, ১৮৬৫০, ১৮৬৬০, ১৮৯১৭)
 তাহলে এসব আয়াত হাদিস থেকে বুঝা গেলাে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করা আমাদের সকলের জন্য ফরজ তা অবশ্যই অবশ্যই আমাদের সকলকে করতে হবে, যদি আমরা নিজেকে খাটি মুসলিম হিসাবে দাবী করি, যদিও সমাজে রাষ্ট্রে  বাস্তবায়ন করতে না পারি তবুও আমাদেরকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, এ চেষ্টা থেকে কিছুতেই পিছুপা হওয়া যাবেনা।
 তাইতাে রাসুল (সঃ) এ বিষয়ে অনেক  হাদিস বর্ণনা করেছেন।
যেমন আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, অথচ কখনো জিহাদ করলো না বা জিহাদের কথা তার মনে কোন দিন উদিতও হলো না, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করলো।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৮২৫
অন্য আর এক সহীহ  হাদীসে আছে।
 আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশের (জিহাদ বিমুখ হওয়ার) উপর।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩০৯৭
 এখানে নিয়্যাতের অর্থ হবে তাদের শক্তি সামর্থ কম তারা দুর্বল সে জন্য তারা কৌশলে চেষ্টা করবে পরিকল্পনা করবে, এবং গােপনে গােপনে চেষ্টা চালাবে, তাদেরকে ধ্বংস  করার জন্য, এবং আল্লাহর  কাছে দােয়া করবে তাদের ধংস হওয়ার জন্য, এবং তারা আল্লাহর কাছে শক্তি সামর্থ সাহায্য চাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্যে, এই হচ্ছে নিয়্যাত এমনি নিয়্যাত করতে হবে, আর যাদের মাঝে এমন নিয়্যাতও না থাকলাে তাদের মত্যু  হলাে মােনাফের ন্যায়।
 যেমন অন্য আর এক সহীহ  হাদীসে আছে। রাসুল (সঃ) বলেছেন  ঐ তিন ব্যক্তির  ঈমান আছে।
হাদিসটি হলো এই,
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যখন তোমাদের কেউ কোন অপকর্ম দেখতে পায়, তখন সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিহত করে, যদি ততটুকু শক্তি তার না থাকে, তবে সে যেন মুখে তা দূর করতে তৎপর হয়, যদি এই শক্তিও তার না থাকে, তবে সে যেন উক্ত মন্দ কাজকে মনে মনে ঘৃণা করে। আর এ হলো ঈমানের নিম্নতম পর্যায়।
  সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৫০০৮
তাহলে হাদিসের আলোকে ঈমানের ৩ টি ধারা বুঝা গেলো।
১। যে ব্যক্তি অন্যায় কাজ সমাজে দেখলাে সে হাত দিয়ে প্রতিবাদ করলো প্রতিহত করলো সেই ব্যক্তি মােমিন সেই ব্যক্তির ঈমান আছে।
২। যে ব্যক্তি অন্যায় কাজ সমাজে দেখলাে কিন্তু তার হাত দিয়ে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই সে ব্যক্তি মুখ দিয়ে প্রতিবাদ প্রতিহত করলো, সেই ব্যক্তি মােমিন সেই ব্যক্তির ঈমান আছে।
৩। যে ব্যক্তি অন্যায় কাজ সমাজে দেখলাে কিন্তু সে ব্যক্তি অনেক দুর্বল, অসহায়, গােলাম, তার হাত দিয়ে মুখ দিয়ে কােন প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই সে ব্যক্তি যেন অন্তর থেকে অন্যায় কারীকে ঘৃণা করে, এবং আল্লাহর কাছে তাদের বিরদ্ধে অভিশাপ প্রদান করে, সেই ব্যক্তি মােমিন সেই ব্যক্তির ঈমান আছে, এর বাহিরে আর  কারও সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই।
 এখানে কেউ যেন হাতকে কলমের লেখনীর মাধ্যমে বুঝে না নেয়, হাত দিয়ে প্রতিবাদ প্রতিহত করার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে  সেই অন্যায় কারী ব্যক্তিকে শক্ত ভাবে  আঘাত প্রদান করা, যাতে সে সােজা হয়ে যায়, আর অন্যায় করতে না পারে।
আর এখানে বড় অন্যায় কারী ব্যক্তি হলাে যারা আল্লাহর জমিনে বসবাস করে কিন্তু আল্লাহর সংবিধান মানেনা, আল্লাহর সংবিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা করেনা, তারা নিজে সংবিধান রচনা করে বিচার ফয়সালা করে, মাজলুম গরীবদেরকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তাদের প্রাপ্র্য দেয়না, তাদের প্রতি জুলুম নির্যাতন করে, তারাই হলাে বড় অন্যায় কারী তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য রাসুল (সঃ) কে  আল্লাহতাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।
 যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আন নিসার  ৬০ নং আয়াতে বলেছেন।
أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّٰغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوٓا۟ أَن يَكْفُرُوا۟ بِهِۦ وَيُرِيدُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا
তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি যারা দাবী করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছিল তারা বিশ্বাস করে? অথচ তারা নিজেদের মুকাদ্দামা তাগুতের নিকট নিয়ে যেতে চায়, যদিও তাদেরকে আদেশ করা হয়েছিল যেন তাকে অবিশ্বাস করে; পক্ষান্তরে শাইতান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করতে চায়।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন,সুরা আন নিসা ৬৫ নং আয়াতে।
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًا
অতএব তোমার রবের শপথ! তারা কখনই মোমিন হতে পারবেনা, যে পর্যন্ত তোমাকে তাদের সৃষ্ট বিরোধের বিচারক না করে, অতঃপর তুমি যে বিচার করবে তা দ্বিধাহীন অন্তরে গ্রহণ না করে এবং ওটা সন্তষ্ট চিত্তে কবূল না করে।

 আসলে সত্য কথা হলাে শয়তান ওদেরকে সত্য পথ থেকে দূরে নিয়ে গেছে, ওদের নফসের খেয়াল খুশীর কারণে ওদের নফসের গােমরাহীতার কারণে।

 যেমন আল্লাহতাআলা সুরা নাহলে ৩৬ নং আয়াতে বলেছেন, তােমরা একমাত্র আমার ইবাদত করবে (আমার সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এবং তাগুতের সংবিধানকে অমান্য  করবে) এবং সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করবে।

 তাই বড় অন্যায় কারী হলাে, বড় তাগুত হলাে, যারা রাষ্ট্রের মাঝে  আল্লাহর সংবিধান অনুযারী বিচার ফয়সালা করেনা, তারা বিচারের জন্য নিজে সংবিধান রচনা করে, বা তাদের প্রবীন গুরু মহাদয়ের গড়া রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র বিচার ফয়সালা করে, তারাই হলাে বড় অন্যায়কারী, তারাই হলাে বড় যুলুমকারী তারাই হলাে বড় তাগুত, আল্লাহতাআলা ও তার রাসুল এই সব অন্যায়কারী যুলুমকারী তাগুতদেরকে বর্জন করার আদেশ দিয়েছেন, তাদের  বিরদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলার আদেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আদেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিহাদ করার আদেশ দিয়েছে।
যেমন আল্লাহতাআলা  সুরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতে বলেছেন।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ১৪ নং আয়াতে।
قَٰتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ ٱللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করবেন এবং মু’মিনের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত ও ঠান্ডা করবেন।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-মায়িদাহের ৫৪ নং আয়াতে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَسَوْفَ يَأْتِى ٱللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُۥٓ أَذِلَّةٍ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ يُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَآئِمٍۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ তার দ্বীন হতে ফিরে গেলে সত্বর আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালবাসেন আর তারাও তাঁকে ভালবাসবে, তারা মুমিনদের প্রতি কোমল আর কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে, কোন নিন্দুকের নিন্দাকে তারা ভয় করবে না, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ- যাকে ইচ্ছে তিনি দান করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যের অধিকারী, সর্বজ্ঞ।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ২৯ নং আয়াতে।
قَٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَٰغِرُونَ
যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং কিয়ামাত দিনের প্রতিও না, আর ঐ বস্তুগুলিকে হারাম মনে করেনা যেগুলিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম বলেছেন, আর সত্য ধর্ম (অর্থাৎ ইসলাম) গ্রহণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাক যে পর্যন্ত না তারা অধীনতা স্বীকার করে প্রজা রূপে জিযিয়া দিতে স্বীকার করে।
যেমন সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে,  
তারিক ইব্‌ন শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলো, আর তখন তিনি তাঁর পদদ্বয় ঘোড়ার পাদানীতে রেখেছিলেন, কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা।
সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪২০৯

তাহলে এসব আয়াত থেকে বুঝা গেলাে তাগুতেরা যদি কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করে, রাষ্ট্রের মাঝে আল্লাহর সংবিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা করে, রাষ্ট্রের মাঝে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রীয় ভাবে যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দাও, কারন তারা মুসলিম হয়ে গেলো, আর যদি তারা এরুপ না করে তাহলে তাদের  বিরদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলো, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিহাদ করো, তাহলে বুঝা গেলাে যারা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করবে তারা মুসলিম, তাদের জন্য আল্লাহর দ্বীন রাষ্ট্রের মাঝে প্রতিষ্ঠা করা ফরজ।
এখানে কিছু কিছু আলেম শাসকেরা নিজের গাঁ বাচানাের জন্য, নিজেকে ভােগ বিলাশিতার মাঝে রাখার জন্য, তারা উল্টা পাল্টা ফতওয়া প্রদান করবে।
 তারা বলবে দ্বীনের ব্যাপারে কােন জাের জবরদস্তি নেই।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে বলেছেন,
لَآ إِكْرَاهَ فِى ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشْدُ مِنَ ٱلْغَىِّۚ فَمَن يَكْفُرْ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسْتَمْسَكَ بِٱلْعُرْوَةِ ٱلْوُثْقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
দীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই। নিশ্চয়ই ভ্রান্তি হতে সুপথ প্রকাশিত হয়েছে। অতএব যে তাগুতকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলো যা কখনও ছিন্ন হবার নয় এবং আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

তাই অনেক আলেম ও শাসকেরা এই আয়াতটির দলিল দিয়ে তারা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তারা বলে  দ্বীনের ব্যাপারে কােন জাের জবরদস্তি নেই, অথচ তারা জানেনা এই আয়াতটির প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা কি? কোন উদ্দেশ্যে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছ, কােন প্রেক্ষাপটে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে, দেখুন তাফসীরে আবু বক্কর যাকারিয়া।
এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে আবু বক্কর যাকারিয়া উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
 কোন কোন লোক প্রশ্ন করে যে, আয়াতের দ্বারা বোঝা যায়, দ্বীন গ্রহণে কোন বল প্রয়োগ নেই। অথচ দ্বীন ইসলামে জিহাদ ও যুদ্ধের শিক্ষা দেয়া হয়েছে? একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে যে, এমন প্রশ্ন যথার্থ নয়। কারণ, ইসলামে জিহাদ ও যুদ্ধের শিক্ষা মানুষকে ঈমান আনয়নের ব্যাপারে বাধ্য করার জন্য দেয়া হয়নি। যদি তাই হত, তবে জিযিয়া করের বিনিময়ে কাফেরদেরকে নিজ দায়িত্বে আনার কোন প্রয়োজন ছিল না। ইসলামে জিহাদ ও যুদ্ধ ফেৎনা-ফাসাদ বন্ধ করার লক্ষ্যে করা হয়। কেননা, ফাসাদ আল্লাহ্‌র পছন্দনীয় নয়, অথচ কাফেররা ফাসাদের চিন্তাতেই ব্যস্ত থাকে। তাই আল্লাহ্ তা'আলা এরশাদ করেছেন।
“তারা জমিনে ফাসাদ করে বেড়ায় , কিন্তু আল্লাহ্‌তাআলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ  করেন না”। [সূরা আল-মায়িদাহ ৬৪] এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা জিহাদ এবং কেতালের মাধ্যমে এসব লোকের সৃষ্ট যাবতীয় অনাচার দূর করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে মতে জিহাদের মাধ্যমে অনাচারী যালেমদের হত্যা করা সাপ-বিচ্ছু ও অন্যান্য কষ্টদায়ক জীবজন্তু হত্যা করারই সমতুল্য। ইসলাম জিহাদের ময়দানে স্ত্রীলোক, শিশু, বৃদ্ধ এবং অচল ব্যক্তিদের হত্যা করতে বিশেষভাবে নিষেধ করেছে। আর এমনিভাবে সে সমস্ত মানুষকেও হত্যা করা থেকে বিরত করেছে, যারা জিযিয়া কর দিয়ে আইন মান্য করতে আরম্ভ করেছে। ইসলামের এ কার্যপদ্ধতিতে বোঝা যায় যে, সে জিহাদ ও যুদ্ধের দ্বারা মানুষকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে না, বরং এর দ্বারা দুনিয়া থেকে অন্যায় অনাচার দূর করে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আদেশ দিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, জিহাদ-যুদ্ধের নির্দেশ
لَآ إِكْرَاهَ فِى ٱلدِّينِۖ
আয়াতের পরিপন্থী নয়। আবার কোন কোন নামধারী মুসলিম ইসলামের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। তাদেরকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা - “দ্বীন সম্পর্কে জোরজবরদস্তি নেই" -এ অংশটুকু বলে। তারা জানে না যে, এ আয়াত দ্বারা যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি শুধু তাদেরকে জোর করে ইসলামে আনা যাবে না বলা হয়েছে। কিন্তু যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে, তারা ইসলামের প্রতিটি আইন ও যাবতীয় হুকুম-আহকাম মানতে বাধ্য। সেখানে শুধু জোর-যবরদস্তি নয়, উপরন্তু শরীআত না মানার শাস্তিও ইসলামে নির্ধারিত। এমনকি তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে দ্বীনের যাবতীয় আইন মানতে বাধ্য করানো অন্যান্য মুসলিমদের উপর ওয়াজিব। যেমনটি সিদ্দীকে আকবর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের  বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন।
২] ‘তাগূত’ শব্দটি আরবী ভাষায় সীমালংঘনকারী বা নির্ধারিত সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তিকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায় তাগুত  বলা হয়ে থাকে এমন প্রত্যেক ইবাদাতকৃত বা অনুসৃত অথবা আনুগত্যকৃত সত্তাকে, যার ব্যাপারে ইবাদতকারী বা অনুসরণকারী অথবা আনুগত্যকারী তার বৈধ সীমা অতিক্রম করেছে আর ইবাদাতকৃত বা অনুসৃত অথবা আনুগত্যকৃত সত্তা তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছে বা সেদিকে আহবান করেছে। [ইবনুল কাইয়্যেম: ইলামুল মু'আক্কোয়ীন] সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি যে, তাগুত  এমন বান্দাকে বলা হয়, যে বন্দেগী ও দাসত্বের সীমা অতিক্রম করে নিজেই প্রভূ ও ইলাহ হবার দাবীদার সাজে এবং আল্লাহ্‌র বান্দাদেরকে নিজের বন্দেগী ও দাসত্বে নিযুক্ত করে।
আল্লাহ্‌র মোকাবেলায় বান্দার প্রভূত্বের দাবীদার সাজার এবং বিদ্রোহ করার তিনটি পর্যায় রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে বান্দা নীতিগতভাবে তাঁর শাসন কর্তৃত্বকে সত্য বলে মেনে নেয়। কিন্তু কার্যত তার বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করে। একে বলা হয় ‘ফাসেকী’।
 দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে আল্লাহ্‌র শাসন-কর্তৃত্বকে নীতিগতভাবে মেনে না নিয়ে নিজের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় অথবা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে অন্য কারো বন্দেগী ও দাসত্ব করতে থাকে। একে বলা হয় ‘কুফর ও শির্ক’।
তৃতীয় পর্যায়ে সে মালিক ও প্রভূর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তার রাজ্যে এবং তার প্রজাদের মধ্যে নিজের হুকুম চালাতে থাকে। এ শেষ পর্যায়ে যে বান্দা পৌছে যায়, তাকেই বলা হয় তাগুত।
এ ধরণের তাগুত  অনেক রয়েছে। কিন্তু প্রসিদ্ধ তাগুত ওলামায়ে কেরাম পাঁচ প্রকার উল্লেখ করেছেন।
(এক) শয়তান, সে হচ্ছে সকল প্রকার তাগূতের সর্দার। যেহেতু সে আল্লাহ্‌র বান্দাদেরকে আল্লাহ্‌র ইবাদাত থেকে বিরত রেখে তার ‘ইবাদাতের দিকে আহবান করতে থাকে, সেহেতু সে বড় তাগূত।
(দুই) যে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান রয়েছে বলে দাবী করে বা অদৃশ্যের সংবাদ মানুষের সামনে পেশ করে থাকে। যেমন, গণক, জ্যোতিষী প্রমূখ।
(তিন) যে আল্লাহ্‌র বিধানে বিচার ফয়সালা না করে মানব রচিত বিধানে বিচার-ফয়সালা করাকে আল্লাহ্‌র বিধানের সমপর্যায়ের অথবা আল্লাহ্‌র বিধানের চেয়ে উত্তম মনে করে থাকে। অথবা আল্লাহ্‌র বিধানকে পরিবর্তন করে বা মানুষের জন্য হালাল-হারামের বিধান প্রবর্তন করাকে নিজের জন্য বৈধ মনে করে।
 (চার) যার ইবাদাত করা হয় আর সে তাতে সন্তুষ্ট।
(পাঁচ) যে মানুষদেরকে নিজের ‘ইবাদাতের দিকে আহবান করে থাকে।
উপরোক্ত আলোচনায় পাঁচ প্রকার তাগূতের পরিচয় তুলে ধরা হলেও তাগূত আরও অনেক রয়েছে। [কিতাবুত তাওহীদ]
এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত নীতিমালার আলোকে আমরা সকল প্রকার তাগূতের পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হব।
[১] আল্লাহ্‌র রুবুবিয়্যত তথা প্রভূত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্যের দাবী করা।
[২] আল্লাহ্‌র উলুহিয়াত বা আল্লাহ্‌র ইবাদাতকে নিজের জন্য সাব্যস্ত করা। এ হিসেবে আল্লাহ্‌র রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্য যেমন, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, জীবিতকরণঃ, মৃত্যুদান, বিপদাপদ থেকে উদ্ধারকরণঃ, হালাল হারামের বিধান প্রবর্তন ইত্যাদিকে যে ব্যক্তি নিজের জন্য দাবী করবে সে তাগূত। অনুরূপভাবে আল্লাহ্‌কে ইবাদাত করার যত পদ্ধতি আছে যে ব্যক্তি সেগুলো তার নিজের জন্য চাইবে সেও তাগূত । এর আওতায় পড়বে ঐ সমস্ত লোকগুলো যারা নিজেদেরকে সিজদা করার জন্য মানুষকে আহবান করে। নিজেদের জন্য মানত, যবেহ্‌, সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদির আহবান জানায়।
[৩] তাগূতকে অস্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, তাগূত নেই বলে বিশ্বাস পোষণ করা। বরং তাগূতকে অস্বীকার করা বলতে বুঝায় আল্লাহ্‌র ইবাদাত ছাড়া অন্য কারো জন্য ইবাদাত সাব্যস্ত না করা এবং এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহ্‌র ইবাদাত ছাড়া সকল প্রকার ইবাদাতই বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আর যারা আল্লাহ্‌র বৈশিষ্ট্যে কোন কিছু তাদের জন্য দাবী করে থাকে তাদেরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এ বিশ্বাস করা যে তাদের এ ধরণের কোন ক্ষমতা নেই।
[৪] ইসলামকে যারা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে তারা যেহেতু ধ্বংস ও প্রবঞ্চনা থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, সে জন্য তাদেরকে এমন লোকের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যে কোন শক্ত দড়ির বেষ্টনকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে পতন থেকে মুক্তি পায়। আর এমন দড়ি ছিঁড়ে পড়ার যেমন ভয় থাকে না, তেমনিভাবে ইসলামেও কোন রকম ধ্বংস কিংবা ক্ষতি নেই। তবে দড়িটি যদি কেউ ছিড়ে দেয় তা যেমন স্বতন্ত্র কথা, তেমনিভাবে কেউ যদি ইসলামকে বর্জন করে, তবে তাও স্বতন্ত্র ব্যাপার ।
 (তাফসীরে আবু বক্কর যাকারিয়া)

এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
এখানে আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন-কাউকে জোর করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করো না। ইসলামের সত্যতা প্রকাশিত ও উজ্জ্বল হয়ে পড়েছে এবং ওর দলিল প্রমাণাদি বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং জোর জবরদস্তির কি প্রয়োজন? যাকে আল্লাহ সুপথ প্রদর্শন করবেন, যার বক্ষ খুলে দেবেন, যার অন্তর উজ্জ্বল হবে এবং যার চক্ষু দৃষ্টিমান হবে সে আপনা আপনিই ইসলামের প্রেমে পাগল হয়ে যাবে। কিন্তু যার অন্তর-চক্ষু অন্ধ এবং কর্ণ বধির সে এর থেকে দূরে থাকবে। অতঃপর যদি তাদেরকে জোরপূর্বক ইসলামে দীক্ষিত করা হয়, তাতেই বা লাভ কি? তাই আল্লাহ তা'আলা বলেন কাউকেও ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে জোর জবরদস্তি করো না। এই আয়াতটির শান-ই-নুযুল এই যে, মদীনার মুশরিকরা স্ত্রী লোকদের সন্তানাদি না হলে তারা ন্যর' মানতো: যদি আমাদের ছেলে-মেয়ে হয় তবে আমরা তাদেরকে ইয়াহুদী করতঃ ইয়াহুদীদের নিকট সমর্পণ করে দেবো।' এইভাবে তাদের বহু সন্তান ইয়াহুদীদের নিকট ছিল। অতঃপর এই লোকগুলো ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয় এবং আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী রূপে গণ্য হয়। এদিকে ইয়াহুদীদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ বাধে। অবশেষে তাদের আভ্যন্তরীণ যড়যন্ত্র ও প্রতারণা থেকে মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে দেশ হতে বহিস্কৃত করার নির্দেশ দেন। সেই সময় মদীনার এই আনসার মুসলমানদের যেসব ছেলে ইয়াহূদীদের নিকট ছিল তাদেরকে নিজেদের আকর্ষণে মুসলমান করে নেয়ার উদ্দেশ্যে তারা ইয়াহুদীদের নিকট হতে তাদেরকে ফিরিয়ে চান। সেই সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে বলা হয়- তোমরা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি করো না।
আলেমদের একটি বড় দলের ধারণা এই যে, এই আয়াতটি ঐ আহলে কিতাবের ব্যাপারে প্রযোজ্য যারা তাওরাত ও ইঞ্জীলের রহিতকরণ ও পরিবর্তনের পূর্বে হযরত ঈসা (আঃ)-এর ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জিজিয়া প্রদানে সম্মত হয়েছিল।
কোন কোন বিদ্বান  বলেন যে, যুদ্ধের আয়াত এই আয়াতটিকে রহিত করেছে। এখন সমস্ত অমুসলমানকে এই পবিত্র ধর্মের প্রতি আহবান করা অবশ্য কর্তব্য। যদি কেউ এই ধর্ম গ্রহণে অস্বীকার করে এবং মুসলমানদের অধীনতা স্বীকার না করে, এবং জিজিয়া প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তবে অবশ্যই মুসলমান তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে।
যেমন আল্লাহতাআলা  সূরাহ আল ফাতহের ১৬ নং আয়াতে বলেছেন।
 তোমাদের যুদ্ধ করতে ডাকা হবে খুবই শক্তিশালী এক জাতির বিরুদ্ধে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে।
 আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত তাওবার ৭৩  নং আয়াতে।
‘হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করো।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত তাওবার ১২৩ নং আয়াতে।
হে মু’মিনগণ! যে সব কাফির তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যাতে তারা তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। আর জেনে রেখো যে, মহান আল্লাহ্‌ মুত্তাক্বীদের সাথে আছেন।
বিশুদ্ধ হাদীসে আছে,
তোমার প্রতিপালক ঐ লোকদের ওপর বিস্মিত হোন যাদেরকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে যুদ্ধের মাঠ হতে টেনে আনা হয়। অতঃপর তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং এর ফলে তাদের ভিতর ও বাহির ভালো হয়ে যায় এবং তারা জান্নাতের যোগ্য হয়ে যায়।
(সহীহুল বুখারী-৬/১৬৮/৩০১০, সুনান আবূ দাউদ-৩/৫৬/২৬৭৭)
 ইমাম আহমাদ  (রহঃ) তাঁর হাদীস গ্রন্থে আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন লোককে বললেনঃ ‘মুসলিম হয়ে যাও।’ সে বলেঃ আমার মন চায়না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মন না চাইলেও মুসলিম হও। (হাদীসটি সহীহ। মুসনাদ আহমাদ  -৩/১০৯, ৩/১৮১, আল মাজমা‘উয যাওয়ায়িদ-৫/৩০৫) এই হাদীসটি ‘সুলাসী।’ অর্থাৎ মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতে তিনজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। কিন্তু এর দ্বারা এটা মনে করা উচিত হবে না যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বাধ্য করেছিলেন। বরং তাঁর এই কথার ভাবার্থ হচ্ছেঃ তুমি কালিমা পড়ে নাও, একদিন হয়তো এমন আসবে যে, মহান আল্লাহ্‌ তোমার অন্তর খুলে দিবেন এবং তুমি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাবে। তুমি হয়তো উত্তম নিয়ম ও খাঁটি ‘আমলের তাওফীক লাভ করবে।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

দেখুন তাফসীরে আহসানুল বায়ান।
এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে আহসানুল বায়ান উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
এই আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আনসারদের কিছু যুবক ছেলেরা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান হয়ে গিয়েছিল। পরে যখন আনসাররা ইসলাম গ্রহণ করল, তখন তারা তাদের ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া সন্তানদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য বাধ্য করতে চাইলে এই আয়াত অবতীর্ণ হল। আয়াত নাযিল হওয়ার কারণের দিকে লক্ষ্য করে কোন কোন মুফাসসির এটাকে আহলে-কিতাবদের জন্য নির্দিষ্ট মনে করেন। অর্থাৎ, মুসলিম দেশে বসবাসকারী ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা যদি জিযিয়া-কর আদায় করে, তাহলে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। তবে এই আয়াতের নির্দেশ ব্যাপক। অর্থাৎ, কাউকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। কারণ, মহান আল্লাহ হিদায়াত ও গুমরাহী উভয় পথই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। তবে কুফর ও শিরকের নিষ্পত্তি এবং বাতিল শক্তি চূর্ণ করতে জিহাদ করা এক ভিন্ন ব্যাপার, এটা জোর-জবরদস্তি থেতে পৃথক জিনিস। উদ্দেশ্য সমাজ থেকে এমন শক্তি ও দাপটকে ভেঙ্গে দেওয়া, যা আল্লাহর দ্বীনের উপর আমল করার ও তার তাবলীগের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় স্বাধীন সিদ্ধান্তে ইচ্ছা হলে নিজের কুফরীর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং ইচ্ছা হলে ইসলামে প্রবেশ করবে। আর যেহেতু (আল্লার পথে) বাধা দানকারী এই শক্তিসমূহ ক্রমশঃ প্রকাশ পেতেই থাকবে, তাই জিহাদের নির্দেশ এবং তার প্রয়োজনীয়তা কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। যেমন হাদীসে এসেছে যে, "জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত জারী থাকবে।" নবী করীম (সাঃ) নিজেও কাফের ও মুশরিকদের সাথে জিহাদ করেছেন এবং বলেছেন, "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের সাথে জিহাদ করার নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা-হ'র স্বীকৃতি দেয়।" (বুখারী ২৫নং) অনুরূপ মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যাওয়ার শাস্তি (হত্যা)র সাথেও এর কোন বিরোধ নেই। (যা অনেকে মনে করে থাকে।) কেননা, মুর্তাদের শাস্তি (হত্যা)র উদ্দেশ্য জোর-জবরদস্তি নয়, বরং এর লক্ষ্য ইসলামী দেশের আইনের মর্যাদা রক্ষা। একটি ইসলামী দেশে একজন কাফেরকে তার কুফরীর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার অনুমতি অবশ্যই দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু একবার সে যদি ইসলামে প্রবেশ করে যায়, তাহলে পুনরায় তাকে ইসলাম বিমুখ হওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না। সুতরাং তাকে খুব ভেবে-চিন্তে ইসলামে প্রবেশ করতে হবে। কারণ, যদি এর অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে (দেশের) আইন-শৃঙ্খলার ভিত্তিই ভেঙ্গে পড়বে এবং বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিস্তার লাভ করবে। ফলে মুসলিম সমাজের নিরাপত্তার এবং দেশের আইনকে অক্ষুণ্ণ রাখার ব্যাপারে সৃষ্টি হবে বড় বিঘ্ন। তাই যেমন মানবাধিকারের নামে হত্যা, চুরি, ব্যভিচার এবং ডাকাতি করা ইত্যাদি অপরাধের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না, অনুরূপ চিন্তা-স্বাধীনতা বা স্বাধীন সিদ্ধান্তের নামে কোন ইসলামী দেশে আইন ভঙ্গ করার (ইসলাম বিমুখ হওয়ার) অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না। এটা জোর-জবরদস্তি নয়, বরং মুরতাদকে হত্যা করা ঐরূপ সুবিচার, যেমন সুবিচার হল হত্যার, লুটতরাজের এবং চারিত্রিক অপরাধে অপরাধী ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেওয়া। একটির উদ্দেশ্য দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দ্বিতীয়টির লক্ষ্য অন্যায় ও অনাচারের হাত হতে দেশকে বাঁচানো। আর উভয় উদ্দেশ্য একটি দেশের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অধিকাংশ ইসলামী দেশগুলো এই উভয় উদ্দেশ্য ত্যাগ করার কারণে যে অস্থিরতা এবং কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
(তাফসীরে আহসানুল বায়ান)
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতে।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-মায়িদার ৩ নং আয়াতে।
ٱلْيَوْمَ يَئِسَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَٱخْشَوْنِۚ ٱلْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلْإِسْلَٰمَ دِينًاۚ
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম।

 তাহলে এত সব আয়াত ও হাদীস থেকে বুঝা গেলাে ঐ আয়াতের প্রথম অংশটুকু যেমন (দ্বীনের মাঝে কোন জোর জবরদস্তি নেই)      আল্লাহ তায়ালা সূরা তওবার সকল আয়াত দিয়ে  রহিত করে দিয়েছেন। সূরা কাফেরুন কে রহিত করে দিয়েছেন।
আর যদি তা রহিত হয়ে না যায়, তাহলে আল্লাহ রাসূল মক্কা বিজয় করার পরে, কেন ভিন্ন দেশে ইসলামের দাওয়াতের কাফেলা পাঠিয়ে দিলেন? ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ না করলে, কেন তাদেরকে  জিজিয়া কর দিতে বললেন?  তারা জিজিয়া কর দিতে অস্বীকৃতি জানাইলে, কেন তাদের সাথে  যুদ্ধ ঘােষণা করে দিলেন? কেন সাহাবীরা অর্ধ বিশ্বের মাঝে ইসলামের রাজত্ব  প্রতিষ্ঠা করলেন?
আসলে এই আয়াতের মূল অর্থ হলাে রাষ্ট্রের শাসক হবে মুসলিম, রাষ্ট্র পরিচালনা হবে কুরআন হাদিস দিয়ে, যদি কােন হিন্দু বৌদ্ধ ইহুদী খৃষ্টান ইসলাম গ্রহণ না করে, তাহলে তাদের প্রতি কোন জোর জবরদস্তি নেই, তারা সেই শাসকের আনুগত্য মেনে নিয়ে, তাদেরকে জিজিয়া কর দিয়ে তারা সে রাষ্ট্রে শান্তিতে থাকবে।
তবে তারা যদি জিজিয়া কর দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এবং মুসলিম হতেও অস্বীকৃতি জানায়, এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে,  তাহলে তাদেরকে বন্দী করতে হবে, তাদেরকে হত্যা করতে হবে। এতে যদি তারা মুসলিম হতে স্বীকার করে, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করে, নামাজ আদায় করে, রোজা পালন করে, যাকাত প্রদান করে, তাহলে তারা মুসলিম তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে।

যেমন সহীহ হাদিসে আছে।
‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল এবং সলাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারী‘আত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে।
 সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৬ (ই.ফা. ৩৬; ই.সে. ৩৭)
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫
(মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪)
তাই আল্লাহতাআলা  সুরা আত-তাওবার ২ নং আয়াতে বলেছেন,
فَسِيحُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِى ٱللَّهِۙ وَأَنَّ ٱللَّهَ مُخْزِى ٱلْكَٰفِرِينَ
অতঃপর (হে কাফিরগণ!) তোমরা চার মাস যমীনে (ইচ্ছে মত) চলাফেরা করে নাও; আর জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে নত করতে পারবে না, আল্লাহ্ই সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।

এই আয়াতটি নির্দিষ্ট মাসের ব্যাখ্যা করে তােমরা নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে তােমরা কাফেরদেরকে যেখান পাও সেখানে তাদেরকে হত্যা করো।

যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আত-তাওবার ৫ নং আয়াতে বলেছেন।
فَإِذَا ٱنسَلَخَ ٱلْأَشْهُرُ ٱلْحُرُمُ فَٱقْتُلُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَٱحْصُرُوهُمْ وَٱقْعُدُوا۟ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍۚ فَإِن تَابُوا۟ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّوا۟ سَبِيلَهُمْۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলি অতীত হয়ে যায় তখন ঐ মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং হত্যা কর, তাদেরকে ধরে ফেল, তাদেরকে অবরোধ করে রাখো এবং তাদের সন্ধানে ঘাঁটিসমূহে অবস্থান কর। অতঃপর যদি তারা তাওবাহ করে, সালাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান করে তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।

দ্বিতীয় বিষয় হলাে তাদের সাথে যদি কােন চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে হত্যা করো।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আত-তাওবার ৪ নং আয়াতে বলেছেন।
إِلَّا ٱلَّذِينَ عَٰهَدتُّم مِّنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنقُصُوكُمْ شَيْـًٔا وَلَمْ يُظَٰهِرُوا۟ عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوٓا۟ إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُتَّقِينَ
কিন্তু হ্যাঁ ঐ সব মুশরিক হচ্ছে স্বতন্ত্র যাদের নিকট থেকে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ, অতঃপর তারা তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি। সুতরাং তাদের সন্ধি চুক্তিতে তাদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পূর্ণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের পছন্দ করেন ।
তৃতীয় বিষয় হলাে হত্যা করার আগে তাদেরকে ইসলামের দিকে আহব্বান করা, যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে।
যেমন সহীহ হাদিসে আছে,    
সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোন সেনাবাহিনী কিংবা সেনাদলের উপর আমীর নিযুক্ত করতেন তখন বিশেষত তাকে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলার উপদেশ দিতেন এবং তাঁর সঙ্গী মুসলিমদের প্রতি আদেশ করতেন তারা যেন ভালভাবে চলে। আর (বিদায়লগ্নে) বলতেন, যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে। লড়াই করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে গনীমাতের মালের খিয়ানত করবে না, চু্ক্তি ভঙ্গ করবে না, শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি সাধন করবে না। শিশুদেরকে হত্যা করবে না। যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা আচরণের প্রতি আহবান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটিই গ্রহণ করে, তুমি তাদের পক্ষে থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবে।
প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে। যদি তারা তোমার এ আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে সরে দাঁড়াবে। এরপর তুমি তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে মুহাজিরদের এলাকায় (মাদীনায়) চলে যাওয়ার আহ্বান জানাবে। এবং তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যেসব উপকার ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে। আর যদি তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সে বিধান কার্যকরী হবে, যা মু’মিনদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গনীমাত ও ফাই থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলিমদের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশীদার হবে। আর যদি ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে , তাদের কাছে ‘জিযয়াহ’ প্রদানের দাবী জানাবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা এ দাবী না মানে তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর যদি ‍তুমি কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ‍যিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলের যিম্মাদারী মেনে নিবে না। বরং তাদেরকে তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা তারা যদি তোমার ও তোমার সাথীদের যিম্মাদার ভঙ্গ করে, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গের চাইতে কম গুরুতর।  আর যদি তোমরা কোন দুর্গের অধিবাসীদের অবরোধ করো, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক নেমে আসতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর নেমে আসতে দিবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর নেমে আসতে দেবে। কেননা তোমার জানা নেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে কি-না?
আবদুর রহমান (রহঃ) এ হাদীস কিংবা এ হাদীসের অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইসহাক্ (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসের শেষাংশে ইয়াহইয়া ইবনু আদম (রহঃ) সূত্রে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান  (রহঃ) -এর কাছে বর্ণনা করেছি। তখন তিনি ইয়াহইয়া (রহঃ) অর্থাৎ-‘আলকামাহ  (রহঃ) -এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি তা বর্ণনা করেছেন ইবনু হাইয়্যানের উদ্দেশ্যে। অতএব তিনি বলেন যে, মুসলিম ইবনু হায়সাম (রহঃ), নু‘মান ইবনু মুকাররিন (রহঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
 সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৪১৪ (ই.ফা. ৪৩৭২, ই.সে. ৪৩৭২)
তাহলে বােঝা গেল রাষ্ট্রের শাসনকর্তা হবে মুসলিম। তারা আল্লাহ সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। অমুসলিমদের কােন আদিপত্য থাকবে না দেশে, তারা কােন সরকারি উচ্চ  পদে চাকুরি পাবেনা, তবে তারা দেশের নাগরিত্ব পরিপূর্ণ ভাবে পাবে,  রাষ্ট্রীর  সকল সুবিধা পরিপূর্ণ ভাবে  পাবে,  তাদেরকে ইসলাম গ্রহনের জন্য দাওয়াত দিতে হবে। কোন প্রকার জোর জবরদস্তি ছাড়াই,  যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে। তাহলে তাদেরকে জিজিয়া কর দিয়ে দেশে থাকতে হবে। এটাই হলাে প্রকৃত ব্যাখ্যা।
কিন্তু বর্তমান সমাজে কিছু আলেমরা, কিছু দেশ প্রধানরা, এই আয়াত নিয়ে ওদের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। ওদের রাষ্ট্রীয় অংশে সুরা সদস্য ব্যক্তি হওয়া নিশ্চিত করে। এটা একেবারে ওদের অজ্ঞতা কুরআন হাদিসের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে তারা এমন কথা বলে, আর এই সুযােগে তারা কাফেররা স্লোগান দিচ্ছে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্রের মাঝে সবার সমান অধিকার থাকবে। হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ভাই ভাই রাষ্ট্রের কাজে সবাই এগিয়ে যাই। আবার বলে সকল প্রকার সম্পাদায়িকতা বন্ধ কর। আবার বলে ধর্মীয় কােন ফতওয়া চলবে না রাষ্ট্রের মাঝে। এই সব বাক্য হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ইহুদী বলার সাহস পাচ্ছে শুধু আপনাদের কারণে।
আপনারা ওদের কাছ থেকে জিজিয়া কর নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন সেই কারণে। ওরা এই সুযােগে আপনাদের মাথার উপর চরে বসেছে। এখন উল্টাে আপনাদের কাছ থেকে তারা জিজিয়া কর নিচ্ছে। ধিক মুসলিম জাতি আপনারা আজ কত নিচে একটু ভেবে দেখুন?
যাই হউক মূল কথায় আসি, মূল কথা হলাে যারা কলেমা স্বীকার করবে, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি দিয়ে মুসলিম হবে। তাদের জন্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ফরজ। যদি তারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে না পারে আল্লাহর সংবিধান রাষ্ট্রের মাঝে বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবুও তাদেরকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে মৃত্যু পর্যন্ত,  এই হলাে মুসলিমদের জন্য বাধ্যকতা, আর যদি তারা মুসলিম থেকে ফিরে যায়, যদি তারা নিজের নফসের খেয়াল খুশি মতাে চলে,  তাহলে  তারা ঈমান আনার পরে কুফরি করলাে।
 হয়তাে অনেক মুসলিম এই ধারণা করে, বর্তমান দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে জেল জরিমানা ফাঁসির ভয় থাকতে পারে, কারন বিগত দিনে অনেক মুসলিম ভাইকে এই দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলার কারনে ফাসি দেওয়া হয়েছে,  তাই অনেক মুসলিম আলেম ও জনগন এ পথ থেকে সরে যাইতে পারে।
আবার যদি কােন মুসলিম তার নিজের  মালের ক্ষতি হওয়ার আশংকা করে, যেমন তার সম্পদ গুলি সরকার অধিন্যস্ত করে নিবে, বা তাদের গ্রামের জনগণ তাদের সম্পত্তি ভাগ করে নিবে, এই ভয়ে তারা যদি এই সঠিক পথ থেকে দুরে সরে যায়, তাহলে তাদের জন্য নিশ্চিত আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব গজব আসবে, কারণ যদি তারা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার জন্য তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন সংবিধান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য মাজলুমদেরকে জুলুম নির্যাতনের হাত
থেকে রক্ষা করার জন্য যদি তারা জিহাদ বেরিয়ে না পড়ে, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে মর্মান্তিক শাস্তি দিবেন এবং অপর এক জাতিকে তাদের প্রতি চাপিয়ে দিবেন। তারা সেই জাতির কােনই ক্ষতি করতে পারবে না।
তাই আল্লাহতাআলা সুরা আত-তাওবার ৩৮ ও ৩৯ নং আয়াতে ঘােষণা করে দিয়েছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلْتُمْ إِلَى ٱلْأَرْضِۚ أَرَضِيتُم بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا مِنَ ٱلْءَاخِرَةِۚ فَمَا مَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْءَاخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔاۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের হয়েছে কী যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধর। তোমরা কি আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ কর? আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী তো অতি সামান্য।
যদি তোমরা যুদ্ধাভিযানে বের না হও, তাহলে তোমাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে আনা হবে (অথচ) তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

 অবশেষে তাই হলাে হযরত ওসমান (রাঃ) এর খিলাফত কালে তখন মুসলিমরা ধন সম্পদ বাড়ি গাড়ির মোহে পরে জিহাদ থেকে বিরত থাকলো তখনেই ইহুদী খৃষ্টানরা সুযােগ পেল, তারা সুযােগটি কাজে লাগালাে, কারন তারা এমন একটি সুযােগের অপেক্ষায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছিলাে, তাই তারা মুসলিমদের দলে প্রবেশ করলাে এবং মুসলিমদেরকে  বিভক্ত করতে লাগলো, আজ মুসলিমদের মাঝে শত শত দল শুধু এই একটি কারণে, তারা মুসলিমরা  যখনেই জিহাদ থেকে বিরত থাকলো, তখনেই তারা মুসলিমদের মাঝে মুসলিমদের দন্ড বেধে দিল। অবশেষে মুসলিমদের মাঝে রক্তপাত হতে লাগলো।
 বিশেষ করে হযরত আলী (রাঃ) এর খিলাফত কালে মুসলিমদের মাঝে  সব সময় যুদ্ধ হতেই লাগলো। আর তখন থেকেই যত যুদ্ধ হয়েছে সবগুলােই যুদ্ধ মুসলিমদের মধ্যেই হয়েছে। এটা শুধু মুসলিমরা কাফেরদের বিরদ্ধে যুদ্ধে বেরিয়ে না পরার কারণে শাস্তি, এভাবেই আস্তে আস্তে ইহুদী খৃষ্টানরা সারা বিশ্ব গ্রাস করে নিলাে। এখন বর্তমান ইহুদী খৃষ্টানরা এ বিশ্ব পরিচালনা করতেছে, এ আয়াতের এটা একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।
 যদি তােমরা বেরিয়ে না পরাে তাহলে তােমাদের প্রতি অপর এক জাতিকে চাপিয়ে দেওয়া হবে তােমরা তাদের কােনই ক্ষতি করতে পারবে না। আসলে বাস্তবেই আজ আমরা কাফেরদের কােনই ক্ষতি করতে পারতেছিনা। আমরা রাশিয়া ফ্রান্স বিট্রেন আমেরিকা ইসরাঈলদের কােন ক্ষতি করতে পারতেছিনা। অথচ ওরা আমাদেরকে ব্যাপক-ভাবে ক্ষতি করতেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে মার্কিন ড্রোন হামলা চালিয়ে কত লাখ লাখ মুসলিম শিশু বৃদ্ধ তরুন তরুনীকে হত্যা করেছে তার কােন পরিসংখ্যান কারও জানা নেই। মুসলিম রাষ্ট্রগুলাে শূন্য ঘরের মতাে মরুভূমির মতাে করে দিয়েছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলাের মাঝে কােন শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই। বিশেষ করে আফগানিস্তান উজবিকিস্তান ফিলিস্তিন চিচনিয়া বচনিয়া এগুলাে রাষ্ট্র আজ শূন্য ঘরের মতাে। এদেশের মুসলিমরা আজ ঘরে ঘুমাতে পারতেছেনা। কখনো রুশ বাহিনী হামলা   কখনো মার্কিন বাহিনী হামলা কখনো ইসরাঈল-বাহিনী  হামলা। কখনো ড্রোন নামক বিমানটি অতর্কিত হামলা  এসে তাদের সবকিছু ধ্বংস  করে দিচ্ছে। তারা এই ভাবনাতে ঠিক মতাে ঘুমাতে পারতেছেনা, ঠিক মতো খাইতে পারতেছেনা। কি তাদের কষ্টের জীবন এর কারণ কী? এর কারণ শুধু একটাই আমরা কাফেরদের বিরদ্ধে জিহাদে বেরিয়ে না পরার কারণ। আর যখন কিছু মুসলমান  বুঝে  জিহাদে বেরিয়ে পরলাে তখন ইহুদী খৃষ্টানরা নামধারি মুসলিম তাগুত সরকাররা সবাই একযােগে তাদের প্রতি আক্রমণ করে তাদের ছােট রাষ্ট্র দুটিকে ধংস করে দিলাে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগলাে এই নামধারি মুসলিম তাগুত শাসকের অবস্থা দেখে তারা কিভাবে মার্কিন, রাশিয়া, ইসরাঈল, বৃট্রেন, ও মায়ানমারের  বৌদ্ধদেরকে সাহায্য করলো, বিশ্বের সকল মুসলিম রাষ্ট্রগুলােকে ধংস করার জন্য। ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করার জন্য, চেচনিয়া বচনিয়াকে ধ্বংস  করার জন্য, মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে ধ্বংস  করার জন্য। আমি বড় নির্বােধ হয়ে যাই। এই সব নামধারি মুসলিমদের কীর্তি কানুন  দেখে অথচ এরা দাবি করে এরা নাকি খাটি মুসলিম। জানিনা এরা কােন জাতের খাটি মুসলিম?
 তাই ঐ আয়াতের এ বাস্তব দৃষ্টান্ত বর্তমান আজ সারা বিশ্ব ইহুদী খৃষ্টানদের দখলে, আজ ওরা আমাদের শাসন করতেছে। ওদের অধিন্যস্ত হয়ে আমাদেরকে থাকতে হচ্ছে। ওদের গােলাম হয়ে আমাদেরকে থাকতে হচ্ছে,  আর আমরা ওদের কােন ক্ষতি করতে পারতেছিনা।
 তাই আল্লাহতাআলা সুরা  আত-তাওবার ৩৯ নং আয়াতে বলেছেন।
إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔاۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
তোমরা যদি যুদ্ধাভিযানে বের না হও, তাহলে তোমাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে আনা হবে (অথচ) তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

 বাস্তবে আজ তাই হচ্ছে ওরা আমাদেরকে পাখীর মতাে গুলি করে মারতেছে, নির্যাতন করতেছে, হত্যা করতেছে, আর আমরা ওদের কােনই ক্ষতি করতে পারতেছিনা। ওরা আমাদের প্রতিটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র  নামক জীবন ব্যবস্থা  দিয়ে মুসলিমদের মাঝে ফেতনা ফাসাদ বৃদ্ধি  করে দিয়েছে। তাইতো আজ মুসলিমদের মাঝে রক্তপাত চলতেছে, অথচ আমরা ওদের কােনই ক্ষতি করতে পারতেছিনা ।
তাই আমি সকল মুসলিম জাতিদেরকে অনুনয়ের সাথে আহব্বান  করছি এখনো সময় আছে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে পেতে। আমরা এখনেই হক কলেমা পড়ে, হক কলেমার প্রচারের পথে,  প্রতিষ্ঠার পথে ও বাস্তবায়নের পথে বেরিয়ে পরি। (ইনশাআল্লাহ)  আল্লাহ আমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই সাহায্য করিবেন।

 কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি ওয়াদা দিয়ে মুসলিম হয়ে, তারপরে  সেই সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা ভুলে গেলে, এবং সেই কলেমার বাস্তবায়ন অন্তত  নিজের মধ্যেও করতে না পারলে  সে কি কুফরি করলাে?

অবশ্যই সে কুফরি করলাে,
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতে বলেছেন,
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ
তাদের অধিকাংশ লোক  আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, কিন্তু তাঁর সাথে সাথে  শরীক করে।
 আল্লাহ তাআলা এই সব লােকদের কথা এখানে বলেছেন। তারা আমার প্রতি ঈমান আনবে, তারা কলেমা স্বীকার করবে, তারা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করবে, তারপরে তারা মুসলিম হয়ে সেই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতির কথা ভুলে যাবে, তা বাস্তবায়ন করার কথা ভুলে যাবে, তাই তারা কলেমা স্বীকার করার পরেও মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত। অথচ তারা তা বুঝতে পারে না। এই অবস্থায় তারা তাদের  জীবন পার  করে দেয়, এই অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়, যানিনা আল্লাহ  তাদের সাথে কি আচারণ করবেন, সেই আল্লাহই ভালােই জানেন।
 তাই আপনাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যদি  তা বাস্তবায়ন না করাে, এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা সংগ্রাম চালিয়ে না যাও, অন্তন্ত নিজের মাঝে বাস্তবায়ন না করো, তাহলে আপনারা অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহর সাথে কুফরি করলেন, সত্যিকারের মুসলিম থেকে বহিষ্কৃত হলেন।
যেমন আল্লাহতাআলা সূরা নিচার ৭৪ নং আয়াতে বলতেছেন।
فَلْيُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يَشْرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْءَاخِرَةِۚ وَمَن يُقَٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
অতএব যারা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত ক্রয় করে তারা যেন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে; এবং যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর নিহত অথবা বিজয়ী হয়, তাহলে আমি তাকে মহান প্রতিদান প্রদান করব।
এখানে  এ আয়াতের তাপপর্য্য হলো সে  সকল মানুষেরা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি ওয়াদা দিয়ে মুসলিম হয়েছে, এবং  পার্থিব জীবনের সুখ শান্তি বিক্রি করে দিয়েছে, পরকালের বিনিময়ে, জান্নাতের বিনিময়ে, সে সব মানুষের অবশ্যই উচিত, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করার জন্য, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর  সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা জন্য আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আন নিচা ৭৬ নং আয়াতে।
ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّٰغُوتِ فَقَٰتِلُوٓا۟ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَٰنِۖ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَٰنِ كَانَ ضَعِيفًا
 যারা (কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে) আল্লাহর পথে ঈমান এনেছ তারা সর্বদা (আল্লাহ সংবিধান প্রতিষ্ঠার জন্য) আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে, পক্ষান্তরে যারা (কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা প্রদান করে নাই ) আল্লাহর পথে ঈমান আনে নাই তারা সর্বদা যুদ্ধ করবে তাগুতের পথে শয়তানের পথে।
 তাহলে এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট হলাে গেলাে যে কলেমা স্বীকার করার পরে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়ার পরে মুসলিম হলাে, তার জন্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ফরজ।
তাই ইতিহাসে সাহাবীদের জীবনিতে দেখা যায় তারা সবাই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহর  সংবিধান প্রতিষ্ঠা করার জন্য, কাফের তাগুত শয়তানের সাথে যুদ্ধ করেছেন। এমন কি শত কষ্ট ক্লেশ অনাহারে থেকে, এমনকি নিজের  রক্ত দিয়ে, তারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন সংবিধান প্রতিষ্ঠা করেছেন। যদি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ফরজ না হতাে, তাহলে তারা কেন এত কষ্ট করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করলেন? কেন তারা বাড়ি ঘর আরাম আয়েশ স্ত্রী সন্তানের মহব্বত ছেড়ে তারা মাসের পর মাস বছরের পর বছর কেন তারা যুদ্ধের ময়দানে থাকলেন? কেন তারা শত্রুর সাথে লড়লেন? তারা তাে বাসায় থেকে নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত আদায় করে, স্ত্রী সন্তানদেরকে নিয়ে সুখে দিন কাটাতে পারতেন? আর হজ্জ্বের মৌসুম এলে হাজীদের পানি পান করাতেন, অসহায় দুর্বলদেরকে সাহায্য সহযােগিতা করতেন, গরীবদের জন্য বাসস্থান  করে দিতেন, কেন তারা এমন  না করে, কেন  তারা সর্বদা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলেন?
তাহলে বুঝা গেলাে কলেমা সাক্ষ্য স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে, মুসলিম হওয়ার কারণে, আল্লাহ জমিনে আল্লাহ আইন প্রতিষ্ঠা করা তাদের জন্য ফরজ হয়ে গেছে, যেহেতু তারা নিজেই মুসলিম হওয়ার দাবীতে মুসলিম হওয়ার শর্তে তারা নিজেই আল্লাহর কাছে  সাক্ষ্য স্বীকৃতি দিয়েছে এ জমিন আল্লাহর আইন চলবে আল্লাহর।
 যদি তারা এ কলেমা স্বীকার করে না  নিতাে, এ কলেমা সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা না দিতাে, তাহলে তাদের কােন প্রয়ােজন ছিলােনা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য, নিজের হাতে   দায়িত্ব  তুলে নেওয়ার জন্য, তারা তাদের খেয়াল খুশি মতাে চলতে পারতাে, তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানে চলতে পারতাে, তারা যা ইচ্ছা করে তাই করতে পারতাে, কিন্তু  তারা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়ার কারণে তারা আল্লাহর কাছে ওয়াদা বন্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
আল্লাহ কিন্তু  তাদের কাছে সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা জোর করে নেয়নি। তারা নিজের ইচ্ছায় বুঝে শুনে ভেবে স্ব-জ্ঞানে কারাে জ্ঞানের  প্রবঞ্চনায় বশীভূত না হয়ে, কারাে বক্তিতায় আহব্বানে সারা না দিয়ে, তারা নিজের থেকে নিজের  বিবেকের আদালতকে প্রশ্ন করে, রিচার্জ করে, গবেষণা করে, নিজের জ্ঞানের থেকে তারা আল্লাহর সাথে  ওয়াদা করেছেন, তার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য, তারপরে যদি তারা সেই ওয়াদা ভুলে যায়, তাহলে তারা আল্লাহ সাথে কুফরি করলাে, মুনাফিকি করলাে, আর আল্লাহ তাআলা কুফর ও মুনাফিকদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন হাবিয়া দােযখ।
আল্লাহতাআলা সুরা আন নিসার ১৪৫ নং আয়াতে বলেছেন।
إِنَّ ٱلْمُنَٰفِقِينَ فِى ٱلدَّرْكِ ٱلْأَسْفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থান করবে এবং তুমি কখনও তাদের জন্য সাহায্যকারী পাবেনা।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-হাদীদের ১৯  নং আয়াতে।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصِّدِّيقُونَۖ وَٱلشُّهَدَآءُ عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَحِيمِ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনে তারাই তাদের প্রতিপালকের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ। তাদের জন্য আছে তাদের প্রতিদান ও তাদের নূর। আর যারা কুফুরী করে আর আমার আয়াতকে  অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের বাসিন্দা।
তাই তারা তাদের তাগিদে তাদের সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা পালন করার জন্যে তারা সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলো,   তাদের মনে সর্বদা এই ভয় ভীতি বিরাজ করেছিলাে আমরা আমাদের ওয়াদা পালনে মুনাফিক হয়ে গেলাম নাকি। আমরা আমাদের ওয়াদা পালনে কুফরি করলাম নাকি। তাই এই কারণে ওমর (রাঃ) প্রায় যায়েদ ইবনে হারস (রাঃ) কে, এবং  ইবনে মাসউদ (রাঃ) কে, জিজ্ঞসা করতেন ভাই আল্লাহর রাসূল (সঃ) আপনাদেরকে দিয়ে মুনাফেকের নাম লিষ্ট করাইতেন সেই মুনাফেকের তালিকায় আমার নামটা আছে না কি?
 তাহলে দেখুন তারা কতই ভয় ভীতির মধ্যে ছিলো। তারা সর্বদা নিজেকে ভাবতো আমরা মুনাফিক হয়ে গেলাম নাকি। এই চিন্তায় সাহাবীরা দিন রাত মাস বছর অতিবাহিত করতাে, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা পালনে তারা কতটা ভীতু অবস্থায় দিন কাটাতাে তা বক্তিতার মাধ্যমে, কলম দিয়ে লেখনীর মাধ্যমে, বােঝানাে সম্ভব নয়।
 তারা এত বেশি ভীতু অবস্থায় থাকতাে। শুধু এতটুকু উপমা দেওয়া যায়, উজ্জল রাতে বনের মাঝে বাঘের ভয়ে যেমন  হরিণ ছানা ভীতু হয়ে আট-সাট হয়ে ঝােপের মাঝে নিঃচুপে থাকে, আর সে সর্বদা ভাবে আমাকে দেখে ফেলে নাকি আমাকে খেয়ে ফেলে নাকি। আমার মৃত্যু হয় নাকি।
বা একটি মানুষের সামনে  যখন মানুষ খেকাে দানব এসে তার সামনে উপস্থিত হয় , বা সামনে জান কবজ করা আজরাঈল ফেরেস্তার তার সামনে উপস্থিত হয়,   তখন মানুষ যতটা ভীত হয়,  তার চেয়েও তারা শত শত গুণে বেশি আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকতো, তাইতাে সাহাবীরা বাড়ি গাড়ি অর্থ সম্পদের মহব্বত  ছেড়ে, স্ত্রীদের আদর সােহাগের মহব্বত  ছেড়ে, তারা সর্বদা তাদের কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য তারা  আল্লাহর পথে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন।
দেখুন সাহাবীদের জীবনি দেখুন সাহাবীদের ইতিহাস।
এখন আমার প্রশ্ন আপনাদের প্রতি তাদের কলেমা কি আলাদা? আর আপনাদের কলেমা কি আলাদা? তাদের নবী রাসূল আল্লাহ কি আলাদা? আর আপনাদের নবী রাসূল আল্লাহ কি আলাদা?
তাদের কোরআন ও কােরআনের আদেশ নিষেধ কি আলাদা?
আর আপনাদের কােরআন ও কোরআনের আদেশ নিষেধ কি আলাদা?
তাদের ধর্ম কি আলাদা? আপনাদের ধর্ম কি আলাদা?
 তাদের দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি কি আলাদা? আপনাদের দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি কি আলাদা?
তাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান কি আলাদা? আর আপনাদের রাষ্ট্রীয় সংবিআধান কি আলাদা?
তাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান কি আল-কোরআন? আর আপনাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান  কি মানব রচিত সংবিধান?
তাহলে কেন তাদের সাথে আপনাদের মিল নেই?
 তাদের রীতি নীতি আচার আরচণ আমল আখলাত কেন আলাদা? আর আপনাদের রীতি নীতি আচার আচরণ আমল আখলাত কেন আলাদা?
 আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যদি আপনারা নিজেকে সত্যিকার  মুসলিম হিসেবে দাবি করেন, তাহলে আপনাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই সাহাবীদের সাথে মিল থাকতে হবে।
যদি একান্ত  তাদের সাথে সকল দিক দিয়ে মিল রাখা সম্ভব না হয়, তবুও মৌলিক দিক গুলাে মৌলিক বিষয় গুলাে হুবুহু মিল রাখতে হবে। কারণ ইসলামের মৌলিক দিক গুলো মৌলিক   বিষয় সবার জন্য সমান, কেউ ইসলামের মৌলিক দিক গুলো, মৌলিক  বিষয় গুলাে একটু কম বেশি করতে পারবে না। তাই ইসলামের মৌলিক দিকগুলাে সাহাবীদের মতাে রাখতে হবে। তা না হলে সে ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।
ইসলামের মৌলিক দিক গুলাে নবী রাসূল সাহাবী তাবে তাবেঈন আলেম  মুফতী মুহাদ্দেস মুফাচ্ছের, রাষ্ট্র শাসক নেতা নেত্রী ও সাধারণ মানুষ সবার জন্যই সমান কারাে জন্যই কম বেশি নয়, সবাইকে বাধ্যতামূলক একই নিয়মে ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলো  পালন করতে হবে।
তাই এখানে কারাে কােন অযুহাত চলবে না। কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদার ক্ষেত্রে যেহেতু এটা ইসলামের প্রধান মৌলিক বিষয় তাই রাসূল (সঃ) ও সাহাবীগণ যে নিয়মে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করেছেন, ঠিক একই নিয়মে আমাদেরকেও করতে হবে। চুল পরিমাণ এদিক সেদিক করা যাবেনা হুবুহু একই নিয়মে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করতে হবে।
 ইসলামের প্রধান মৌলিক বিষয়ের প্রতি আল্লাহ তাআলা কাউকে চুল পরিমাণও ছাড় দিবেন না। তবে যারা অন্ধ, একবারেই চির অসুস্থ,  চির দুর্বল, চির অভাবী, তাদের ব্যতিরেখে, তাছাড়া আল্লাহতাআলা আর কাউকে চুল পরিমাণও ছাড় দিবেন না। এই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, কারণ প্রতিটি মুসলিমদের জন্য এ বাস্তবায়ন করা ফরজ, যেমন তার প্রতি নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত পালন করা ফরজ, তেমনি তার প্রতি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা  ফরজ।
কেউ যদি তা বাস্তবায়ন করাকে অস্বীকার করে তাহলে সে আর মুসলিম থাকেনা, কারণ সে আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করলাে, সে আল্লাহর সাথে কুফরি করলাে তাই আল্লাহ এদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রেখে দিয়েছেন।
 যেমন  আল্লাহতাআলা সুরা আল-বাকারার ৮৫ নং আয়াতে ঘােষণা করেছেন।
 أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ ٱلْكِتَٰبِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍۚ فَمَا جَزَآءُ مَن يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنكُمْ إِلَّا خِزْىٌ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَاۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰٓ أَشَدِّ ٱلْعَذَابِۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।
তাই আপনারা  যারা কােরআনের কিছু ফরজ বিধানকে মান্য  করবেন, আর কিছু ফরজ বিধানকে অমান্য করবেন, তুচ্ছ  তাচ্ছিল্য  করবেন, তাহলে জেনে রাখেন আপনারা  কুফরি করলেন, আপনারা নিজেই আপনাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা  করে নিলেন, এতে কােন সন্দেহ নেই। আবার যদি আপনারা কােরআনের সব ফরজ বিধানকে পালন করেন, আর মাত্র একটি ফরজ বিধানকে অমান্য করেন, তবুও আপনাদের জন্য ঐ একই শাস্তির ব্যবস্থা  এতে কােন সন্দেহ নেই।
 তাই সবার জন্য কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করা ফরজ, এ থেকে কারাে পিছে আসার পথ নেই। অবশ্যই অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
 এখন হয়তাে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন। কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করতে হলে, ইসলামি রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠা করতে হলে, তাহলে তো দেশ প্রধানদের সাথে লড়তে হবে। এটা কিভাবে সম্ভব? যেহেতু দেশের সরকারদের আনুগত্য করা ফরজ, তাহলে তাে আমরা দেশদ্রােহীতা হয়ে যাব।
 তাহলে এখন আমার প্রশ্ন, আপনারা যে আল্লাহর জমিনে বসবাস করতেছেন, কিন্তু আল্লাহর কথা শুনতেছেন না, আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করতেছেন না, তাহলে কি আপনারা  আল্লাহর সাথে বিদ্রােহ করতেছেন না? আপনারা  কি আল্লাহদ্রোহী হইতেছেন না?
ওহে মুসলিম জাতি আপনারা  একটু বিবেকের জ্ঞান দিয়ে ভেবে দেখাে? আপনারা যদি দেশের সরকারের কথা অমান্য করলে, দেশীয় সংবিধানকে অমান্য করলে, যদি দেশদ্রোহী হয়ে যান, তাহলে আপনারা  আল্লাহর হুকুম আদেশ নিষেধ অমান্য করতেছেন। আল্লাহ সংবিধান অমান্য করতেছেন। তাহলে কি আল্লাহদ্রোহী হয়ে যাচ্ছেন না? ওহে মুসলিম জাতি আপনাদের  বিবেকের কাছে প্রশ্ন ?
 আর বলতেছেন দেশের সরকারকে মান্য করা, তার কথা বার্তা হুকুম আহকাম পালন করা, তার আইন বিধান পালন করা  ফরজ, কােথায় পেলেন এ বিধান? দেশের তাগুত সরকারদেরকে মান্য করা ফরজ নয়, তাদেরকে রাষ্ট্র থেকে উৎখাত করা ফরজ।
 তবে যদি দেশের সরকার মুসলিম ঈমানদার হয়, তাহলে সেই সরকারের ততক্ষণ পর্যন্ত আনুগত্য করা ফরজ, যথক্ষণ পর্যন্ত সে কোরআন ও হাদিসের বিচার ফয়সালা সমাজের মাঝে, রাষ্ট্রের মাঝে, প্রতিষ্ঠিত রাখে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আনুগত্য করা ফরজ। আর যখন সে কােরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া বিধান দিয়ে, বা তাদের প্রবীণ গুর মহোদয়ের  গড়া রচিত বিধান দিয়ে, বা মানব রচিত সংবিধান দিয়ে  দেশ পরিচালনা করে, তখন তার আনুগত্য করা ফরজ নয়, তখন তাকে রাষ্ট্রীয় আসন থেকে উৎখাত করা  ফরজ, আর যদি সে রাষ্ট্রীয় আসন থেকে নামতে না চায়, এবং আপনাদেরকে প্রতিঘাত করে, বন্দি করে, জুলুম নির্যাতন করে, ফাসি প্রদান করে,  তাহলে আপনাদের সকলের জন্য উচিত একজন ইসলামিক আমীরের নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে  অস্ত্র ধারণ করে তাকে  নামিয়ে দেওয়া ফরজ।
যেহেতু আল্লাহতাআলা সুরা আন নিসার ৫৯ নং আয়াতে বলেছেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْۖ فَإِن تَنَٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর ও রাসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের জন্য যারা বিচারক তাদের; অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয় তাহলে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাক; এটাই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি।
এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ইবনে কাসীর   উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ,
সহীহ বুখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি ছোট নৌবাহিনীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হুযায়ফা ইবনে কায়েস (রাঃ)-কে প্রেরণ করেন। তার ব্যাপারে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং একজন আনসারীকে তার নেতৃত্ব দান করেন। একদা তিনি সৈন্যদের উপর কি এক ব্যাপারে ভীষণ রাগান্বিত হয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্যের নির্দেশ দেননি? তাঁরা বলেন, হ্যা। তিনি বলেন, “তোমরা জ্বালানী কাষ্ঠ জমা কর। অতঃপর তিনি আগুন আনিয়ে নিয়ে কাষ্ঠগুলো জ্বালিয়ে দেন।
তারপরে তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে এ আগুনের মধ্যে প্রবেশ করার নির্দেশ দিলাম। তখন একজন নব্য যুবক সৈন্যদেরকে বলেন, আপনারা অগ্নি হতে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর নিকট আশ্রয় নিয়েছেন। আপনারা তাড়াতাড়ি করবেন না যে পর্যন্ত না আপনারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তিনিও যদি আপনাদেরকে আগুনে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন তবে ওতে প্রবেশ করবেন। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট ফিরে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা যদি আগুনে প্রবেশ করতে তবে আর কখনও সে আগুন হতে বের হতে না। জেনে। রেখো, আনুগত্য শুধু আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কার্যেই রয়েছে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যেও হাদীসটি হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। সুনান-ই-আবু দাউদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ শ্রবণ করা ও মান্য করা মুসলমানের উপর ফরয়, তা তার নিকট প্রিয়ই হোক বা অপছন্দনীয়ই হোক, যে পর্যন্ত না (আল্লাহ ও রাসূলের) অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়া হয়। যখন অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়া হবে তখন শ্রবণও করতে হবে না এবং মান্যও করতে হবে না।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা শ্রবণ করা ও মান্য করার উপর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করি, তাতে আমাদের সন্তুষ্টিই হোক বা অসন্তুষ্টিই হোক, আমরা কঠিন অবস্থাতেই থাকি বা সহজ অবস্থাতেই থাকি। এবং যদিও আমাদের উপর অপরকে প্রাধান্য দেয়া হয়, আর আমরা কার্যের যোগ্য ব্যক্তি হতে কার্য ছিনিয়ে না নেই। তিনি বলেন, কিন্তু এই যে, তোমরা স্পষ্ট কুফরী দেখ যার ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহ প্রদত্ত কোন প্রকাশ্য দলীল রয়েছে। সে সময় তোমাদেরকে শ্রবণও করতে হবে না, মান্যও করতে হবে না)।
সহীহ বুখারী শরীফে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা শ্রবণ কর ও মান্য কর যদিও তোমাদের উপর একজন ক্ষুদ্র মস্তক বিশিষ্ট হাবশী ক্রীতদাসকে আমীর বানিয়ে দেয়া হয়। সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সঃ) আমাকে শ্রবণ করার ও মান্য করার উপদেশ দিয়েছেন যদিও সে একজন ত্রুটিযুক্ত হাত-পা বিশিষ্ট হাবশী ক্রীতদাসও হয়'।
সহীহ মুসলিমে হযরত উম্মে হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তার বিদায় হজ্বের ভাষণে বলতে শুনেছেন-“যদি তোমাদের উপর একজন ক্রীতদাসকে আমেল বানিয়ে দেয়া হয় এবং সে তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করে তবে তোমরা তার কথা শ্রবণ করবে ও মান্য করবে। অন্য বর্ণনায় ‘কর্তিত অঙ্গ বিশিষ্ট হাবশী ক্রীতদাস’-এ শব্দগুলো রয়েছে। তাফসীর-ই-ইবনে জারীরে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ আমার পরে সত্বরই তোমাদের উপর ভাল আমীর ভাল হুকুম চালাবে এবং মন্দ আমীর মন্দ হুকুম চালাবে। সত্যের অনুরূপ কার্যে তোমরা প্রত্যেকেরই আদেশ শুনবে ও মানবে এবং তাদের পিছনে নামায পড়তে থাকবে। যদি তারা ভাল কাজ করে তবে তাদের জন্যেও মঙ্গল এবং তোমাদের জন্যেও মঙ্গল। আর যদি তারা মন্দ কাজ করে তবে তোমাদের জন্যে মঙ্গল বটে কিন্তু তাদের মন্দ কর্মের প্রতিফল তাদেরকেই ভোগ করতে হবে।'
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে ক্রমাগত একের পর এক নবী আসতে থাকতেন। কিন্তু আমার পরে কোন নবী নেই, বরং খলীফা রয়েছে এবং তারা অধিক সংখ্যক হবে। জনগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! তাহলে আপনি আমাদেরকে কি নির্দেশ দিচ্ছেন?' তিনি বলেনঃ ‘প্রথম জনের বায়আত পূর্ণ কর, তারপর তার পরবর্তী জনের বায়আত পূর্ণ কর। তোমরা তাদেরকে তাদের হক পূর্ণভাবে দিয়ে দাও। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের প্রজাদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।'
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি স্বীয় আমীরের কোন অপছন্দীয় কাজ দেখে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। যে ব্যক্তি দল হতে অর্ধ হাত দূরে সরে যাবে সে অজ্ঞতা যুগের মৃত্যুবরণ করবে।' (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) -কে বলতে শুনেছেনঃ “যে ব্যক্তি আনুগত্য হতে হাত টেনে নেয় সে কিয়ামতের দিন। হুজ্জত ও দলীল ছাড়াই আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর যে ব্যক্তি। এমন অবস্থায় মারা যাবে যে তার স্কন্ধে কারও বশ্যতা স্বীকার নেই, সে অজ্ঞতার যুগের মৃত্যুবরণ করবে।' (সহীহ মুসলিম)
সহীহ মুসলিমেই হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবদ-ই-রাব্বিল কাবা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহ শরীফে গিয়ে দেখি যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রাঃ) কাবা ঘরের ছায়ায় বসে রয়েছেন এবং তথায় একটি জনসমাবেশ রয়েছে। আমিও ঐ সমাবেশের এক পার্শ্বে বসে পড়ি। সে সময় হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা এক মজলিসে অবতরণ করি। কেউ তাঁর তাঁবু ঠিক করতে লেগে পড়েন, কেউ স্বীয় তীর গুছিয়ে নেন এবং কেউ অন্য কোন কাজে লেগে পড়েন। এমন সময় হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘোষণাকারী সকলকে ডাক দিয়ে বলেন-নামাযের জন্য একত্রিত হোন। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট একত্রিত হই। তখন তিনি বলেনঃ ‘প্রত্যেক নবী (আঃ)-এর উপর আল্লাহ পাক ফরয করেছেন যে, তিনি যেন স্বীয় উম্মতকে তার জানা সমস্ত ভাল কথা শিখিয়ে দেন এবং তাঁর দৃষ্টিতে যা কিছু মন্দ তা হতে যেন তাদেরকে সতর্ক করেন। জেনে রেখো, এ উম্মতের নিরাপত্তার যুগ হচ্ছে এ প্রথম যুগ। শেষ যুগে বড় বড় বিপদ আসবে যা মুসলমানগণ অপছন্দ করবে এবং ক্রমাগত ফিনা আসতে থাকবে। একটি হাঙ্গামা উপস্থিত হলে মুমিন মনে করবে যে, তাতেই তার ধ্বংস রয়েছে। ওটা সরে গিয়ে আর একটি ওর চেয়েও বড় গণ্ডগোল আসবে যাতে সে নিজের ধ্বংস অনিবার্য বলে বিশ্বাস করবে। এভাবেই ক্রমাগত হাঙ্গামা, ভয়াবহ পরীক্ষা এবং ভীষণ বিপদ আসতেই থাকবে। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম হতে দূরে থাকতে ও জান্নাতে অংশ নিতে চায়, সে যেন মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত আল্লাহর উপর ও কিয়ামতের দিনের উপর বিশ্বাস রাখে। জনগণের সাথে যেন ঐ ব্যবহার করে যা সে নিজের জন্যে পছন্দ করে। জেনে রেখো যে ব্যক্তি ইমামের বায়আত গ্রহণ করলো সে তার হাতের ক্ষমতা এবং অন্তরের ফল তাকে দিয়ে দিল। তখন তার আনুগত্য স্বীকার করা তার উচিত। তখন যদি অন্য কেউ এসে ঐ ক্ষমতা ইমাম হতে ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছে করে তবে তোমরা তার গর্দান উড়িয়ে দাও।' আবদুর রহমান (রঃ) বলেন, আমি নিকটে গিয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)-কে বলি, আমি আপনাকে আল্লাহ তাআলার কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি স্বয়ং এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখে শুনেছেন? তখন তিনি তাঁর দু'খানা হাত স্বীয় কান ও অন্তরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে এ দু'কানে শুনেছি এবং এ অন্তরে রক্ষিত রেখেছি। আমি তখন বলি, আপনার চাচাত ভাই হযরত মুআবিয়া (রাঃ)-কে দেখুন যে, তিনি আমাদেরকে আমাদের পরস্পরের মাল অন্যায়ভাবে খেতে ও পরস্পর যুদ্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন, অথচ আল্লাহ তাআলা এদুটো কাজ হতে নিষেধ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে (আরবী) অর্থাৎ “হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসা ব্যতীত অন্যায়ভাবে পরস্পরের ধন-সম্পত্তি গ্রাস করো না এবং তোমরা নিজেদেরকে। হত্যাও করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাশীল।' (৪:২৯) এটা শুনে হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের কাজে তোমরা তার আদেশ মান্য কর এবং তাঁর অবাধ্যতার কোন নির্দেশ দিলে তা মান্য করো না। এ সম্পর্কে আরও বহু হাদীস রয়েছে।

(আরবী) -এ আয়াতের তাফসীরেই হযরত সুদ্দী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাঃ)-কে এর সেনাপতি নিযুক্ত করেন। ঐ সেনাবাহিনীতে হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসারও (রাঃ) ছিলেন। ঐ সেনাবাহিনী যে গোত্রের দিকে যাওয়ার ইচ্ছে করেছিলেন সে দিকেই চলছিলেন। রাত্রিকালে তাদের গ্রামের নিকটে তারা শিবির সন্নিবেশ করেন। ঐ লোকগুলো গুপ্তচরের মাধ্যমে এ সংবাদ জেনে নেয় এবং ঐ রাত্রেই তারা সবাই গ্রাম হতে পলায়ন করে। শুধুমাত্র একটি লোক রয়ে যায়। সে তার পরিবারের লোককে নির্দেশ দেয়ায় তারা তাদের আসবাবপত্র জমা করে। অতঃপর সে রাত্রির অন্ধকারেই হযরত খালিদ (রাঃ)-এর সেনাবাহিনীর মধ্যে চলে আসে এবং ঠিকানা জেনে হযরত আম্মার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। হযরত আম্মার (রাঃ)-কে সে বলে, “হে আবুল ইয়াকন! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং সাক্ষ্য দিয়েছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমার সারা গোত্র এখানে আপনাদের আগমন সংবাদ শুনে পলায়ন করেছে। শুধু আমি রয়ে গেছি। তাহলে আগামীকাল কি আমার এ ইসলাম আমার জন্যে উপকারী হবে? যদি আমি উপকৃত না হই তবে আমিও পালিয়ে যাই।' হযরত আম্মার (রাঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই তোমার এ ইসলাম দ্বারা তোমার উপকার লাভ হবে। তুমি পালিয়ে যেয়ো না, ওখানেই থাক। সকালে হযরত খালিদ (রাঃ) আক্রমণ চালান এবং ঐ লোকটি ছাড়া আর কাউকেও পেলেন না। তাকে তিনি মালসহ গ্রেফতার করেন। হযরত আম্মার (রাঃ) এ সংবাদ জানতে পেরে হযরত খালিদ (রাঃ)-এর নিকট আগমন করেন এবং তাকে বলেন, একে ছেড়ে দিন। সে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং আমার আশ্রয়ে রয়েছে। হযরত খালিদ (রাঃ) তখন তাকে বলেন, আপনি তাকে আশ্রয় দেয়ার কে?' এতে উভয় মনীষীর মধ্যে কিছু বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অবশেষে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আম্মার (রাঃ)-এর এ আশ্রয় দানকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন এবং আগামীতে আমীরের পক্ষ হতে কাউকে আশ্রয় দিতে নিষেধ করে দেন।

আবার দু'জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। এতে হযরত খালিদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেন, আপনি এ নাক কাটা গোলামকে কিছু বলছেন না? দেখুন তো, সে আমাকে কিরূপ অন্যায় কথা বলছে?' তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে খালিদ (রাঃ)! হযরত আম্মার (রাঃ)-কে মন্দ বলো না। যে আম্মার (রাঃ)-কে গালি দেবে, আল্লাহ পাক তাকে গালি দেবেন। যে ব্যক্তি আম্মার (রাঃ)-এর শত্রুতা পোষণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবেন। যে ব্যক্তি আম্মার (রাঃ)-কে অভিশাপ দেবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে অভিশাপ দেবেন।' হযরত আম্মার (রাঃ) ক্রোধে তথা হতে প্রস্থান করেন। হযরত খালিদ (রাঃ) তখন দৌড়ে গিয়ে তাঁর (কাপড়ের) অঞ্চল টেনে ধরেন এবং স্বীয় অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন ও অবশেষে তিনি তাকে ক্ষমা করতে সম্মত হন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর ও তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী)  দ্বারা বোধশক্তি সম্পন্ন ও ধার্মিক ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আলেমগণ। বাহ্যিক কথা তো এটাই মনে হচ্ছে, তবে প্রকত জ্ঞান আল্লাহ পাকেরই রয়েছে। এ শব্দটি সাধারণ, এর ভাবার্থ আমীর’ ও ‘আলেম উভয়ই হতে পারে, যেমন পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কুরআন কারীমে ইরশাদ হচ্ছে- (আরবী) অর্থাৎ তাদের আলেমগণ তাদেরকে মিথ্যা কথা বলা হতে এবং সুদ ভক্ষণ হতে নিষেধ করে না কেন?’(৫:৬৩) অন্য জায়গায় রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ ‘তোমরা না জানলে যারা জানে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। (১৬:৫৩) সহীহ হাদীসে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার আনুগত্য স্বীকারকারী হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকারকারী এবং যে আমার অবাধ্য হয়েছে সে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়েছে। যে ব্যক্তি আমার নির্বাচিত আমীরের অবাধ্য হয়েছে সে আমারই অবাধ্য হয়েছে। সুতরাং এ হলো আলেম ও আমীরগণের অনুগত্য স্বীকারের নির্দেশ। এ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে- “তোমরা আল্লাহ তা'আলার আনুগত হও' অর্থাৎ তার কিতাবের অনুসারী হও। আল্লাহ তা'আলার রাসূলের অনুগত হও’ অর্থাৎ তাঁর সুন্নাতের উপর আমল কর। আর তোমাদের আদেশদাতাদের আনুগত্য স্বীকার কর। অর্থাৎ তাদের ঐ নির্দেশের প্রতি অনুগত হও যেখানে আল্লাহ তা'আলার। আনুগত্য রয়েছে। তারা যদি আল্লাহ তা'আলার নির্দেশের বিপরীত কোন আদেশ করে তবে তাদের সে আদেশ মান্য করা মোটেই উচিত নয়। কেননা, এ সময়ে আলেম ও আমীরদের আদেশ মান্য করা হারাম। যেমন ইতিপূর্বে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, আনুগত্য শুধু আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কার্যেই রয়েছে। অর্থাৎ তাদের আনুগত্য রয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর নির্দেশের বেষ্টনীর মধ্যে।

মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে এর চেয়েও স্পষ্ট হাদীস রয়েছে। সেখানে হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলার অবাধ্যতার কার্যে আনুগত্য নেই। অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন-“যদি তোমাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ সৃষ্টি হয় তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর দিকে প্রত্যাবর্তিত হও।' অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সঃ)-এর হাদীসের দিকে ফিরে এসো, যেমন হযরত মুজাহিদ (রঃ)-এর তাফসীরে রয়েছে। সুতরাং এখানে স্পষ্ট ভাষায় মহা সম্মানিত আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে যে, যে মাসআলায় মানুষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়, ঐ মাসআলা ধর্মনীতি সম্পৰ্কীয়ই হোক বা ধর্মের শাখা-প্রশাখা সম্পর্কীয়ই হোক, এর মীমাংসার জন্যে একটিমাত্র পথ রয়েছে, তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তাআলার কিতাব ও রাসূল (সঃ)-এর হাদীসকে মীমাংসাকারী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এ দুটোর মধ্যে যা রয়েছে তাই মেনে নিতে হবে। যেমন কুরআন মাজীদের অন্য আয়াতের রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ সৃষ্টি কর, ওর ফায়সালা আল্লাহ তাআলার নিকট রয়েছে।' (৪২:১০) অতএব, কিন্তব ও সুন্নাহ যা নির্দেশ দেবে এবং যে মাসআলার উপর সঠিকতার সাক্ষ্য প্রদান করবে এটাই সত্য এবং অন্য সবই মিথ্যা। কুরআন কারীমে ঘোষণা হচ্ছেঃ সত্যের পরে যা রয়েছে তা শুধু পথভ্রষ্টতাই বটে।' এ জন্যেই এখানেও এ নির্দেশের সাথেই ইরশাদ হচ্ছেঃ যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক।' অর্থাৎ যদি তোমরা ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী হও তবে যে জিজ্ঞাস্য বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই এবং যাতে মতভেদ রয়েছে, যে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করা হয়, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর হাদীস দ্বারা এসবের মীমাংসা কর, এ দুটোর মধ্যে যা রয়েছে তাই মেনে নাও।' অতএব, সাব্যস্ত হলো যে, মতভেদী জিজ্ঞাস্য বিষয়ের মীমাংসার জন্য যারা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসে না তারা আল্লাহ তা'আলার উপর বিশ্বাস রাখে না।
এরপর ইরশাদ হচ্ছে-বিবাদসমূহে ও মতভেদের ব্যাপারে আল্লাহ পাকের কিতাব ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই তোমাদের জন্যে উত্তম এবং এটাই হচ্ছে কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর পরিসমাপ্তি। এটাই হচ্ছে উত্তম প্রতিদান লাভের কাজ।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর)

এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে আহসানুল বায়ান  উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ,
[১] اُولُو الأمر (উলুল আম্র) বলতে কেউ বলেছেন, নেতা ও শাসকগণ। কেউ বলেছেন, উলামা ও ফুক্বাহাগণ। অর্থের দিক দিয়ে উভয় শ্রেণীর মান্যবরদেরকেই বুঝানো যেতে পারে। উদ্দেশ্য এই যে, প্রকৃত আনুগত্য তো আল্লাহর প্রাপ্য। কারণ তিনি বলেছেন, أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ] "জেনে রাখো, সৃষ্টি করা এবং নির্দেশদান তাঁরই কাজ।" (আ'রাফঃ ৫৪) [اِنِ الْحُكْمُ إلاَّ للهِ] "বিধান দেওয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই।" (ইউসুফঃ ৪০) কিন্তু রসূল (সাঃ) যেহেতু মহান আল্লাহর ইচ্ছার এক নিষ্ঠাবান প্রকাশক এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথগুলো (মানুষের কাছে) তুলে ধরার ব্যাপারে তিনি তাঁর প্রতিনিধি, এ জন্যই মহান আল্লাহর স্বীয় আনুগত্যের সাথে সাথে রসূল (সাঃ)-এর আনুগত্য করাকেও ওয়াজেব করে দেন এবং বলেন যে, রসূলের আনুগত্য করলে প্রকৃতপক্ষে তাঁরই আনুগত্য করা হয়। "যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল।" (নিসাঃ ৮০) এ থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হাদীসও কুরআনের মত দ্বীনের দলীল। এ ছাড়া আমীর ও শাসকের আনুগত্য করাও জরুরী। কারণ, হয় তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বাস্তবায়ন করেন অথবা সকল মানুষের কল্যাণ সাধনের ব্যবস্থাপনা ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আমীর ও শাসকের আনুগত্য করা জরুরী হলেও তা একেবারে শর্তহীনভাবে নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের শর্তসাপেক্ষ। আর এই কারণেই
أَطِيْعُوا الله এর পরই  
الرَّسُوْل। أَطِيْعُوا  বলেছেন। কেননা, এই উভয় আনুগত্যই স্বতন্ত্র ও ওয়াজেব। পক্ষান্তরে
وَأَطِيْعُوا أُولِي الأَمْر        বলেননি, কারণ উলুল আম্র বা শাসকদের আনুগত্য স্বতন্ত্র নয়। আর হাদীসে বলা হয়েছে আল্লাহর অবাধ্যাচরণে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" (মিশকাত ৩৬৯৬, আল্লামা আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।) মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে, "আল্লাহর অবাধ্যতায় কোন আনুগত্য নেই।" (মুসলিম ১৮৪০নং) বুখারীর বর্ণনায় এসেছে, "আনুগত্য হবে কেবল ভালো কাজে।" (বুখারী ৭১৪৫) 'শাসকের কথা শুনতে হবে ও তাঁর আনুগত্য করতে হবে যতক্ষণ না (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের) অবাধ্যতা হবে।' আলেম-উলামার ব্যাপারটাও অনুরূপ। (যদি তাঁদেরকে শাসকদের মধ্যে শামিল করা হয়) অর্থাৎ, তাঁদের আনুগত্য এই জন্যই করতে হবে যে, তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের যাবতীয় বিধি-বিধান বর্ণনা করেন এবং তাঁর দ্বীনের জন্য পথ-প্রদর্শকের কাজ করেন। বুঝা গেল যে, দ্বীনি বিষয়ে এবং দ্বীন সম্পর্কীয় কার্যকলাপে আলেম-উলামা শাসকদের মতই এমন কেন্দ্রীয়-মর্যাদাসম্পন্ন যে, জনসাধারণ তাঁদের প্রতি রুজু করে থাকে। তবে তাঁদের আনুগত্য ততক্ষণ পর্যন্ত করা যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা জনসাধারণকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা শুনাবেন। কিন্তু তাদের বিপথগামী (বা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীতগামী) হওয়ার কথা স্পষ্ট হলে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না। বরং এই অবস্থায় তাঁদের আনুগত্য করলে বড় অপরাধ ও গুনাহ হবে।

[২] আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ, কুরআনের দিকে রুজু করা এবং এখন রসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হল, (সহীহ) হাদীসের দিকে রুজু করা। বিবাদী সমস্যার সমাধানের জন্য এটা হল অতি উত্তম এক মৌলিক নীতি। আর এই মৌলিক নীতি থেকে এ কথাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তৃতীয় কোন ব্যক্তিত্বের আনুগত্য ওয়াজেব নয়। যেমন, ব্যক্তি অনুকরণ অথবা নির্দিষ্ট করে কারো অন্ধানুকরণ করার সমর্থকরা তৃতীয় আর এক আনুগত্যকে জরুরী সাব্যস্ত করেছে। আর কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য বিরোধী তৃতীয় এই আনুগত্য মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ এক উম্মতে পরিণত করার পরিবর্তে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন উম্মতে পরিণত করেছে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে প্রায় অসম্ভব করে দিয়েছে।
(তাফসীরে আহসানুল বায়ান)
এই আয়াতের ব্যাখায় তাফসীরে ফাতহুল মাজীদে উল্লেখ করেছেন নিম্নরুপ।
 আলী (রাঃ)‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং একজন আনসারীকে নেতৃত্ব দান করেন। ইবনু আব্বাসের বর্ণনায় রয়েছে: তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন হুযাফাহ (রাঃ)‎। যখন তারা বের হলেন, হঠাৎ তিনি সেনা বাহিনীর ওপর কোন বিষয়ে রাগান্বিত হন। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দেননি? তারা বলল হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা জ্বালানী কাঠ জমা কর, তারপর আগুন এনে কাঠগুলো জ্বালিয়ে দাও। অতঃপর নির্দেশ দিয়ে বললেন: আমি তোমাদেরকে এ আগুনে প্রবেশ করার নির্দেশ দিচ্ছি। তখন সেনারা তাতে প্রবেশ করার উপক্রম করল। এমন সময় একজন যুবক বললেন: আপনারা আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিছু না জানা পর্যন্ত তড়িঘড়ি করবেন না। তিনি যদি তাতে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন তাহলে প্রবেশ করবেন।
আলী (রাঃ)‎ বলেন: সকলে রাসূলের নিকট ফিরে এসে ঘটনাটি বলল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা যদি তাতে প্রবেশ করতে তাহলে কোনদিন তথা হতে বের হতে পারতে না। আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। (সহীহ বুখারী হা: ৭১৪৫, ৪৫৮৪, সহীহ মুসলিম হা ১৮৪০, ১৮৩৪)

(উলুল আমর মিনকুম) ‘যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন।
(উলুল আমর মিনকুম) হল: আলেম ও দীনদার ব্যক্তিবর্গ।
তাফসীর মুয়াসসারে বলা হয়েছে: উলুল আমর হল শাসক শ্রেণি।
ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা ভাল জানেন। আয়াতে শাসক ও আলেম সকল প্রকার ক্ষমতাধর ব্যক্তি শামিল। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নিজের আনুগত্য ও রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নেতা ও শাসকদেরও।
আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় আনুগত্যের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
“আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। আর নিজেদের আমল নষ্ট কর‎ না।”(সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩৩)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাই আয়াতে أَطِيْعُوا (তোমরা আনুগত্য কর) শব্দটি আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। কিন্ত
(উলুল আমর মিনকুম)
নেতা, শাসকের) পূর্বে ব্যবহার করেননি। তার মানে হল- নেতা বা শাসকের আনুগত্য আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ন্যস্ত। যদি শাসক বা আলেমের নির্দেশ আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ মোতাবেক হয় তাহলে অবশ্যই আনুগত্য করতে হবে এবং এ আনুগত্য করা ওয়াজিব। কেননা এটা মূলত নেতার আনুগত্য নয়, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য। আর যদি নেতা এমন আনুগত্যের দিকে আহ্বান করে বা নির্দেশ দেয় যা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশের বিরুদ্ধে যেমন শানে নুযূলে জানলাম তাহলে নেতা কখনো আনুগত্যের পাত্র হবেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
খালেকের (আল্লাহ তা‘আলার) অবাধ্যে কোন মাখলুকের আনুগত্য নেই। (মিশকাত হা: ৩৬৯৬, সহীহ)
অন্যত্র নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: একজন মুসলিম ব্যক্তির আবশ্যক হল নেতার আনুগত্য করবে এবং তার কথা শুনবে, সে ব্যক্তি নেতার নির্দেশ পছন্দ করুক আর অপছন্দ করুক। যদি নেতা আল্লাহ তা’আলার অবাধ্য কোন কাজের নির্দেশ না দেয়, যদি আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কোন কাজের নির্দেশ দেয় তাহলে তার অনুসরণ করা যাবে না এবং আনুগত্যও করা যাবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৭১৪৪, সহীহ বুখারী কিতাবুল ইমারাহ হা: ৩৮)
যদি কোন নেতা, শাসক, ইমাম, এবং আলেম-উলামাদের পথ নির্দেশনা ও তরিকা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের পথ নির্দেশনা ও তরিকা অনুযায়ী হয় তাহলে অবশ্যই মান্য করা আবশ্যক। অন্যথায় কখনো অনুসরণ করা যাবে না।
এরপরেও আলেম বা শাসকের আনুগত্য করতে গিয়ে যদি কোন বিষয়ে বিবাদ দেখা দেয় তাহলে ফায়সালার প্রত্যাবর্তনস্থল কী হবে তারও দিক-নির্দেশনা আল্লাহ তা‘আলা প্রদান করেছেন।
তা কোন ওয়ালী আওয়ালিয়া বুজুরগানে দীন বা মানব রচিত কিতাব নয়। তা হল আল্লাহ তা‘আলার কিতাব কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ হাদীস।
যারা কোন বিষয়ে বিবাদ দেখা দিলে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাবে তারাই আল্লাহ তা‘আলা ও আখিরাতে বিশ্বাসী।
যারা আল্লাহ তা‘আলা ও আখিরাতে বিশ্বাসী না তারা কোন বিষয়ে বিবাদ দেখা দিলে কুরআন সুন্নাহ বাদ দিয়ে এদিক-সেদিক দৌড়াবে। মীসাংসার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
সুতরাং প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির আবশ্যক হলো আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের আনুগত্য করবে, সেই সাথে নেতার আনুগত্য করবে যদি নেতা কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক নেতৃত্ব দেয়। অন্যথায় নেতা আনুগত্যের পাত্র হবে না। আর কোন বিষয়ে বিবাদ দেখা দিলে তার সমাধান নিব কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে মানব রচিত কোন বিধান বা মতামত থেকে নয়।
(তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ)
এ বিষয়ে রাসুল (সঃ) এর অনেক হাদিস আছে।
 যেমন ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু হুসায়ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আমার দাদী থেকে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিদায় হাজ্জের ভাষণ দেয়ার সময় তাঁকে বলতে শুনেছেন “যদি তোমাদের উপর একজন গোলামকেও কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় আর সে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে পরিচালনা করে, তবে তোমরা তার কথা শুনবে এবং মেনে চলবে।
 সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬৫২
(ই.ফা. ৪৬০৬, ই.সে. ৪৬০৮)
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ্ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ যতক্ষণ আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া না হয়, ততক্ষণ পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সকল বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য তার মান্যতা ও আনুগত্য করা কর্তব্য। যখন নাফরমানীর নির্দেশ দেয়া হয়, তখন আর কোন মান্যতা ও আনুগত্য নেই।
  সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭১৪৪
 [২৯৫৫; মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৫৯)
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘পাপ কাজের আদেশ না করা পর্যন্ত ইমামের কথা শোনা ও তার আদেশ মানা অপরিহার্য। তবে পাপ কাজের আদেশ করা হলে তা শোনা ও আনুগত্য করা যাবে না।’
 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৯৫৫
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
উবাদাহ বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট থেকে আমাদের খুশী ও কষ্টের বিষয়ে, স্বস্তি ও অস্বস্তির বিষয়ে এবং আমাদের অগ্রাধিকার নষ্ট হলেও আনুগত্য ও আদেশ পালনের উপর এবং ক্ষমতাসীন শাসকের বিদ্রোহ না করার উপর বায়আত (প্রতিশ্রুতি) গ্রহণ করেছেন। বলেছেন, “তবে হ্যাঁ, যদি তোমরা প্রকাশ্য কুফরী হতে দেখ, যাতে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন দলীল বর্তমান থাকে (তাহলে বিদ্রোহ করতে পার)।” (বুখারী ৭০৫৬, মুসলিম ৪৮৭৭ নং)
  হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৮৩০
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইমরান বিন হুস্বাইন থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (ত্বাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩ নং)
  হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৮২৩
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবূ অলীদ উবাদাহ ইবনে স্বামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না।’ (বুখারী ৭২০০, মুসলিম ৪৮৭৪)
  হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৫৯২
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবূ অলীদ উবাদাহ ইবনু সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না।’
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৯১
[১] ফুটনোটঃ
[১] সহীহুল বুখারী ৭০৫৬, ১৮, ৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১৬৮৭৩৩, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮, মুসলিম ১৭০৯, তিরমিযী ১৪৩৯, নাসায়ী ৪১৪৯, ৪১৫১৪, ৪১৫২, ৪১৫৩, ৪১৫৪, ৪১৬১, ৪১৬২, ৪১৭৮, ৪২১০, ৫০০২, ইবনু মাজাহ ২৬০০, ২৮৬৬, আহমাদ ৪৩৮৮, ১৫২২৬, ২২১৬০, ২২১৯২, ২২২০৯, ২২২১৮, ২২২৪৮, ২২২৬৩.

অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূ্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, পাপকাজ ব্যতীত যে কোন কাজে মুসলিম ব্যক্তির (নেতৃবৃন্দের) আনুগত্য করা অপরিহার্য, তা তার মনঃপূত হোক বা না হোক। অতএব পাপ কাজের নির্দেশ দেয়া হলে তা শোনাও যাবে না, আনুগত্য করাও যাবে না।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮৬৪
তাহকীক আলবানীঃ সানদটি সহীহ।
ফুটনোটঃ
[২৮৬৪] সহীহুল বুখারী ২৯৫৫, মুসলিম ১৮৩৯, তিরমিযী ১৭০৭, আবূ দাউদ ২৬২৬, আহমাদ ৪৬৪৫, ৬২৪২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূ্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (নেতৃ-আদেশ) শ্রবণ করো এবং আনুগত্য করো, এমনকি আংগুর ফল সদৃশ (ক্ষুদ্র) মস্তিষ্কবিশিষ্ট কাফ্রী ক্রীতদাসকেও যদি তোমাদের নে্তৃপদে নিয়োগ করা হয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮৬০
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
ফুটনোটঃ
[২৮৬০] সহীহুল বুখারী ৬৩৯, আহমাদ ১১৭১৬, বায়হাকী ফিস সুনান ৫/২৮৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নাসীহাত করেন, যাতে অন্তরসমুহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি তো বিদায় গ্রহণকারীর উপদেশ দিলেন। অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন (একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন)। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ্‌ভীতি অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (নেতৃ-আদেশ), যদিও সে কাফ্রী গোলাম হয়। আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। অবশ্যই তোমরা বিদ‘আত কাজ পরিহার করবে। কারন প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২
ফুটনোটঃ
[৪২]  তিরমিযী ২৬৭৬, আবূ দাঊদ ৪৬০৭, আহমাদ ১৬৬৯২, দারিমী ৯৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৪৫৫, মিশকাত ১৬৫, ফিলাল ২৪-২৬, সালাতুত তারাবীহ ৮৮-৮৯।
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করলেন এবং একজনকে এর সেনাপতি বানিয়ে তাদেরকে সেনাপতির কথা শোনার ও আনুগত্য করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর ঐ সেনাপতি আগুন জ্বালিয়ে তাদেরকে তাতে ঝাঁপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন। একদল লোক তাতে ঝাঁপ দিতে অস্বীকার করে বললো, আমরা তো আগুন থেকেই পালিয়াছি (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্যই ইসলাম কবুল করেছি)। আবার কিছু লোক আগুনে ঝাঁপ দেয়ার মনস্থ করলো। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কানে পৌঁছালে তিনি বললেনঃ তারা যদি আগুনে ঝাঁপ দিতো তাহলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়ে যেতো। তিনি আরো বললেনঃ আল্লাহর অবাধ্যতায় কারোর আনুগত্য নেই। আনুগত্য কেবল সৎ কাজে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৬২৫
অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অচিরেই এমন কতক ‘আমীরের উদ্ভব ঘটবে তোমরা তাদের চিনতে পারবে এবং অপছন্দ করবে। যে ব্যক্তি তাদের সরূপ চিনল সে মুক্তি পেল এবং যে ব্যক্তি তাদের অপছন্দ করল সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে ব্যক্তি তাদের পছন্দ করল এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হল)। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, যতক্ষণ তারা সলাত আদায়কারী থাকবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬৯৪ (ই.ফা. ৪৬৪৭, ই.সে. ৪৬৪৯)
   তাহলে এসব আয়াত ও হাদীস থেকে বুঝা গেলো শাসকের ৪ টি গুণ থাকা আবশ্যক,
 ১। সে মুসলিম আলেম হবে, অথবা কােরআন হাদীসর যথেষ্ট জ্ঞানী  হবে,
 ২। সে নিজে নামাজ আদায় করবে, এবং  রাষ্ট্রে নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে,
 ৩। সে আল্লাহ ও রাসূলর আনুগত্য করবে, এবং আল্লাহ ও রাসূলের আইন কানুন বিধি বিধান নিজে পালন করবে,  এবং তা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
 ৪। সে সমাজে ভালাে কাজের দিকে মানুষকে আহব্বান  করবে, এবং অন্যায় কাজ হতে মানুষকে বিরত থাকার আদেশ করবে, এবং সে সৎ ও ভালাে কাজ করবে, এবং অপরকে সৎ ও ভালো কাজ করার আদেশ করবে।

আজ দেখা যাচ্ছে আমাদের রাষ্ট্র শাষকদের এই চারটি গুণের একটি গুণও নেই, উল্টো তার বিপরীত, তাহলে এ শাসকদের অনুগত্য করা কিভাবে ফরজ হয়?
 একটি অবুঝ শিশু বা একটি ভালাে জ্ঞানী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলে, তারাও বলে দিবে এসব শাসকের অনুগত্য করা  হারাম, বড় গুনাহের কাজ, তাই একজন মুসলিম মুজাহিদ আমীরের নেতৃত্বে তাদের বিরদ্ধে আন্দোলন  করে, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদ থেকে সরিয়ে দিয়ে, সেখানে একজন  খাটি মুসলিম শাসকদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া সকল মুসলিদর জন্য ফরজ,  যে মুসলিম শাসক কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, যে মুসলিম শাসক আল্লাহর সংবিধান আল্লাহর আইন কানুন বিধান রাষ্ট্রের মাঝে   প্রতিষ্ঠা করবে।
 আর যদি তারা তাওবা করে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করে নিজে নামাজ আদায় করে, রাষ্ট্রের মাঝে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, রাষ্ট্রের সকল প্রকার বিচার ফয়সালা আল্লাহর সংবিধান দিয়ে করে, তাহলে তাদের ক্ষমতা তাদের হাতে ছেড়ে দাও।
তাই আপনারা সবাই রাষ্ট্রীয় শাসকদেরকে দাওয়াত প্রদান করুন, বিবৃতি পাঠান, তারা যেন আল্লাহর সংবিধান দিয়ে দেশ পরিচালনা করে, তারা যেন রাষ্ট্রের মাঝে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, তারা যদি তা করে, তাহলে আপনাদের কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করার কাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন আর আপনাদেরকে সরকারের বিরদ্ধে আন্দোলন করতে হবেনা, সরকারের বিরদ্ধে কথা বলতে হবেনা, শত শত লেখকদেরকে আর রাত জেগে জেগে কষ্ট করে লেখার প্রয়ােজন হবেনা, শত শত আলেমদেরকেও এ বিষয়ে আর বক্তিতা দিতে হবেনা,  তাই আপনারা সবাই দেশ প্রধানদেরকে দাওয়াত প্রদান করুন, তারা যেন সবাই হক কলেমা পড়ে এবং আল্লাহর সংবিধান দিয়ে  রাষ্ট্র পরিচালনা করে, কেন আপনারা খামাখা আগে তাদের সাথে আন্দোলন  করতে যাবেন? আগে তাদেরকে কলেমার দাওয়াত প্রদান করুন, তাদেরকে  সঠিক ইসলামের পথ নিয়ে আসুন, যদি আপনারা তা পারেন তাহলে তো সবাই মুক্তি পেলেন।
আর যদি তারা সঠিক ইসলামের পথে না আসে, তারা যদি আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা না করে, তারা যদি গণতন্ত্র  মানব রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তাহলে তাদের সাথে আন্দোলন  করা আপনাদের জন্য ফরজ, একজন মুসলিম  আমীরের নেতৃত্বে  তাদের বিরদ্ধে আন্দোলন  করে, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদ থেকে সরিয়ে দিয়ে, সেখানে একজন খাটি মুসলিম শাসকদের হাতে রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতা তুলে দেওয়া সকল মুসলিমদের জন্য ফরজ।
কারন তারা নিশ্চিত ফাসেক, জালেম, কাফের হয়ে গেছে, তারা আল্লাহর বিধান অমান্যকারী, তারা আল্লাহর বিধান পরিবর্তনকারী আল্লাহদ্রােহী তাগুত হয়ে গেছে।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা  আল-মায়িদার ৪৪ নং আয়াতে বলেছেন।
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰفِرُونَ
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবতারিত (বিধান) অনুযায়ী বিচার করেনা, এমন লোকতো পূর্ণ কাফির।
আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-মায়িদার ৪৫ নং আয়াতে।
 وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবতারিত বিধান অনুযায়ী ফাইসালা করেনা, তাহলেতো এমন ব্যক্তি পূর্ণ যালিম।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-মায়িদার  ৪৭ নং আয়াতে।
 وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ
 আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবতারিত (বিধান) অনুযায়ী হুকুম প্রদান করেনা, তাহলেতো এ রূপ লোক পাপাচারী ফাসিক।
আর আল্লাহতাআলা এই সব কাফেরদের  বিরুদ্ধে একজন খাটি মুসলিম মুজাহিদ আমীরের নেতৃত্বে      আন্দোলন  করে, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদ থেকে সরিয়ে দিয়ে, সেখানে একজন খাটি মুসলিম শাসকদের হাতে রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতা তুলে দেওয়া সকল মুসলিমদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন।
যেমন সহীহ হাদিসে আছে,
ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫ (মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪)

  অন্য আর এক সহীহ হাদিসে আছে।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই”- এ কথার সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে- তবে শারী‘আত সম্মত কারণ ছাড়া। আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৪  (ই.ফা. ৩৪; ই.সে. ৩৪)

যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আল বাকারার ২১৬ নং আয়াতে ঘােষনা করেছেন।
 তােমাদের জন্য (দ্বীন কায়েমের জন্য) যুদ্ধকে ফরজ করে দেওয়া হলাে।
আবার আল্লাহতাআলা কথদিন পর্যন্ত  যুদ্ধ ফরজ রাখলেন এবং তা  ফরজে আইন রাখলেন, সে বিধানটি আল্লাহ বলে দিলেন।

  যেমন আল্লাহতাআলা সুরা  আনফালের ৩৯ নং আয়াতে ঘােষনা করেছেন।
তােমরা তথদিন পর্যন্ত  যুদ্ধ চালিয়ে যাও যতদিন পর্যন্ত  আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর জমিনে পরিপূর্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে যায়  এবং সকল প্রকার ফিতনা ফাসাদ দুরীভূত না হয়ে যায় তথদিন পর্যন্ত  তােমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও।

তাহলে আজ দেখা যাচ্ছে  আমাদের পৃথিবীর কােন ভুখন্ডে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত নেই।
 অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন যতদিন পর্যন্ত  সারা পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হবে তথদিন তােমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও।
  অথচ আমরা এই গােটা পৃথিবীর একটি রাষ্ট্রের মাঝেও আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই, অথচ  আল্লাহতাআলা  এ আয়াতে বলে দিয়েছেন, তথদিন পর্যন্ত তােমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও, যতদিন পর্যন্ত  পরিপুর্ন ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয়ে যায়।
 তাহলে বিষয়টি চাদের মতাে পরিস্কার হয়ে গেলাে, যদি পৃথিবীর সব প্রান্তে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, কিন্তু  একটি প্রান্তে  আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তখন পর্যন্ত আপনাদের সবার জন্য যুদ্ধ ফরজে আইন থেকে যায়, আর এই যুদ্ধে যারা অংশ গ্রহন না করবে তারা সবাই গুনাহাগার হয়ে যাবে, এ যুদ্ধ সবার জন্য বাধ্যতামুলুক ফরজ, তবে যদি আমীর কাউকে এ যুদ্ধ থেকে বিরত রাখে তা ভিন্ন ব্যাপার।
এ যুদ্ধ করার জন্য কারাে কাছে অনুমতি নেওয়ার প্রয়ােজন নেই,  কােন বাবা মায়ের কাছে অনুমতি নেওয়ার প্রয়ােজন নেই, কােন স্ত্রী'দের কাছে অনুমতি নেওয়ার প্রয়ােজন নেই, কােন ঋণ দেওয়া ব্যক্তির কাছে অনুমতির নেওয়ার প্রয়ােজন নেই।
তাই আল্লাহতাআলা  আমাদেরকে এ দ্বীন কায়মে করার জন্য যুদ্ধ করা ফরজ করে দিয়েছেন, আর যারা এই দ্বীন কায়েম করতে দিবেনা,  দ্বীন কায়েমের পথে বাধা দিবে, দ্বীন কায়েমের কথা বললে, আমাদেরকে বন্দী করবে, আমাদেরকে  জুলুম নির্যাতন করবে,   আমাদেরকে ফাসির কাষ্ঠে ঝুলাবে,  তাদেরকে হত্যা করা ফরজ করে দিয়েছেন।

যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আল-বাকারার ১৯১ নং আয়াতে বলেছেন।
وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْۚ وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِۚ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمْ فِيهِۖ فَإِن قَٰتَلُوكُمْ فَٱقْتُلُوهُمْۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَٰفِرِينَ
তাদেরকে যেখানেই পাও, হত্যা কর এবং তারা তোমাদেরকে যেখান হতে বহিস্কার করেছে তোমরাও তাদেরকে সেখান হতে বহিস্কার কর এবং হত্যা অপেক্ষা অশান্তি (ফিতনা) গুরুতর এবং তোমরা তাদের সাথে পবিত্রতম মাসজিদের নিকট যুদ্ধ করনা, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদের সাথে তন্মধ্যে যুদ্ধ করে; কিন্তু যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাহলে তোমরাও তাদেরকে হত্যা কর; অবিশ্বাসীদের জন্য এটাই প্রতিফল।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন,সুরা আত-তাওবাহ ৫ নং আয়াতে।
فَإِذَا ٱنسَلَخَ ٱلْأَشْهُرُ ٱلْحُرُمُ فَٱقْتُلُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَٱحْصُرُوهُمْ وَٱقْعُدُوا۟ لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍۚ فَإِن تَابُوا۟ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّوا۟ سَبِيلَهُمْۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলি অতীত হয়ে যায় তখন ঐ মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং হত্যা কর, তাদেরকে ধরে ফেল, তাদেরকে অবরোধ করে রাখো এবং তাদের সন্ধানে ঘাঁটিসমূহে অবস্থান কর। অতঃপর যদি তারা তাওবাহ করে, সালাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান করে তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।

 আর এই দ্বীন কায়েমের পথে শুধু মাত্র রাষ্ট্র শাষকেরা বাধা দেয়, কারন যদি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে তাদের আর খেয়াল খুশীর রং তামাশার, এবং মানব রচিত সংবিধানের নেতৃত্ব থাকবেনা, তাদের আর বাদশাহী জমিদারী থাকবেনা, তাদের আর রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভােগ বিলিশিতা থাকবেনা, তাই সর্ব প্রথম রাষ্ট্রীয় শাসকেরাই  দ্বীন কায়েমের পথে বাধা বিরােধিতা করে, তাই দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর ভুখন্ডে যত ধর্মীয় যুদ্ধ হয়েছে, সব যুদ্ধেই রাষ্ট্রীয় শাষকদের সাথে হয়েছে, গোত্রীয় শাসকদের সাথে হয়েছে,  কারন তারাই শুধু মানব রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তারাই শুধু রাষ্ট্রের মাঝে শিরক কুফুর প্রতিষ্ঠা করে, তারাই শুধু  ঐ ফিরাউনের মতাে আল্লাহদ্রােহীতা কাজ  করে, এক কথায় যারা মানব রচিত সংবিধান দিয়ে  রাষ্ট্র পরিচালনা  করে তারাই হলাে ঐ ফেরাউনের বংশধর, তাই আল্লাহতাআলা তাদের বিরদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজ করে দিয়েছেন।

কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করা নফল সুন্নত ওয়াজিব না ফরজ।
অবশ্যই অবশ্যই ফরজ এর দলিল।
যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা  আশ-শুরার ১৩ নং আয়াতে বলেছেন।
شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحًا وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِۦٓ إِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓۖ أَنْ أَقِيمُوا۟ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا۟ فِيهِۚ كَبُرَ عَلَى ٱلْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِۚ ٱللَّهُ يَجْتَبِىٓ إِلَيْهِ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধি-ব্যবস্থাই দিয়েছেন যার হুকুম তিনি দিয়েছিলেন নূহকে। আর সেই (বিধি ব্যবস্থাই) তোমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে দিলাম যার হুকুম দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ‘ঈসাকে- তা এই যে, তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত কর, আর তাতে বিভক্তি সৃষ্টি করো না, ব্যাপারটি মুশরিকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যার দিকে তুমি তাদেরকে আহবান জানাচ্ছ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন তাঁর পথে বেছে নেন, আর তিনি তাঁর পথে পরিচালিত করেন তাকে, যে তাঁর অভিমুখী হয়।

  (কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি বাস্তবায়নর জন্য) তােমাদের প্রতি আমি যুদ্ধকে ফরজ করে দিলাম।
যেমন আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল বাকারার ২১৬ নং আয়াতে।
كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّوا۟ شَيْـًٔا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْۗ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

 আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আল-আনফালের ৩৯ নং আয়াতে।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায় আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আত-তাওবার ২৯ নং আয়াতে।
قَٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَٰغِرُونَ
যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং কিয়ামাত দিনের প্রতিও না, আর ঐ বস্তুগুলিকে হারাম মনে করেনা যেগুলিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম বলেছেন, আর সত্য ধর্ম (অর্থাৎ ইসলাম) গ্রহণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাক যে পর্যন্ত না তারা অধীনতা স্বীকার করে প্রজা রূপে জিযিয়া দিতে স্বীকার করে।

সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে,
 ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫
(মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪)
 এখানে আর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাচনা করার প্রয়ােজন নেই কারণ ইতিপুর্বে বিস্তারিত আলােচনা করে এসেছি।

 কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি আদায় না করলে, তা বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা না করলে, সে কি খাটি মুসলিম থাকে? তার সকল ভালো আমল কি আল্লাহর দরবারে  কবুল হবে?
সে যদি কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে তার নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত সহ তার সকল ভালো আমলেই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে। আর যদি সে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা না করে,  এবং তার অন্তরে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের নিয়্যাতও না রাখে, ইতিপুর্বে আমি নিয়্যাতের আলােচনা করছি ঠিক সেই নিয়্যাতেই করতে হবে। তাহলে তার সকল ভালো আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।
 এখানে যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়, ভাই নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত,  কবুল হওয়ার প্রধান ও প্রথম শর্ত কি? তা অনেকেই বলতে পারবেনা, আর বললেও অনেকেই উল্টা পাল্টা বলবে, অনেকে বলবে অজু প্রধান শর্ত, অনেকে বলবে গােসল প্রধান শর্ত, অনেকে বলবে পবিত্রতা হওয়া প্রধান শর্ত, অনেকে বলবে হালাল রুজি উপার্যন করা ভক্ষন করা প্রধান শর্ত, এভাবেই অনেকে অনেক কথা বলবে, হয়তাে বা তারা অনুমান করে এ কথা বলবে, নয়তাে বা  তারা কােরআন ও হাদিসের সঠিক গভীর জ্ঞান না থাকার কারনে এ কথা বলবে, হয়তাে বা তারা কুরআন ও হাদীসের মূল জ্ঞান না থাকার কারণে এ কথা বলবে, তাই আমি প্রায়ই বলি কেউ কারাে জ্ঞানের উধ্বে নয়, কারণ  যে যা বুঝে তাই মনে করে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বুঝি, আমি পৃথিবীর সকল কিছুর চেয়ে বেশি  বুঝি, আমার চেয়ে আর কেউ বেশি বুঝেনা।
 অথচ সে যে কিছুই বুঝেনা তার চেয়ে অনেক বড় বড় জ্ঞানী পৃথিবীর বুকে আছে, সে তা বিশ্বাস করেনা, সে নিজেকে পৃথিবীর সব চাইতে বড় জ্ঞানী বড় গুনী  বড় আলেম বড় মুফতী বড় মুহাদ্দেস বড় মুফাচ্ছের ভাবে, তাইতাে আজ মুসলিম সমাজের এ অধঃপতন।
 আচ্ছা যাই হউক আমার এ বিষয়ে এখানে কথা নয়, আমার এখানে মূল কথা হলাে মূল বিষয় হলাে নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত কি? নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলাে।
১। সর্ব প্রথম কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি দিয়ে মুসলিম হওয়া।
 আর এই মুসলিম হওয়ার প্রধান শর্ত হলা তাগুতকে অস্বীকার করা।
যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আন-নাহলের ৩৬ নং আয়াতে বলেছেন।
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِى كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَٱجْتَنِبُوا۟ ٱلطَّٰغُوتَۖ
প্রত্যেক জাতির কাছে আমি রসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে আর তাগুতকে বর্জন করবে।

   আর তাগুতকে অস্বীকার করার মানে হলাে আল্লাহদ্রােহীদেরকে অস্বীকার করা, আর আল্লাহদ্রােহীতা তাদেরকে বলা হয় যারা নিজে আইন রচনা করে, যারা নিজের রচিত আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করে,  যারা মানব রচিত সংবিধান দিয়ে দেশ পরিচালনা করে, যারা গনতন্ত্রের  বিধান দিয়ে দেশ পরিচালনা করে এরাই হলাে আল্লাহদ্রােহী এদেরকে বলা হয় তাগুত।
 আর এই মুসলিম হওয়ার শর্ত হলাে কলেমা স্বীকার করা এবং তা মুখে উচ্ছস্বরে উচ্ছারণ করা, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করা, তা নিজের মাঝে বাস্তবায়ন করা, এবং তা রাষ্ট্রে  বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা করা, সংগ্রাম  করা, অন্তত তা বাস্তবায়ন  করার জন্য অন্তরে খালেস নিয়্যাত রাখা, এবং সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করা, এই হলাে মুসলিম হওয়ার প্রধান শর্ত, এই হলাে নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত।
২। হালাল রুজি উপার্যন করা হালাল রুজি ভক্ষন করা এই দুটি হলাে নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত।
 এই দুটি পরিপুর্ন হওয়ার পরে আরও কিছু শর্ত আছে যেমন পবিত্রতা থাকা, অজু করা, গােসল করা।
 এখানে অনেকে ভাবে যাদের বাপ দাদা মুসলিম তারাও সেই শর্তে সত্যিকারের  খাটি মুসলিম, কিন্তু আমি বলবাে  না তারা সেই শর্তে সত্যিকারের  পরিপূর্ণ মুসলিম নয়, কারন তারা অনেকেই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা কি তা বুঝেনা, নয়তাে তারা বুুঝার চেষ্টাও করেনা, তাই বাপ দাদা মুসলিম সেই সূত্রে তারাও সত্যিকারের খাটি মুসলিম, না কিছুতেই না, তারা  সত্যিকারের পরিপূর্ণ মুসলিম  হতে পারেনা, হ্যা যদি তারা কলেমা বুঝে শুনে সাক্ষ্য স্বীকৃতি প্রদান করে তাহলে তারা সত্যিকারের পরিপূর্ণ খাটি মুসলিম।    
তাই আমি সেই সব মুসলিম ভাইদেরকে অনুনয়ের সাথে আহব্বান করি, আপনারা কলেমার অর্থ ব্যাখা কােরআন হাদিস থেকে খুজে বাহির করে  নিজের চােখে পড়ুন, নিজে খুজতে না পারলে, বা পড়তে না পারলে, বা বাহির করতে না পারলে, বা বুঝতে না পারলে,  তাহলে একজন হক্কানী আলেমের কাছে গিয়ে কলেমার অর্থ ব্যাখা জেনে নিন, তা বুঝে শুনে ভেবে তার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে  মুসলিম হতে হবে, এটাই মুসলিম হওয়ার সঠিক নিয়ম, এ নিয়ম ছাড়া আপনি  অন্য কােন নিয়মে মুসলিম হলে আপনার  মুসলিম হওয়া পরিপুর্ণতা হবেনা, আপনার  মাঝে মুশরিকের লেজ থেকেই যাবে, অথবা আপনি  হবেন অন্ধ মুসলিম, বা অজ্ঞ মুসলিম, বা নির্বােধ মুসলিম।
তবে এই কলেমার অর্থ ব্যাখা জানার জন্য, কােন প্রকার পীরের কাছে যাওয়া যাবেনা, কারণ সকল পীরেরাই ইহুদী খৃষ্টানদের চক্র, তাই তারা হয়ে গেছে পথভ্রষ্ট।
 এবং আরও কিছু সংখ্যক নাম ধারী পেট পুজারী ভণ্ড আলেম আছে তাদের কাছেও যাওয়া যাবেনা, কারণ তারা নিজেও পথভ্রষ্ট, আপনাদেরকেও করবে পথভ্রষ্ট। তাই কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা সাক্ষ্য স্বীকৃতি জানার জন্য আপনাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই হক্কানী আলেমের কাছে যেতে হবে।
কারণ এই কলেমাই হলাে সকল কিছুর মূল, এই কলেমা ঠিক না হলে, আপনার  নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত ঠিক হবেনা, এই কলেমা ভুল হলে আপনার  সকল কিছু বাতিল হবে, এ কলেমা হলো একটি সূত্রের মতাে, যেমন সূত্র ভুল হলে অংক ভুল হয়, হিসাব নিকাশ ভুল হয়, ব্যবসা বানিজ্য ভুল হয়, কাজ কর্ম ভুল হয়, ঠিক তেমনি কলেমা ভুল হলে আপনার  নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত ভুল হবে, আপনার  সকল প্রকার ইবাদত ভুল হবে, আপনার  সারা জীবনের নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত সকল কিছু ইবাদত বরবাদ হয়ে যাবে, কারণ আপনার সূত্রই ভুল, আপনার কলেমা পড়াই ভুল, তাই প্রকৃত কলেমার অর্থ ব্যাখা জানার জন্য আপনাকে  অবশ্যই অবশ্যই সেই সব হক্কানী আলেমদের কাছে যেতে হবে, তাদের কাছে কালিমার অর্থ ব্যাখা জানতে হবে, তার পরে জেনে শুনে বুঝে স্বীয় জ্ঞানে কারাে জ্ঞানের প্রবঞ্চনায় বশীভুত না হয়ে,  কারাে বিবেকের কাছে বশীভুত না হয়ে, কারাে কথার মাঝে বশীভুত না হয়ে, কারাে বক্তিতার মাঝে বশীভুত না হয়ে, আপনাকে  স্বীয় জ্ঞানের মাঝে বশীভুত হয়ে, আপনাকে  কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিতে হবে, তবে এখানে কয়েকটি প্রশ্ন আপনাদের মনে আসত পারে।
১। তাহলে কি আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ গােষ্ঠিরা কি ভুল করেছে? ওদের সময়ের সেই সব আলেমরা কি ভুল করেছে?
২। আমাদের এই দেশে হাজার হাজার আলেম আছে, হাজার হাজার ইসলামিক দল আছে, আমরা কি ভাবে হক্কানী আলেমকে সনাক্ত করতে পারবাে? হক্কানী আলেম কারা কি ভাবে বুঝত পারবাে? হক্কানী আলেম চিহ্নিত করার উপায় কি? কি ভাবে আমরা এই হাজার হাজার আলেমের মাঝে হক্কানী আলেমকে চিহ্নিত করতে পারবাে? আমরা কি ভাবে হক্কানী ইসলামিক দলকে সনাক্ত করতে পারবাে?
হক্কানী আলেম ও তাদের দলকে চিহ্নিত করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত  নমুনা উদাহরন।
১। তাদের দলের সংখ্যা গরিষ্ঠ কম হবে।
২। তাদের দলের সংখ্যায় অধিকাংশ গরীব লােক থাকবে।
৩। তাদের দল সমাজে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে না।
৪। তারা সর্বদা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলবে।
৫। তারা সর্বদা কােরআনের শাষনের কথা বলবে।
৬। তারা সর্বদা মানব রচিত সংবিধান উৎখাত করার কথা বলবে, এবং যতদিন এই মানব রচিত সংবিধান থাকবে রাষ্ট্রের মাঝে, তথদিন সেই সংবিধান উৎখাত না করা পর্যন্ত  মুসলিমদের জন্য জিহাদ ফরজে আইন হয়ে  থাকবে তারা এ কথাই বলবে।
৭। তারা সর্বদা মানব সমস্যা সমাধানের বক্তিতা দিবে এবং তারা কোরআনের মৌলিক বিষয় গুলি উপর বেশি গুরত্ব দিবে,  কারণ এই গুলি নিয়ে ঠাট্টা উপহাস করলে সে ব্যক্তির ঈমান থাকেনা, আর যারা তা অস্বীকার করবে সে কুফুরকারী হয়ে যাবে।
৮। তারা সর্বদা জমিনের নিচে এবং আসমানের উপরের বক্তিতা দিবেনা, তাদের মূল বক্তব্য হবে তাওহীদ শিরক কুফুর ও বিদআত।
৯। তাদের দলে সমাজের উচ্চ নেত্রীয় বর্গীয় লােকেরা থাকবে না।
১০। তাদের দলের কার্যক্রম প্রতিটি মুহুর্তে মুহুর্তেই বাধার সম্মূখীন হবে।
১১। তাদের দলের নেতা কর্মীরা (মানে) আলেম ওলামারা ও তাদের অনুসারীরা প্রতি পদে পদে নির্যাতিত হবে, তাদেরকে গৃহ বন্দি করে রাখবে, তাদেরকে জেলে বন্ধি করে রাখবে, তাদের অনেকের যাবত জীবন কারাদন্ড দিবে, অথবা তাদের অনেকের ফাঁসি পর্যন্ত দিবে।
১২। তাদের ওয়াজ বক্তিতা গুলো বর্তমান সমাজের অধিকাংশ আলেমের সাথে মিলবে না, অধিকাংশ আলেম ও সমাজের নেতা নেত্রী তাদের ওয়াজ শুনবে না, শুনলে তারা ক্রােধান্বিত হবে, রাগান্বিত  হবে, তাদেরকে গালি গালাজ করবে, এবং তাদেরকে খারেজি, ইসলাম বিষেদ্বী দল বলে  মিথ্যা অপবাদ দিবে।
১৩। সমাজের কিছু সংখ্যক আলেম ও নেতা নেত্রীরা, আদালতের কাছে গিয়ে তাদের নামে মিথ্যা অভিযােগ দিয়ে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিবে।
১৪। তাদের বিরদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণীর আলেমরা অপপ্রচার করবে, তারা তাদেরকে বলবে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদী মৌলবাদী চরমপন্ত্রী।
১৫। তাদের শত বিরােধীতার পরেও সমাজের গরীব শ্রেণীর মুসলিমরা তাদের দলে অংশ গ্রহণ করবে।
১৬। অনেককে গ্রাম গঞ্জ থেকে তাদেরকে বহিস্কার করে দিবে, এমন কি তাদের নিজের পরিবারের আত্নীয় স্বজনেরাও তাদের কে বহিস্কার করে দিবে।
১৭। তাদেরকে সন্ত্রাসী জঙ্গী মৌলবাদী মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদেরকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিবে।
১৮। তারা অনেকেই বাড়ীতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেনা, কারন পুলিশ তাদেরকে ধরার জন্য প্রায়ই তাদের বাড়ীত অভিযান চালাবে।
১৯। তারা অনেকেই নিজের গ্রাম, বাড়ী গাড়ি সম্পতি ছেড়ে অপর গ্রামে যাযাবরের মতাে জীবন ধারণ করিবে।
২০। তারা এখনাে অনেকে জেলে আছে, অনেকে বিগত দিনে ফাঁসি হয়ে গেছে, অনেকে সমাজ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারনে, বা তাদের প্রতি সমাজে নির্যাতনের ষ্টীম রােলার বৃদ্ধি হওয়ার কারনে, তারা পাহাড়ে বসবাস করতেছে।
এই হলাে হক্কানী আলেমের দলের পরিচয়, এদের কাছে গিয়ে কলেমার অর্থ ও ব্যাখা জানতে হবে, এরা আপনাদেরকে  কলেমার সঠিক অর্থ ব্যাখা বলে দিবে, এরা কখনাে  আপনাদেরকে পথভ্রষ্ট  করবেনা, কারণ এরা নিজেরাও পথভ্রষ্ট নয়, এরাই আল্লাহ ও রাসূলের সঠিক দিক নির্দেশনার পথে আছে, অথচ এদের বিরদ্ধে আজ প্রায় সব আলেমরা লেগে পড়ে গেছে, এদেরকে সবাই সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী মৌলবাদী বলতেছে, এখন আপনাদের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন?
১। ওদের কি পৃথিবীতে আপনাদের মতাে আরাম আয়েশে থাকার প্রয়ােজন নেই? কেন ওরা আরাম আয়েশ ভুলে সু-স্বাধু খাবার ছেড়ে পাহাড়ের মাঝে গর্তের মাঝে কেন জীবন ধারণ করতেছে? কেন কি কারণে ওরা গাছের লতা পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করতেছে?
২। ওদেরকি আপনাদের  মতাে অর্থশালী হওয়ার আশা নেই? ওদেরকি আপনাদের মতাে উচু বিলাশিতা ভবন নির্মান করার স্বাধ নেই? কেন ওরা তা ভুলে কুড়ে ঘড়ে থাকতেছে? অর্থহীন ভাবে থাকতেছে? আর কেন আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য বক্তিতা সংগ্রাম যুদ্ধ জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছে?
৩। ওদের কি আপনাদের মতাে সমাজে খ্যাতি ছড়ানাের আশা নেই? যেমন আপনারা  সমাজে মন্ত্রী এমপি শিক্ষক লেখক গায়ক নায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ সেবক আইনজীবি জজ-ব্যারিষ্টার কবি-সাহিত্যিক মুফতি মুহাদ্দেস মুফাচ্ছের, ওদের কি এসব হওয়ার আশা নেই? কেন ওরা এসব খ্যাতি অর্জন করা ভুলে সাধারণ ভাবে জীবন জাপন করতেছে? আর কেন ওরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য দাওয়াত ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে?
৪। কেন তারা এত বাধা বিপদে থাকা অবস্থায়, তার পরেও তারা কেন নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে ?
৫ কেন তারা নিজেদের প্রতি যুলুম নির্যাতনের কথা জেনে শুনে বুঝে, তারা পিপিলিকার মতো গুছ দল হওয়া সত্বেও? এই বিশাল সরকার বাহিনীর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত স্বশস্ত্র যােদ্ধাদের সাথে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে কেন কি কারণে?
৬। কেন ওরা জেল জরিমানা ফাঁসির জুলুম নির্যাতনের ভয় না করে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করার জন্য আল্লাহর পথে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে?
৮। ওদের কি আপনাদের মতো  অর্থ সম্পদের নেই কোন  প্রয়ােজন?
৯। ওদের কি আপনাদের মতো   আরাম আয়েশে থাকার নেই কোন প্রয়ােজন?
১০। ওদের কি আপনাদের মতো আরাম আয়েশে থাকতে মন চায়না?
১১। ওদের কি আপনাদের মতাে পৃথিবীতে সুখ শান্তিতে বেচে থাকার মন চায়না?

এর পরেও আপনারা  কি ভাবে ওদেরকে সন্ত্রাসী জঙ্গি মৌলবাদী চরমপন্ত্রী  উগ্রপন্থী  বলেন? আমি মেনে নিতাম যদি ওরা সন্ত্রাসী  কার্যক্রম করে, বহুতল ভবন করতো, বহুতল বাড়ী নির্মান করতো, উচ্চ মানের  গাড়ি নিয়ে ঘুরতাে, তারা বাসায় আরাম আয়েশে থাকতাে, তারা শত শত নারী নিয়ে রাত কাটাতো, তাহলে আমি মনে করে নিতাম তারা সন্ত্রাসী তারা জঙ্গিবাদী তারা চরমপন্ত্রী।
আর বাস্তবে যারা প্রকৃত সন্ত্রাসী  তাদের বাড়ী গাড়ি বিলাশিতার অভাব নেই, তাদের নারী ভােগের অভাব নেই, তারা সবচেয়ে সমাজের নিকৃষ্ট কাজ করে বেড়ায়, যেমন এরশাদ শিকদার ছিলাে, বাচু কামাল ছিলাে, এদের সম্পদের অভাব নেই, এদের বাড়ী গাড়ির অভাব নেই, এদের নারী স্ত্রী ভােগের অভাব নেই, এদের হত্যা মামলারা অভাব নেই।
আর এদের তাে বাড়ী গাড়ি নারী ধন সম্পদ কােন কিছুই নেই? এমন কি তাদের প্রতিদিন যতটুকু অর্থের প্রয়ােজন জীবন চালানাের জন্য, তাদের ততটুকু অর্থ পর্যন্ত নেই? এমনো এদের মাঝে কিছু লোক আছে তারা একদিন অপরের বাড়িতে কাজ না করলে তাদের পেটে খাবার জােটে না, তাহলে তারা কি ভাবে সন্ত্রাসী হয়? চরমপন্ত্রী হয়? জঙ্গিবাদী  হয়? আমি এ কথা  কিছুতেই বিশ্বাস করিনা, একথা গুলি একটি পাগলও বিশ্বাস করিবে না, একজন সু-জ্ঞানীও একথা গুলি বিশ্বাস করিবে না, এরা কিছুতেই সন্ত্রাসী হতে পারেনা, চরমপন্ত্রী জঙ্গিবাদী  হতে পারে না।
অথচ আজ আমাদের সমাজের উচ্চ  নামধারী আলেমরা, দেশের সরকার মন্ত্রীরা, এদেরকে সন্ত্রাসী বলতেছে, অথচ এরাই হলা প্রকৃত হক্কানী আলেমের দল, আর ঐসব সরকার মন্ত্রীদের আলেম ওলামারাই হলাে সন্ত্রাসী দল।
ঐ সব আলেম ওলামারা, এদেরকে সন্ত্রাসী বলার উদ্দেশ্যে হলাে একটাই, এদের পেট পুজারী বন্ধ হয়ে গেছে, তাই এরা হক্কানী আলেমদেরকে সন্ত্রাসী বলে, ওদের বিরােধীতা করে, ওদের বিরদ্ধে ওয়াজ নছিয়ত করে।
আর দেশের সাধারণ জনগণেরা ওদের কথা মেনে নিচ্ছে, কারণ যে সব আলেমরা ঐ সব হক্কানী আলেমদের বিরোধীতা করতেছে তারা হলাে এই সমাজের উচ্চ  নামধারী আলেম মুফতী মুহাদ্দেস মুফাচ্ছের, তাই তাদের কথা সহজেই জনগণ বিশ্বাস করে নিচ্ছে , তাদের সাথে সাথে সাধারণ জনগও তাদেরকে সন্ত্রাসী চরমপন্ত্রী  বলতেছে।
আমি নির্বােধ হয়ে যাচ্ছি ওদের কার্যক্রম দেখে, ওরা আলেমরা জেনে বুঝে ওদেরকে মিথ্যা অপবাদ সন্ত্রাসী বলতেছে, আর জনগণেরা না জেনে বুঝে কি ভাবে হক্কানী আলেমদেরকে সন্ত্রাসী  জঙ্গি চরমপন্ত্রী  বলতেছে, এরা দুজনেই হলাে নির্বােধ অজ্ঞ অজ্ঞানী, এদের একজন হলাে  জ্ঞান পাপী, আর একজন হলাে নির্বােধ অজ্ঞ জ্ঞান  পাপী, একজন  বুঝেও নির্বােধ, আর একজন না জেনে, না বুঝে, ঐ পাপীদের অনুসরণ করে নির্বােধ, এরা সব এক গােয়ালের গরু।
তবে ঐ সব আলেমদের জবাবদিহিতা বেশি হবে কারণ? ওরা সত্য জেনেও তা অস্বীকার করেছে,  ওদেরকে আল্লাহতাআলা জ্ঞান দিয়েছে বটে, কিন্তু ওরা হক বাতিল রিচার্জ না করেই ওরা ওদের সুবিধা মতাে  মানুষদেরকে ইসলামর কথা বলে যাচ্ছে, যাতে ওদের পেট পুজারী ঠিক থাকে, তাইতাে আল্লাহ তাআলা সূরা তওবার ৩৪ নং আয়াত বলেছেন।
অধিকাংশ আলেম ওলামা পীর বজুর্গ মানুষের সম্পদ অন্যায় ভাবে ভােগ করতেছে ওরা মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখতেছে।
 সূরা তওবা ৩৪
 এরাই হলাে সেই আলেম এরাই হলাে ইহুদী খৃষ্টানদের অনুসারী আলেম, এরাই হলাে ঐ ইহুদীদের পাদ্রীদের আলেম, আর খৃষ্টানদের ধর্মযাযকদের আলেম, এদের মাঝে আর ওদের মাঝে কােন পার্থক্য নেই, ঐ প্রাদ্রীরা ঐ ধর্ম-যাযকেরা যে কাজ করেছিলাে, এখনো তারা যা করতেছে, আজ আমাদের দেশের নামধারী আলেমরা ঠিক তাই করতেছে।
 তাই এই সব আলেমদেরকে আল্লাহতাআলা বেশি জবাবদিহি দিতে হবে, কারণ এরা হলাে ভন্ড আলেম, এরা হলো আলেম নামের জালেম।
তাই এদের কাছে আপনারা সঠিক কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা কিছুতেই জানতে  পারবেনা, এরা আপনাদেরকে যে অর্থ ব্যাখা বলে দিবে তা মানলে আপনারা আরও  পথভ্রষ্ট হয়ে যাবেন, এরা যেমন পথভ্রষ্ট আছে তেমনি  আপনাদেরকেও করবে পথভ্রষ্ট, তাই আপনারা  ওদের কাছে হক কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা জানতে যাবেন না, ওরা হলাে ভন্ড ভ্রান্ত ওরা আপনাদেরকে ভ্রান্ত  কলেমার দাওয়াত দিবে, ওরা কখনই আপনাদেরকে হক  কলেমার দাওয়াত দিবেনা, আর ওরা কখনই হক্কানী আলেম হতে পারেনা, উপরে আমি হক্কানী আলেমের পরিচয় দিয়েছি, এই তালিকার মাঝে এই সব নামধারী আলেমের লিষ্ট নেই।
আর আপনাদের আর একটি প্রশ্ন হলাে আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ গাষ্ঠীরা কি ভুল করে গেছে?
তারা কি কােরআন হাদীস বুঝেনি?
আর তাদের সময়ে যে সব আলেমেরা ছিলাে তারা কি তাহল ভুল করে গেছে?
আসলে সত্য কথা হলাে ইসলাম মানার জন্য বাপ দাদা চৌদ্দ গােষ্ঠী কােন দলিল নয়, ইসলাম মানার জন্য কুরআন ও সহীহ হাদিস দলিল, এই বিষয় নিয়ে অনেক গুলো কুরআন হাদীসে দলিল এসেছে, যেমন ফেরাউন তার বংশধরদেরকে বলেছিলাে মূসা কি আমাদের বাপ দাদাদের ধর্ম ধ্বংস  করতে চায়।
 যেমন আল্লাহতাআলা সুরা আল-গাফিরের ২৬ নং আয়াতে বলেছেন।
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِىٓ أَقْتُلْ مُوسَىٰ وَلْيَدْعُ رَبَّهُۥٓۖ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَن يُظْهِرَ فِى ٱلْأَرْضِ ٱلْفَسَادَ
ফেরাউন বলল, “তোমরা আমাকে ছাড়, আমি মূসাকে হত্যা করি আর সে তার প্রভুকে ডাকুক। (কারণ) আমার ভয় হয়, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে এবং দুনিয়ায় অশান্তি ছড়াবে।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন,সুরা  আল-আরাফের ১২৭ নং আয়াতে।
وَقَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوْمَهُۥ لِيُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَءَالِهَتَكَۚ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَآءَهُمْ وَنَسْتَحْىِۦ نِسَآءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَٰهِرُونَ
ফিরাউনের গোষ্ঠীর সরদারগণ বলল, ‘আপনি কি মূসা আর তার জাতির লোকেদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য ছেড়ে দেবেন আপনাকে আর আপনার মা‘বূদদেরকে বর্জন করতে?’ সে বলল, ‘আমি তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করব আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব, আমরা তাদের উপর অপ্রতিরোধ্য।

 যেমন আবু জাহেল উতবা শাইবা রবীয়া এমনি বলেছিলাে সেকি মােহাম্মদ আমাদের বাপ দাদার ধর্ম এবং ইলাহ বাদ দিতে চায়।
 যেমন আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা সাদের ৫ নং আয়াতে।
أَجَعَلَ ٱلْءَالِهَةَ إِلَٰهًا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَىْءٌ عُجَابٌ
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে ফেলেছে? এটা বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার তো।

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা আস-সাফফাতের ৩৬ নং আয়াতে।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ
আর তারা বলত, ‘‘আমরা কি এক পাগলা কবির কথা মেনে আমাদের ইলাহগুলোকে ত্যাগ করব?

আল্লাহতাআলা অন্যত্রে আরও বলেছেন, সুরা ইবরাহীমের ১৩ নং আয়াতে।
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُم مِّنْ أَرْضِنَآ أَوْ لَتَعُودُنَّ فِى مِلَّتِنَاۖ فَأَوْحَىٰٓ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمْ لَنُهْلِكَنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ
আর কাফেররা তাদের রসূলদের বলেছিল, “আমরা তোমাদেরকে আমাদের ভূমি থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে ফিরে আসবে।” তখন রসূলদের কাছে তাদের প্রভু ওহী পাঠিয়েছিলেন, “আমি জালেমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করব।

যেমন সহীহ হাদিসে আছে,
সাঈদ ইব্‌নু মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহ্‌ল ইব্‌নু হিশাম ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ উমায়্যা ইব্‌নু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ চাচাজান! ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ কালিমা পাঠ করুন, তাহলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষী দিতে পারব। আবূ জাহ্‌ল ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট কালিমাহ পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ বলতে অস্বীকার করল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেনঃ - (নবীর জন্য সঙ্গত নয়......)  (সূরা আত্‌-তাওবাহ্ঃ ১১৩)।
  সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৬০

এমনি কথা হিন্দু বৌদ্ধ ইহুদী খৃষ্টানরাও বলে, আজ শত শত বছর ধরে আমাদের পূর্ব পুরষেরা এই ধর্মের মাঝে আছে, তারা কি তাহলে ভুল করে গেছে, এভাবে অনেক পথ ভ্রষ্ট লােক বাপ দাদার দলিল দিয়ে থাকে, তারপরেও যদি আপনারা আপনাদের   যুক্তিতে কথা বলাে তাহলে আমিও আপনাদেরকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি।
আমাদের এই বাংলাদেশে কিছু কাল পূর্বে মানে আমাদের চৌদ্দ গােষ্টিদের আমলে, এই বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ জাতি ছিলাে ইতিহাসের পাতায় এই বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তাতকে ভারত মহাবর্ষ হিন্দুস্থান  বলা  হতাে ।
 তাহলে বুঝা গেলা পৃথিবীর শুরু থেকে, অথবা আমাদের রাসুল (সঃ) আগমনের আগ থেকে এ ভারত মহাবর্ষে হিন্দু বৌদ্ধ জাতি বসবাস করেছিলাে, যা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এইতাে কিছুকাল হলাে বাংলাদেশে মুসলিম জাতির আবির্ভাব তাহলে ইতিহাসের আলােকে বুঝা গেলা আমাদের চৌদ্দ গােষ্টিরা হিন্দু বৌদ্ধ জাতি ছিলাে, তাহলে আমাদের চৌদ্দ গােষ্টীরা কােরআন হাদিস কি করে বুঝবে, এবং কি করে জানবে, তারাতাে তখন কােরআন হাদিসের ঘাের বিরােধিতা ঘাের শত্রু ছিলাে।
এইতাে বেশি দুরের কথা নয় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান (ভারত মহাবর্ষ) বিট্রিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কােম্পানীদের দখলে ছিলাে, তারা ২ শত বছর এই ভারত মহাবর্ষকে শাষন করেছিলাে, তখনকার এই বাংলাদেশের অধিকাংশ লােকেরা হিন্দু বৌদ্ধ জাতি ছিলাে।
 এইতাে কিছু কাল আগের কথা যখন এই বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ চলেছিলাে, তখন অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে পালিয়ে গেছে, যুদ্ধের পরেও অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে।
 আরও একটি নির্ভুল যােগ্য তথ্য আপনাদের কাছে প্রদান করি, যখন বিট্রিশ রাজত্বের অবসান হলাে, তখন ভারত ও পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হলাে, এর মুল অর্থ হলাে ভারতে ছিলাে বেশির ভাগ হিন্দু জাতি, আর পাকিস্তানে ছিলাে বেশির ভাগ মুসলিম জাতি, এই জাতি গত ভেদাভেদ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হলাে।
 সেই সুত্র ধরে ভারত  স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিলাে, কারণ তখন বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা মােটা-মােটি ভালাে ছিলাে, তাই তারা জাতির টানে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে সাহায্য সহযােগিতা করেছিলাে।
 আরও একটি কারণ ছিলাে যদি পাকিস্তান বাংলাদেশকে অধিনস্ত করে নিতে পারে, তাহলে পাকিস্তানের শক্তি বেড়ে যাবে তখন পাকিস্তান ভারতকে যে কােন মুহুর্তে দখল করে নিতে পারে, যেহেতু পাকিস্তানের শত্রু ভারত।
আরও একটি কারণ পাকিস্তানে  মুসলিমদের সংখ্যা ছিলাে বেশি, আর হিন্দুদের প্রধান শত্রু হলাে মুসলিম, যদি এই পাকিস্তান বাংলাদেশকে দখল করে নেয়, তাহলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তখন তারা আমাদের প্রতি আক্রমন করে আমাদের সকল কিছু দখল করে নিতে পারে, এই সব কারনে ভারত বাংলাদেশকে যুদ্ধের সময় সব কিছু দিয়ে সাহায্য করেছিলাে যাতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে।
আরও একটি সঠিক তথ্য প্রদান করি সে সময় বাংলাদেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ জ্ঞানীরা কবি সাহিত্যিকরা অধিকাংশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান জাতি ছিলাে, যেমন সেই সময়ের কবি সাহিত্যিক রবীদ্রনাথঠাকুর শরৎচদ্র-চট্রাপোধায় মাইকেল মধুসুদূনদত্ত এভাবে অগনিত কবি সাহিত্যিক জ্ঞানী গুনী সেই সময়ে এই বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান জাতি ছিলাে।
এইতাে বিট্রিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কােম্পানীদের পরাজয়ের পর থেকে বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগলাে, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৭০ থেকে ৭৫% ছিলাে এখন আমাদের দেশে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৯০%  থেকে ৯৫% এর মতাে।
আর এইতাে আমাদের বাংলাদেশ কিছু কাল আগে স্বাধীন হলাে এবং  একটি একক স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে গঠিত হলাে। তাহলে এসব তথ্য হিসাবে পাওয়া যায় আমাদের চৌদ্দ পুরষেরা অনেকেই হিন্দু বৌদ্ধ  জাতি ছিলাে, তারা তখন কিভাবে ইসলাম বুঝবে? তারাতাে তখন ইসলামের ঘাের শত্রু ঘাের দুশমন ছিলাে।
 আরও একটি তথ্য প্রদান করি হয়তাে সবাই এই তথ্যটি অকপট মেনে নিবে, এইতাে ১৯৯০ সালের আগে আমাদের বাংলাদেশে শতকরা ৮০% লােক অশিক্ষিত ছিলাে, আর এই অশিক্ষিত অধিকাংশরাই ছিলাে মুসলিম জাতি , আর যারা ১৯৯০ সালের আগে শিক্ষিত ছিলাে, পন্ডিত ছিলাে, জ্ঞানী গুনী ছিলাে, তারা অধিকাংশরাই ছিলাে হিন্দু বৌদ্ধ জাতি, যার সাক্ষ্য ইতিহাস দেয়, আপনারা ইতিহাস দেখলে আপনাদের ভুল ভেংগে যাবে, আপনারা এ তথ্যটি বিশ্বাস করবেন, তবে মুসলিমরাও ছিলাে,  তবে তারা সংখ্যায়  কম ছিলাে, তবে তারা তখন ধর্ম নিয়ে বেশি ভাবতাে না, তারা তখন ভাষা নিয়ে বেশি ভাবতাে, কবিতা সাহিত্য নিয়ে বেশি ভাবতাে, তাইতাে সব কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞ লেখকদের লেখার মাঝে শুধু ভাষার লেখা লেখি বেশি পাওয়া যায়, দেশ নিয়ে বেশি লেখা লেখি পাওয়া যায়, আর এই দেশ নিয়ে তারা কবি সাহিত্য বেশি মেতে উঠেছিলাে, কিন্তু তারা ইসলাম নিয়ে বেশি ভাবতাে না, তারা ইসলামের কথা যা অপরের কাছে শুনতাে তাই তারা মেনে নিতাে।
আমাদের বাংলাদেশের আলেমরা ইসলাম নিয়ে গবেষণা  করা শুরু করলাে এইতাে ১৯৯০ সালের পর থেকে, আস্তে আস্তে ইসলাম নিয়ে গবেষনা পি এস ডি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলাে, এইতাে মাত্র কয়েক বছর আগের কথা, আর আপনারা বলতেছেন আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ পুরষেরা কি ভুল করে গেছে?
 আরে ভাই আপনাদের চৌদ্দ পুরষেরা অনেকেই মুসলিম ছিলােনা, তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছার পরেও তারা ইসলাম গ্রহন করেনি, কারণ সে সময়ে হিন্দু বৌদ্ধদের প্রভাব বেশি ছিলাে, সেই হিন্দু বৌদ্ধরাই  ভারত বর্ষের জনগনদেরকে ইসলাম গ্রহনের নিষেধ করেছিলো, তাই তারা সেই সময়ে ইসলাম গ্রহন করতে পারে নাই, আর এর মধ্যেও যারা সেই সময়ে গােপনে ইসলাম গ্রহন করেছিলাে, তারা ইসলাম নিয়ে বেশি ভাবতে পারেনি, তারা ইসলাম নিয়ে  পান্ডিত্য অর্জন করতে পারেনি, তারা আলেম ওলামা মুফতী মুহাদ্দেস বড় মানের  ছিলেননা, তাহলে তারা কি ভাবে ইসলামের সঠিকটি বলতে পারবে? আর বর্তমান সময়ের মতো সে সময়ে সৌদিআরবে  এত বেশি আলেম ওলামা সাধারণ লোক যাতায়াত করতে পারতো না, তাই তারা অনেক সঠিক মাসআলা থেকে বঞ্চিত ছিলো, আর বর্তমান সময়ের মতো আগে কোরআন হাদীসের আরবীতে অনুবাদকৃত ব্যাখা বই,  বাংলাতে অনুবাদ  হয় নাই,  তাই তারা কোরআন হাসীসের অনেক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত ছিলো, তারা যা শুনেছিলাে তাই করেছিলাে আর সে সময়টি বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সময়, তাই তারা ইসলাম নিয়ে বেশি গবেষনা করতে পারেনি, তারা ইসলামের যা বুঝেছিলো তাই নিয়ে তারা ইসলাম প্রচারে ব্যস্ত ছিলাে।
তাই হয়তাে তারা ইসলামের সকল বিষয় গুলি বুঝতে পারেনি, তার পরেও তারা যা বুঝেছিলাে সেই সময়ের জন্য সেটাই উত্তম শ্রেষ্ঠ ছিলাে।
 তারপরেও তারা কিন্তু তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলাে, একটু ভেবে দেখুন, কারণ তাদের দাওয়াতের মুল লক্ষ উদ্দ্যেশ্য  ছিলাে হিন্দুদের প্রতি, আর হিন্দুদের  কাজ ছিলাে, তাদের ইবাদত ছিলাে, বিভিন প্রকার দেব দেবী গাছ পাথর মানুষ মূত্তি চন্দ সূর্য আগুন তারকার ইবাদত করা, আর তখনকার মুসলিমদের দাওয়াতের মুল কাজ ছিলাে, এই সবের  ইবাদত ভুলে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার চেষ্টা করা।
আর যেহেতু তখনকার অধিকাংশ লােকেরা  ছিলাে হিন্দু জাতি, তাইতাে ভারতবর্ষকে হিন্দুস্থান  বলা হতাে, আর সেই হিন্দুদেরকে  আল্লাহর পথে আনার জন্য আগে সকল প্রকার দেব দেবী গাছ পাথর মানুষ মুত্তি চন্দ্র  সূর্য আগুন তারকার ইবাদত বাদ দিয়ে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার আহব্বান বেশি প্রয়ােজন ছিলাে, আর তারা সেই কাজটাই করেছেন, আর এটাই হলাে তাওহীদের অর্ধেক, আর অর্ধেক হলাে আল্লাহর সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা, আর সে সময় আমাদেশ দেশে গনতন্ত্র  প্রতিষ্ঠা ছিলােনা, মানব রচিত সংবিধান তথা জনগনের আইন সংবিধান প্রতিষ্ঠা ছিলােনা, তখন ছিলাে রাজকীয় শাষন ব্যবস্থা,  জমিদারী  শাষন ব্যবস্থা,  তবে আমি এদের পক্ষে নই।
তবে একথা নিশ্চিত রাজা ভালাে হলে, সৎ হলে, প্রকৃত মুসলিম হলে, তারা ন্যায় নীতি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, কিন্তু তারপরেও তারা আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেনা, তাই আমি তাদেরকে সমর্থন করিনা, আর যদি রাজা  খারাপ হয় তাহলে সে তার মন মতাে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, শয়তানী শাষণ করে, দেশে ব্যাপক হারে লুট পাট ধর্ষন করে, দেশের মানুষদেরকে জুলুম নির্যাতন করে, অন্যায় অবিচার করে।
 কিন্তু তখনো আমাদের দেশ বর্তমানের মতাে গনতন্ত্র  প্রতিষ্ঠা ছিলােনা, মানব রচিত সংবিধান তথা জনগনের সংবিধান প্রতিষ্ঠা ছিলােনা, জনগনেই সকল সার্বভৌম  সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী ছিলােনা, জনগনেই সকল ক্ষমতার মূল  ছিলােনা।
যদি তা থাকতাে তাহলে তাদেরও অন্তরে এ বিষয়টি বাধা প্রতিঘাত সৃষ্টি করতাে, তা ছিলােনা বলে তারা এ বিষয়টি নিয়ে ভাবেননি।
আর তার চেয়ে  বড় কথা হলাে বাংলাদেশ সে সময় টি আসেনি, কারণ? ১৯৪৭ সালের আগে এ বাংলাদেশ ছিলাে ইংরেজদের দখলে, তারা তাদের মতাে করে দেশ চালিয়েছে, তারা ছিলাে রােমান ক্যাথলিক খৃষ্টান ইংরেজ শাষক, তারা মুসলিম শাষক ছিলােনা, সেই সময়ে যদি কেউ মুসলিম থাকতাে তারা চুপে চুপে তাদের ধর্ম পালন করতাে, আর এই ২শত বছরে ইংরেজদের শাষন আমলে অনেক মুসলিম আবার হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিল যেমনটি হইতেছে বর্তমান কিছু মােনাফেকী মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ  খৃষ্টান নাস্তিকতাবাদ ধর্ম গ্রহন করতেছে, ঠিক তেমনি সেই সময়ে কিছু মােনাফকী মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান নাস্তিকতাবাদ ধর্ম গ্রহন করেছিলাে, আর যারা মুসলিম ছিলাে  তারা গােপনে গােপনে ধর্ম পালন করেছিলাে,  এভাবেই চলে আসতে আসতে ১৯৪৭ সালে ইংরেজদের শাষনের অবসান ঘটলাে  ভাগ হয়ে গেলাে ভারতবর্ষ দুটি প্রধান রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান এ ছিলাে ১৯৪৭ সাল এর পরের ঘটনা, এভাবে কিছু কাল যাওয়ার পরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝে ভুল বুঝা বুঝি শুর হয়ে গেলাে শুর হয়ে গেলাে পাকিস্তান আর বাংলাদেশের দ্বন্ধ।
তখনাে  এ দেশে এমন গনতন্ত্র  প্রতিষ্ঠা ছিলােনা, মানব রচিত সংবিধান তথা জনগনের সংবিধান প্রতিষ্ঠিত ছিলােনা, জনগনেই সকল সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী ছিলােনা, জনগনেই সকল ক্ষমতার মূল তা ছিলােনা।
তখন সেই সময় বাংলার হিন্দু মুসলিম এক হয়ে আলেম ওলামা এক হয়ে বাংলা স্বাধীন করার জন্য লেগে পরেছিলাে, তারা দীর্ঘ  একটানা ২৩ থেকে ২৪ বছর সংগ্রাম চালিয়ে ১৯৭১ সালে তারা দেশ স্বাধীন করিলাে, এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আব্রাহাম লিংকনের তৈরি করা  গনতন্ত্র  নিয়ে আসলাে।
 কিন্তু শেখ  মুজিবুর রহমান  সেই গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলোনা, কিছু দিনের মধ্যে  বিভিন্ন কারনে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে, তাকে সহ তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করলাে।
 তার পরে জেনারেল জিয়াউর রহমান সে সামরিক ভাবে দেশ চালাতে লাগলাে, তাকেও হত্যা করা হলাে, তার পরে আসলাে পল্লী বন্ধু  এরশাদ সেও সামরিক ভাবে দেশ চালাতে লাগলাে, প্রেসিডেন্ট এরশাদ দীর্ঘ ৯ বছর দেশ পরিচালনা করার পরে তার নেতৃত্বেরও অবসান ঘটালাে, এই এরশাদের অনেক গুলি শাষন ব্যাবস্থা মােটামােটি ভাবে কােরআন হাদীস মােতাবেক ছিলাে, তবুও তাকে আমরা সমর্থন করিনা, কারন বালতি ভরা দুধের পাত্রের মাঝে যদি সামান্য মানুষের মল মূত্র  ফেলে দেওয়া হয় তাহলে পুরা বালতির দুধ গুলি নষ্ট হয়ে যাবে, তা খাওয়া যাবেনা, তা হালাল থেকে হারাম হয়ে যাবে, তেমনি তারা যথই ভালাে ভাবে দেশ পরিচালনা করুকনা কেন তারা আল্লাহর সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা না করার কারনে তারা কুফুরী করেছে, তাদের সকল ভালাে কাজ বৃথা হয়ে গিয়েছে, তাই আমরা তাদের কাউকে সমর্থন করিনা।
 তবে এই  ১৫ থেকে ২০ বছরের মাঝে বাংলাদেশে কােন ভােট হয়নি, তারপরে এরশাদ সরকারের পতনের পরে ১৯৯০ সালে ভােটের মাধ্যম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলাে, নেমে এলাে  পুরাপুরি ভাবে গণতন্ত্রের সরকার, মানব রচিত সরকার, মানব রচিত সংবিধান, জনগনের সংবিধান, জনগনেই সকল সার্বভৌম  সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারীর মালিক,  জনগনেই সকল ক্ষমতার মূল, শুর হয়ে গেলাে এই বাংলাদেশ একটি নব আবিস্কৃতি একটি ভােট পদ্ধতি, কুফুরী কাজের ধারাবাহিকতা, গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান আছ।  
তাহলে স্বাধীনতা আগের আলেমেরা কােথায় এ সুযােগ পেয়েছিলাে, তারা তাে তখন গােলামের মতাে ছিলাে,  তার পরেও  শাহ আব্দুল আজিজ (রহঃ) সব বাধা বিঘ্ন  অতিক্রম করে জীবনের ভয় ভীতি ভুল গিয়ে গর্জে ওঠে ইংরেজ বিরােধী আন্দোলনের ডাক দিলাে, শত কােটি রক্ত দানের পরে তারা ইংরেজদেরক উৎখাত করলাে।
তাহলে মুল কথা  হলাে এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে গণতন্ত্র  নামক একটি জীবন ব্যবস্থা  কুফুরী সংবিধান, কুফুরী তন্ত্র  শিরকিয়াতি তন্ত্র  প্রতিষ্ঠা লাভ করলাে।
 তা এরশাদের সামরিক শাষন ব্যবস্থা পতন হওয়ার সাথে সাথে গনতন্ত্র  পূর্ন প্রতিষ্ঠা লাভ করলাে, তাহলে ঐ সব আলেমদের দােষ কোথায়? কারণ সেই সময় গনতন্ত্র  নামক কুফুরী মতবাদ অব্যহত ছিলাে না, তারা গণতন্ত্র  কি শব্দ তাও জানতাে না, তাহলে তাদের দােষ কােথায়? আর স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যখন ব্যাপক হারে গণতন্ত্র  নামক একটি জীবন ব্যবস্থা  কুফুরী সংবিধান, কুফুরী তন্ত্র  শিরকিয়াতি তন্ত্র  প্রতিষ্ঠা লাভ করলাে, তখন থেকে একদল মুসলিম আল্লাহর সৈনিক গণতন্ত্রের বিরােধিতা করতে লাগলাে, এখন আস্তে আস্তে মুসলিমদের শিক্ষার হার বেড়ে যাচ্ছে,  তাইতাে এখন অনেক আলেমরাই গণতন্ত্র  কুফুরী তন্ত্র  বলে প্রচার করতেছে, এবং গনতন্ত্রের বিরদ্ধে লড়তেছে, এটা নুতুন কােন বিষয় নয়, এটা নুতুন কােন কথা নয়, এটা কলেমার কথা এটা কলেমার বিষয়, যদি পূর্ববর্তী আলেমরা এই যুগে প্রকাশ পেত তাহলে তারা সবাই এই গনতন্ত্রের বিরদ্ধে  লড়তাে তারাও এই কথাই বলতাে গণতন্ত্র  একটি কুফুরী মতবাদ, কুফুরী তন্ত্র, এ গণতন্ত্র  মেনে নিলে শিরক হবে, কুফুরী হবে।
 তাই আশা রাখি আর কেউ এমন প্রশ্ন করবেন না,  বাপ দাদার দােহাই দিবেন না, চৌদ্দ গােষ্ঠিদের দােহাই দিবেন না, আর যারা এরপরেও এমন কথা বলবে, এটা তাদের নিন্তান্তই বােকামী জ্ঞানের স্বল্পতা ইতিহাস না জানার কারণে তারা বলতেছে।
 আপনারা  একটু  ভেবে দেখুন আপনাদের বাংলাদেশের লোকেরা  কতদিনের মুসলিম, তাহলে আমরা কিভাবে চৌদ্দ পুরষের দােহাই দিবেন, তাই আমি আপনাদের সবাইকে আহব্বান  করি ইসলামের প্রকৃত পথে এসাে, কলেমার প্রকৃত পথে এসো, সত্যিকার মুসলিমের পথে এসো।
তাহলে এ দীর্ঘ আলােচনা থেকে বুঝা গেলো, বাপ দাদা ও আলেমরা কােন পর্যায়ের ছিলাে, তারা কতটা হকের পথে ছিলাে, আর আলেমরা কতটা হকের পথে ছিলাে।
তাই আমি আশা করি আপনারা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন, আপনাদের মনের ভ্রান্তি ধারণা দূরীভূত হয়েছে, বুঝতে পেরেছেন হক্কানী আলেম কারা।
 আচ্ছা যাই হউক আবার মূল আলােচনায় আসি, নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলাে কলেমা, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা প্রদান করা , কলেমার বাস্তবায়ন, এবং তার সাথে সকল প্রকার তাগুতকে বর্জন করা, তারপরে হালাল রুজি ভক্ষণ করা, ওজু গােসল পবিত্রতা হওয়া।
তবে প্রথমটি হলাে কলেমা, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়া, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা না দিলে, আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন না, আপনি  মুসলিম হলেন না, আপনার নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত  কােন কাজে আসবেনা, আপনার  এ সকল আমল বৃথা হয়ে যাবে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি ওয়াদা না দেওয়ার কারণে।
তাহল বুঝা গেলাে ইসলামে প্রবেশ করিতে হলে, মুসলিম হতে হলে, নামাজ রােজা হজ্জ কবুল হতে হলে, সর্ব প্রথম যে কাজটি হলাে তা হলাে কলেমা স্বীকার করে নেওয়া, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা প্রদান করা, তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা, এই হলাে প্রধান শর্ত, কেউ যদি এই শর্ত না দিয়ে, কেউ যদি ওজুু করে, পবিত্রতা অর্জন করে, গােসল করে, হালাল রুজি উপার্জন করে, তা ভক্ষণ করে, তাহলে কি তার নামায রােজা কবুল হবে? আমি বলবাে না  কিছুতেই হবেনা, কারণ সে এখনাে ইসলামে প্রবেশ করেনি সে মুসলিম হয়নি, আর নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান প্রথম শর্ত হলাে ইসলামে প্রবেশ করা, মুসলিম হওয়া।
 যেমন একটি উদাহরণ দেওয়া যায় ঐ ব্যক্তির মতাে, যে ব্যক্তি একেবারে গাছে চড়তে চায়, যে একবারেই গাছের উপরে যেতে চায়, তা কি কারও পক্ষে সম্ভব? একবারে গাছে চড়া? একবারে এক-লাফ দিয়ে  গাছের উপরে যাওয়া?
তার ধারণা মতে সে যদি একেবারে গাছের নিচে গিয়ে এক লাফ দিয়ে গাছের উপর চড়তে চায়, তাহলে দেখা যাবে সে পড়ে গিয়ে তার শরীরের অনেক অঙ্গের  ক্ষতি হয়ে গেছে।
 আবার যদি সে ওখান থেকে এক লাফ দিয়ে গাছের উপরের ডগায় যেতে চায়, ভালাে ফল খেতে চায়, সে কি তা  কখনো ভালাে ফল খেতে পারবে? না পারবেন,   সে পড়ে গিয়ে তার শরীরের অনেক অঙ্গের  ক্ষতি হবে, এমনকি  তার মৃত্যু পর্যন্ত  হতে পারে, শুধু তার এ ভুল সিন্ধান্তের কারণে, অথচ সে অনেক পরিশ্রম করেছে, অনেক বড় ঝুকি নিয়েছে, তবুও সে গাছে চড়তে পারে নাই, সে ভালাে ফল খেতে পারে নাই।
 অথচ সে যদি সঠিক ভাবে, সহজ ভাবে গাছে চড়তাে, তাহলে তার এত পরিশ্রমও হতােনা, তার ক্ষতিও হতােনা, তার ধংস হতােনা, তার মত্যুও হতােনা, সে নিমিষেই ভালাে ফল খেতেও পারতাে।
 তাহলে বুঝা গেলাে গাছে উঠার জন্য সর্ব প্রথম গাছের নিচে যেতে হবে, তারপর রশি বা মই দিয়ে, দুহাত, দু-পায়ের সাহায্যে গাছে উঠতে হবে, তার পরে ডালে ডালে উপরে গিয়ে ভালাে ফল ছিড়ে খেতে হবে, আর কােন উপায়ে গাছে চড়া সম্ভব নয়, ভালাে ফল খাওয়াও সম্ভব নয়।
তেমনি ইসলামে প্রবেশ করিতে হলে, আগে তাকে কলেমা পড়িতে হবে, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিতে হবে, তবেই সে মুসলিম হবে, তার নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত কবুল হবে, তার আগে নয়।
তাহলে বুঝা গেলাে নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত কবুল হওয়ার প্রধান প্রথম শর্ত হলাে, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা  প্রদান করা, সেই কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও, তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, কেউ যদি তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে না যায়, তাহলে তার কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয় নাই, সে সত্যিকারের খাটি মুসলিম হয় নাই।
তারপরেও সে যদি নিজেকে  সত্যিকারেরর খাটি মুসলিম হিসাবে দাবী করে তাহলে তার মুসলিমের দাবী তার কাছে সীমাবদ্ধ, তার মুসলিমর দাবী  আল্লাহর কাছেও নয়,  রাসুল (সঃ) এর কাছেও নয়,  আল্লাহ ও  তার রাসুল তাকে কিছুতেই মুসলিম ভাবেনা, এখন যদি তারা তাকে মুসলিম না ভাবে, তাহলে তার কি অবস্থা  হবে সেটা আপনারা বুঝতে পেরেছেন, তার অবস্থান  কােথায় হবে সেটাও আপনারা  বুঝতে পেরেছেন?
 তাই যে নিজেকে সত্যিকারের খাটি মুসলিম দাবী করবে, তার মুসলিম হওয়ার দাবী যেন আল্লাহ ও তার রাসুল (সঃ) সাক্ষ্য  দেয়,  তবেই সে মুসলিম, তবেই তার মুসলিম হওয়ার দাবী  গ্রহণ যােগ্য হবে, তার আগে নয়।
 তাই ভাই আল্লাহ ও রাসুলের খুশির জন্য, ও তাদের মুখে আমাদের মুসলিম হওয়ার সাক্ষ্য স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য, তাদের দেখানো পথে চলতে হবে, আমাদের শর্ত দেওয়া কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে হবে, এটাই একজন মুসলিমদের প্রথম প্রধান কাজ, এটাই একজন মুসলিমদের চূরান্ত ফয়সালা, তা না করলে তার কােন ইবাদতেই কবুল হবেনা আল্লাহর কাছে, তার কােন ইবাদতেই কাজে আসবে না তার পরকালের জীবনে।
তবে এটা চুড়ান্ত ও সঠিক কথা নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত,  কালেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের মূল  দিক, যদি সে রাষ্ট্রের মাঝে  বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে সে যেন নিজের মাঝে বাস্তবায়ন করে, আর যে নিজের মাঝেও বাস্তবায়ন   করতে পারবেনা তার নিজের খেয়াল খুশী মতো চলবে, তাকে জেনে রাখতে হবে তার কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি হয় নাই, সে সত্যিকার অর্থে মুসলিম হয় নাই, সে যদি সত্যিকার অর্থে মুসলিম হতো, তাহলে সে অন্তত কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি নিজের মাঝে বাস্তবায়ন করতো।
আপনারা কি কেউ এমন আছেন?  কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন নিজের মাঝে নিজের পরিবারের মাঝে করতে পেরেছেন, আপনারা  কি কেউ এমন আছেন  আজ পর্যন্ত কেউ রাষ্ট্রের মাঝে নামাজ রােজা হজ্জ্ব যাকাত বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?  অথচ এ বাস্তবায়ন করার জন্য আপনারা আল্লাহর কাছে ওয়াদা দিয়ে এসেছেন, আপনারা  বলে এসেছেন আমরা মুসলিম হওয়ার পরে, আপনার জমিনে আপনার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবাে, আপনার  জমিনে আপনার সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবাে,  আমরা আপনার জমিনে নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত সমাজের মাঝে পরিবারের মাঝে রাষ্ট্রের মাঝে বাস্তবায়ন করবাে, আমরা সকল প্রকার অন্যায় অশ্লীল সুদ ঘুষ জেনা ব্যাভিচার রাহাজানি চাঁদাবাজি ছিনতাই ধর্ষণ দূর্নীতি হত্যা খুন গুম চুরি ডাকাতি বেহাপানা অর্ধ-নগ্রতা এ সকল কিছুু আমরা সমাজ থেকে দুরীভূত করবাে, উৎখাত করবাে, বিতারিত করবাে, এসবের সাক্ষ্য স্বীকৃতি দিয়ে আপনারা মুসলিম হয়েছেন, সে কথা কি আজ আপনারা ভুলে গেছেন? আপনাদের সব প্রতিশ্রুতি কি ভুলে গেছেন? এমন কি আপনাদের রাষ্ট্রের মাঝে  তাে দূরের কথা আপনাদের পরিবারের মাঝে এসব বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই, আপনাদের নিজেদের পরিবারের লােকেরাই নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত আদায় করেনা। পর্দা পালন করেন, যেনা ব্যাভিচার করে, চুরি ডাকাতি করে, খুন হত্যা দূর্নীতি রাহাজানি চাঁদাবাজি ছিনতাই করে, সুদ ঘুষ আদান প্রদান করে, এখনাে আপনাদের পরিবারেই ঠিক নেই, আপনাদের পরিবারের মাঝেই আপনারা কলেমার  সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই, তাহলে আপনারা  কি ভাবে দাবি করেন আপনারা সত্যিকারের কাটি মুসলিম? আপনাদেরকে আমি প্রশ্ন করলাম আপনারা ভেবে চিন্তে উত্তর দিবেন, আপনারা কি সত্যিকারের মুসলিম আছেন? না সত্যিকার মুসলিম হতে খারিজ হয়ে গেছেন?
আপনারা এখন  কুরআনের আয়াত দিয়ে বলতে পারেন, আল্লাহ নিজেই বলেছেন দ্বীনের মাঝে কােন জাের জবরদস্তি নেই।
আপনারা আবার বলতে পারেন আল্লাহ নিজেই বলেছেন কাফেরদের দ্বীন কাফের কাছে মুসলিমদের দ্বীন মুসলিমের কাছে।
আপনাদের এই প্রশ্ন গুলির আলোচনা আমি উপরে বিস্তারিত ভাবে আলােচনা করেছি, দেখুন উপরের আলােচনা গুলি, আর যদি আপনারা এ কথাই বলেন তাহলে সঠিক টি জেনে নিন, রাসূল (সঃ) এর প্রতি মক্কা জীবনে যে সব সুরা আয়াত নাযিল হয়েছে, সে সব আয়াত ও  সুরার কিছু কিছু সুরা ও আয়াত রহিত হয়ে গেছে, হিজরতের পরের  আয়াত ও সুরা দিয়ে, মানে মাদানী সুরা ও আয়াত  দিয়ে,  আর সেই মাদানী সুরার কার্যক্রম বিধি বিধান বিচার ফয়সালা এখন পর্যন্ত  অব্যাহত আছে।
 এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন? কােন আয়াত বা সুরা যদি আল্লাহ তাআলা রহিত করেন, পরে একটি  নুতুন সুরা বা আয়াত আল্লাহতাআলা নাযিল করেন, তাহলে কােন আয়াতের কার্যক্রম বিধি বিধান বিচার ফয়সালা আমাদের মাঝে অব্যাহত থাকবে?  আগের আয়াতের, না পরের আয়াতের? তথা মাক্কী আয়াতের? নাকি মাদানী আয়াতের?
যেমন সূরা কাফিরুন নাযিল হয়েছিলাে নবুয়তের প্রথম দিকে, সূরা বাকারাহ ২৫৬ নং আয়াত নাযিল হয়েছিলো মক্কা থেকে হিজরত হওয়ার কিছু দিন পরে, রাসূলের প্রায় শেষ জীবনের অষ্টম হিজরীতে সুরা তাওবাহ নাযিল হলাে,  এবং একেবার রাসুল (সঃ) এর জীবনের শেষ  সুরা  মায়িদার ৪ নং আয়াত নাযিল হলাে।
 সে আয়াতে বলা হয়েছিলাে আজ থেকে আমি তােমাদের দ্বীনকে পরিপুর্ণ করে দিলাম, এবং ইসলামকে আমার মনােনীত ধর্ম হিসাবে উল্লেখ করে দিলাম।
 সূরা তওবায় আরাে উল্লেখ আছে ২৯ নং আয়াতে তােমরা তথক্ষণ পর্যন্ত  যুদ্ধ চালিয়ে যাও, ( যথক্ষন না তারা আপনাদের ইসলামকে মানে, ইসলামের বিধি বিধান মানে, ইসলামের বিধি বিধান রাষ্ট্রের মাঝে বাস্তবায়ন করতে বাধা প্রধান  না করে, এবং  ইসলামকে নিয়ে ঘৃণা পােষন না  করে, ঠাট্রা বিদ্রুপ না করে) তথক্ষণ পর্যন্ত  তাদের প্রতি যুদ্ধ চালিয়ে যাও, (যতক্ষণ না তারা আপনাদের দ্বীনে প্রবেশ করে, অথবা আপনাদেরকে জিজিয়া কর প্রদান করে রাষ্ট্রের মাঝে জীবিত বেছে থাকার জন্যে) সেই পর্যন্ত  তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও, এবং আল্লাহর দ্বীন যতক্ষণ পর্যন্ত  পরিপূর্ন ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে যায়, এবং সকল প্রকার ফিৎনা ফাসাদ গােটা পৃথিবী থেকে দূরীভূত না হয়ে না যায়, তথক্ষণ পর্যন্ত  কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও।

তাহলে কি এই আয়াত গুলি সেই নবুয়্যাতের শুরুর আয়াত দিয়ে, তথা মাক্কী সূরা কাফিরুন দিয়ে, নবুয়্যাতের শেষের আয়াত তথা মাদানী জীবনের শেষের সুরা ও আয়াত কি রহিত হয়ে গেছে? আপনারা কি এখন তাই বলবেন? তার জন্যে কি আপনারা এমন উল্টা পাল্টা দলিল দিচ্ছেন?
তাহলে এখন আমার প্রশ্ন কলেমার আয়াত গুলি, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের আয়াত গুলি, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার আয়াত গুলি, আল্লাহর সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব উলুহিয়্যাত্ব রুববিয়্যাত্ব প্রতিষ্ঠা করার আয়াত গুলি, কােন সূরার কত নাম্বার আয়াত দিয়ে আল্লাহতাআলা রহিত করে দিয়েছেন?
 আমাকে একটু বলে দিবেন? তাহলে আর আমি এমন লেখা লেখবাে না, তাই ভাই দয়া করে আমাকে জানিয়ে দিন, কলেমার সাক্ষ্য স্বীকতি বাস্তবায়নের আয়াত গুলি, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার আয়াত গুলি, আল্লাহর সার্বভৌম সার্বভৌমত্ব উলুহিয়্যাত্ব রুববিয়্যাত্ব প্রতিষ্ঠা করার আয়াত গুলি, কােন সুরার কত নাম্বার আয়াত দিয়ে আল্লাহতাআলা রহিত করে দিয়েছেন? তাহলে আর আপনাদের সাথে আমাদের আর  কােন দন্ড লাগবে না, আমাদেরকে আর রাত জেগে কষ্ট করে লেখতে হবেনা, এত কষ্ট করে বক্তিতা দিতে হবেনা, তাই ভাইয়েরা তাড়াতাড়ি আমাদেরকে জানিয়ে দিন।

আসলে আপনারা  যা বলেন তার কােন দিনও সঠিক প্রমান দিতে পারবেন না, আপনারা সকল মানুষ গুলােকে  বিভ্রান্তির মাঝে রেখেছেন, আপনারা সকল মানুষগুলােকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন, এই আপনাদের মূল উদ্দেশ্য, যাতে করে আপনাদের মতাে ওরাও পথভ্রষ্ট হয়, তবে জেনে রাখাে সাধারণ মানুষ আজ হউক কাল হউক কলেমার অর্থ ব্যাখ্যা বুঝবে, সেদিন তারা তাদের ওয়াদা বাস্তবায়নের জন্য,  তাদের কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য, জীবন দিয়ে হলেও তা বাস্তবায়ন  করবেই করবে, সেদিন আর ওরা আপনাদেরকে অনুসরণ করবে না, সেদিন তাদের জ্ঞানের চােখ খুলে যাবে, অন্তরের চােখ খুলে যাবে, তারা কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে।
আপনারা আলেমরা আপনাদের স্বার্থের নিশায় আর বেশি দিন ওদেরকে ধােকা দিতে পারবে না, আপনাদের কারণে ওরা  আজ সত্য থেকে বঞ্চিত, আপনাদের কারণে ওরা আজ পথভ্রষ্ট।

তবে তাদেরও কিছু দােষ আছে, তারা কেন আপনাদের অন্ধ অনুসরণ করলাে? কেন তারা আপনাদেরকে যাচাই করে জেনে নিলােনা? কেন তারা নিজে জ্ঞান অর্জন করলাে না? অথচ জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমদের জন্য ফরজ, কেন তারা তা আদায় করলােনা? কেন তারা  আপনাদেরকে (আলেমদেরকে) ইলাহ রবের আসনে বসে নিল? এগুলি তাদের ভুল।
ওহে মুসলিম ভাই ও বােনেরা কেন আপনারা এমন  ভুল করবেন? আপনাদের জন্য তাে জ্ঞান অর্জন করা অবশ্যই অবশ্যই ফরজ? কেন আপনারা  সে জ্ঞান অর্জন  করবেন না কেন তা থেকে বিরত থাকবেন? কেন  নিজে জ্ঞান অর্জন না করে ঐসব নামধারি আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করবেন? কেন  ওদের কথায় কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের কথা ভুলে যাবেন? জেনে রাখ কিয়ামতের দিন কেউ কারাে পাপের বােঝা বহন করবে না।
 কিয়ামতের দিন শয়তানও আপনাদেরকে দােষ দিবে, শয়তান বলবে আল্লাহ আপনাদেরকে বুঝার মতাে বিবেক জ্ঞান দিয়েছে কেন বুঝো নাই? আপনাদেরকে হক্কানী আলেমরা ডাক দিয়েছে কেন তাদের ডাকে সাড়া দাও নাই? কেন তাদের দলে যাও নাই? আর আমি কিছু আমার বানানাে আলেমের শরীরে ভর দিয়ে আপনাদেরকে ডাক দিয়েছি, আর তাতে আমার ডাকে সারা দিয়েছাে, আমার দলে পলকের মাঝেই  প্রবেশ করেছাে, কােন হিসাব নিকাশ না করেই, কেন আপনারা  খুজে দেখেন নাই রাসূলের হাদীস?
 রাসূল (সাঃ) বলেছেন আমার উম্মতের মাঝে ৭৩টি দল হবে তাদের মাঝে একটি হব আমার দল, আর বাকি গুলাে হবে শয়তানের দল, ভ্রান্ত  দল বিদআতী দল, শিরক কুফুরকারী দল, আপনারা এসব হাদিস বুঝেও কেন আমার দলকে  হক মনে করে নিয়েছাে?  কেন আমার দলকে অনুসরণ করেছাে? এতে  আমার কি দােষ? আমি আপনাদেরকে ডাক দিয়েছি ভ্রান্ত  দলে, সঠিক দলের  রুপ ধরে, আর এতেই প্রবেশ করেছাে, আপনারা কি জানেন না আমি আদম সন্তানের প্রধান শত্রু, আপনাদেরকে পথ ভ্রষ্ট করা আমার কাজ, এ কি  আল্লাহতাআলা ঘোষনা করে দেয় নাই, এতে আমি দােষি নই, আপনারা যদি আমার দলে না আসতেন, আর যদি আল্লাহকে ভয় করতেন? আল্লাহ সেই সঠিক দলে অটল অবিচল থাকতেন? তাহলে আমি আপনাদেরকে কিছুতেই নিয়ে আসতে পারতাম না? পথভ্রষ্ট করতে পারতাম না, এভাবে শয়তান তার দােষ আপনাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে চলে যাবে।

যেমন আল্লাহতাআলা কোরআনুল কারীমে সুরা ইবরাহীমের  ২২ নং আয়াতে এভাবে বর্নণা  করেছেন।
وَقَالَ ٱلشَّيْطَٰنُ لَمَّا قُضِىَ ٱلْأَمْرُ إِنَّ ٱللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ ٱلْحَقِّ وَوَعَدتُّكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْۖ وَمَا كَانَ لِىَ عَلَيْكُم مِّن سُلْطَٰنٍ إِلَّآ أَن دَعَوْتُكُمْ فَٱسْتَجَبْتُمْ لِىۖ فَلَا تَلُومُونِى وَلُومُوٓا۟ أَنفُسَكُمۖ مَّآ أَنَا۠ بِمُصْرِخِكُمْ وَمَآ أَنتُم بِمُصْرِخِىَّۖ إِنِّى كَفَرْتُ بِمَآ أَشْرَكْتُمُونِ مِن قَبْلُۗ إِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যখন সব কিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে তখন শাইতান বলবেঃ আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিনি; আমারতো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিলনা, আমি শুধু তোমাদেরকে আহবান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে; সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করনা, তোমরা তোমাদের প্রতিই দোষারোপ কর; আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও; তোমরা যে পূর্বে আমাকে (আল্লাহর) শরীক করেছিলে তার সাথে আমার কোনই সম্পর্ক নেই; যালিমদের জন্যতো বেদনাদায়ক শাস্তি আছেই।

তাই ভাই আপনাদের ভুলের বােঝা আপনাদের পাপের বােঝা আপনাদেরকে বহন করতে হবে, আপনাদের এই ভুলের বােঝা কেউ বহন করবে না, তাই ভাই ঐসব ভ্রান্ত  নামধারি তাগুত সরকারের পা-চাটা আলেমদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে, আপনারা আপনাদের  কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান।
যেন রাখো এই কালিমায় হচ্ছে আপনাদের মূল শিখর, এই কালিমাই হচ্ছে আপনাদের মূল বৃক্ষ, আর এর মূল ডাল  হলাে নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত, আপনারা কি আগে মূল ডাল  প্রতিষ্ঠা করবেন? না কি কলেমা নামক মূল বৃক্ষটি প্রতিষ্ঠা করবেন? জেনে রাখাে ডাল পালা শিরা প্রণালী আগে কেউ রোপন করলে প্রতিষ্ঠা করলে তা ধংস হয়ে যায়, আর যদি মূল বৃক্ষ রােপন করা হয়? আর মূল বৃক্ষ রােপণ হলে আস্তে আস্তে বৃক্ষের সকল ডাল পালা শিরা প্রণালী চতুর দিকে ছড়িয়ে পরে, ব্যাপক বিস্তার লাভ করে, ব্যাপক প্রচার প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়, যা আর কখন ধংস হয়না।
 তাই ভাই আসুন আগে আমরা কালিমা নামক মূল বৃক্ষটি প্রতিষ্ঠা করি, তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করি, তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করি, তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে আস্তে আস্তে সকল কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, যেমন নামাজ রােজা হজ্জ যাকাত পর্দা তাবলীগ সকল কিছু নিখুত ভাবে রাষ্ট্রে প্র্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী তাই আপনাদেরকে দিয়ে বেশি পরিশ্রম করে নিতে চায়না, বেশি ফিৎনা ফাসাদে নিম্মজিত করতে চায়না, বেশি কষ্ট চাপিয়ে দিতে চায়না,  সহজ ভাবে কাজ করাতে চায়, শুধু একটি মাত্র কাজ করাতে চায়, তা হলাে তার জমিনে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, কলেমা নামক বৃক্ষটি প্রতিষ্ঠা করা, তা প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে আপনাদের বাকি কাজ গুলাে প্রায় শেষ হয়ে যাবে, আপনাদেরকে আর বেশি কষ্ট করতে হবে না, বাকি কাজগুলাে রাষ্ট্র প্রধানরাই করে নিবে, তাইতাে আল্লাহতাআলা সকল মুসলিমদের জন্য যুদ্ধ ফরজ করে দিয়েছেন।
 কলেমা নামক মূল বৃক্ষটি বাস্তবায়ন করার জন্য, প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যাতে আপনারা  সবাই এই মূল বৃক্ষটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, যেন কেউ  তা প্রতিষ্ঠা করতে পিছুপা না হয়ে যায়।
আর আপনারা সবাই এই মূল বৃক্ষটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য, খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আমরা সবাই আল্লাহর কাছে, কলেমা পরার শর্তে,  মুসলিম হওয়ার শর্তে, তা বাস্তবায়ন করার জন্য সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দিয়ে এসেছি, এখন তা কিভাবে ভুলে যাই? আমার বিবেকে এই বিষয়টি আসেনা।
তাই ভাই উপরের উল্লেখিত বিষয় গুলাে থেকে, সকল বিষয়ের উপর আলােচনা করে, সকল কিছুর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বুঝা গেলো, কলেমা মুখস্ত করলে,  কলেমা মুখস্ত পড়লে, সে সত্যিকারের  খাটি মুসলিম হয়না,  সত্যিকারের খাটি মুসলিম হতে হলে কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করতে হবে, সমাজে রাষ্ট্রে পরিবারে না করতে পারলেও, অন্তত নিজের মাঝে বাস্তবায়ন করতে হবে, আর যদি  তা নিজের মাঝেও কলেমার সাক্ষ স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করতে না পারে, উল্টো তার বিরোধিতা করে, এবং তার  নফসের খেয়াল খুশী মতো চলাফেরা করে, তখন সে আর সত্যিকারের খাটি মুসলিম থাকেনা, কারণ  সত্যিকারের  খাটি মুসলিমদের জন্য কলেমা সাক্ষ্য স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করা, অবশ্যই অবশ্যই ফরজ, এর থেকে কারাে গাফেল থাকার অবকাশ নেই,  বিরত থাকার অবকাশ নেই, বাস্তবায়ন করতে না পারলেও বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত, জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত।
তাই আমরা সবাই ভেবে দেখি আমরা কােন কলেমা পড়েছি? আমরা কােন মুসলিম হয়েছি? আমরা কার আর্দশে জীবন যাপন করতেছি???
                                   (সমাপ্ত)
                               

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন